রাজয় রাব্বি, অভয়নগর (যশোর): যশোরের অভয়নগরে ঘেরের পাড়জুড়ে দেশীয় জাতের খিরাই, শসা, বরবটি ও শিমের বাম্পার ফলন হয়েছে। ভালো পরিচর্যায় উৎপাদন আশানুরূপ হওয়ায় কৃষকদের মুখে ফিরেছে হাসি। তবে জরাজীর্ণ সড়কের কারণে উৎপাদিত সবজি বাজারজাত করতে গিয়ে নানা দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের। সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন সবজির হাট ঘুরে দেখা যায়, ভোর থেকেই কৃষকরা মণে মণে খিরাইসহ বিভিন্ন সবজি নিয়ে বাজারে আসছেন। স্থানীয় ক্রেতাদের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা পাইকারদেরও ব্যাপক উপস্থিতি দেখা গেছে। প্রতিদিনই বিপুল পরিমাণ সবজি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হচ্ছে। উপজেলার হিদিয়া, বর্ণী, মালাধারা, দিঘিরপাড়, চাকই, নওয়াপাড়া, বাগদাহ, চেংগুটিয়া, বাছিরঘাট ও প্রেমবাগসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপকভাবে সবজি চাষ করা হয়। এসব এলাকার ঘেরের পাড়জুড়ে এখন সবুজের সমারোহ। উপজেলার শুভরাড়া ইউনিয়নের হিদিয়া গ্রামের কৃষক তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘মৌসুমের শুরুতে প্রতি মণ খিরাই ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি করেছি। বর্তমানে দাম কমে প্রতি মণ ১ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার টাকায় নেমে এসেছে। তবে ফলন ভালো হওয়ায় কিছুটা লাভের আশা করছি।’ শ্রীধরপুর ইউনিয়নের মালাধারা বাজার উন্নয়ন কমিটির সভাপতি আমজাদ আলী বলেন, ‘গত আট বছর ধরে এই খিরাই হাট পরিচালনা করছি। বর্তমানে প্রতিদিন এ বাজারে ৮ থেকে ১০ ট্রাক দেশীয় জাতের খিরাই বিক্রি হয়। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি ৪০ থেকে ৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রতিদিন ৫০ জনেরও বেশি পাইকার খিরাই কিনতে আসেন। টানা চার থেকে পাঁচ মাস এ বাজারে প্রতিদিন বড় পরিসরে খিরাই বেচাকেনা হয়।’ এ ব্যাপারে অভয়নগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছা. লাভলী খাতুন বলেন, ‘চলতি মৌসুমে সময়োপযোগী পরিচর্যার কারণে ঘেরের পাড়ে সবজির ফলন খুবই ভালো হয়েছে। তবে বাজারে সরবরাহ বেশি থাকায় অনেক সময় কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পান না। সড়ক ব্যবস্থা উন্নত হলে দ্রুত বাজারজাত করা সম্ভব হবে, এতে কৃষকদের আয়ও বাড়বে।’