অসীম মোদক, মহেশপুর (ঝিনাইদহ) : ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আউটসোর্সিং নিয়োগে চরম অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদার মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত ৯ জন কর্মচারীর কাছে মোট প্রায় ১২ লাখ টাকা ঘুস দাবি করেছেন তিনি। ঘুষের টাকা না দেয়ায় নতুন লোক নিয়োগের হুমকি দেয়া হচ্ছে এবং চাহিদামতো টাকা না দেয়ায় শিমু খাতুন নামে এক টিকিট ক্লাককে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। এছাড়া ঘুস জটিলতায় গত ১৪ মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না এসব কর্মচারীরা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আউটসোর্সিং আওতায় ২ জন নিরাপত্তা প্রহরী, ১ জন কুক মশালচি, ১ জন আয়া, ১ জন সুইপর, ২ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও ২ জন টিকিট ক্লার্ক পদে বিগত ৫-৭ বছর ধরে সেবা দিয়ে আসছেন ৯ জন কর্মচারী। এ বছর হাসপাতালটিতে ঠিকাদারি দায়িত্ব পায় ‘আল ওফফা’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ঠিকাদার মনিরুল ইসলাম প্রতিটি টিকিট ক্লাক পদের জন্য ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং অন্যান্য পদগুলোর জন্য ১ লাখ ২০ হাজার টাকা করে ঘুস দাবি করেন। ভুক্তভোগী টিকিট ক্লাক শিমু খাতুন জানান, তিনি ঠিকাদার মনিরুলের ব্যাংক হিসাবে ৪০ হাজার টাকা জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু দাবিকৃত ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার চেয়ে কম হওয়ায় তাকে তালিকা থেকে বাদ দিয়ে কুষ্টিয়ার অন্য একজনকে নিয়োগ দেয়া হয়। পরবর্তীতে তার জমা দেওয়া ৪০ হাজার টাকা ফেরত দেন ঠিকাদার। দীর্ঘ ৮ বছর ধরে হাসপাতালে কাজ করা শিমু এখন চাকরি হারিয়ে দিশেহারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মচারী জানান, ঠিকাদার তাদের তিনজনকে ঢাকায় ডেকে নিয়ে প্রতিজনের কাছে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা করে চান। টাকা না দেয়ায় এখনও তাদের নিয়োগপত্র ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। ফলে গত ১৪ মাস ধরে বেতন না পেয়ে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা। গত রোববার স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতাল পরিদর্শনে আসলে কর্মচারীরা সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে সরাসরি অভিযোগ জানান। বিষয়টি শুনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী তাদের কোনো প্রকার টাকা দিতে নিষেধ করেন এবং জেলা সিভিল সার্জনের মাধ্যমে সমাধানের আশ্বাস দেন। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদার মনিরুল ইসলাম ঘুষ দাবির বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন এবং নিজেকে ঠিকাদার নন দাবি করে ফোনের সংযোগ কেটে দেন। এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ হেলেনা আক্তার নিপা এবং জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ কামরুজ্জামান জানান, কর্মচারীদের এক টাকাও না দেয়ার কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। পূর্বে যারা কর্মরত ছিলেন তারাই পদে বহাল থাকবেন এবং নিয়োগের নামে টাকা লেনদেন বন্ধে মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে।