কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : কোটচাঁদপুরের চাষিদের নজর কাড়ছে মার্সেলো ও ইয়োলো কিং জাতের উচ্চমূল্যের গ্রীস্মকালীন তরমুজ। চাষটি মালচিং পদ্ধতিতে করায় খরচ কম হয় চাষে। আর স্বপ্ল সময়ে উৎপাদিত ফসল সংগ্রহ ও তা বাজারে ভাল দামে বিক্রি করতে পেরে খুশি চাষিরা। অন্যদিকে মানুষের মাঝে নিরাপদ উচ্চমূল্যের ফল তুলে দিতে ও চাষ বৃদ্ধিতে উপজেলা কৃষি অফিস কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। জানা যায়, গেল ২০২৩-২৪ অর্থবছর থেকে কোটচাঁদপুরে এই উচ্চমূল্যের গ্রীস্মকালীন তরমুজের চাষ হয়ে আসছে। তবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সব থেকে বেশি জমিতে এই তরমুজের চাষ হয়েছে। এ বছর উপজেলার দেড় একর জমিতে ৭ সাত জন চাষি এই তরমুজের চাষ করেছেন। যার মধ্যে রয়েছে নারায়ণবাড়িয়া গ্রামের জোবায়ের হোসেন, ফাজিলপুর গ্রামের আশরাফুজ্জামান, ছয়খাদার সজিব আহমেদ, রামচন্দ্রপুর গ্রামের শান্তি মিয়া,তালসার গ্রামের ফারুক হোসেন ও কুশনার আবুল বাশার। এ সব চাষিরা মাত্র ২০ শতক জমিতে এই চাষ করেছিলেন। আর সেটি মাত্র ৭০ দিনের মাথায় তাদের উৎপাদিত পণ্য সংগ্রহ করে বাজারে ভাল দামে বিক্রি করতে পেরে খুশি চাষিরা। এ ছাড়া অসময়ে উচ্চমূল্যের এই তরমুজের বাজারে ভাল চাহিদাও রয়েছে। এ কারণে এলাকার অনেক চাষি এই তরমুজের চাষ দেখে চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছে। কোটচাঁদপুরের বড়বামনদহ গ্রামের মহব্বত আলী বলেন-কৃষি অফিসের সহায়তায় গেল বছর ১ বিঘা জমিতে এই তরমুজের চাষ করেছিলাম। ফলনও ছিল ভাল। এ ছাড়া অসময়ের ফল হওয়ায় বাজারে এই তরমুজের চাহিদাও বেশি। তিনি বলেন-গেল বছর প্রথমবার চাষ করায় বুঝতে একটু সমস্যা হয়েছিল। তবে লোকশান হয়নি। এ বছর দাম অনেক ভাল হওয়ায়, তরমুজে অনেক লাভ হবে বলে আশা করছেন তিনি। নারায়ণবাড়িয়া গ্রামের চাষি জুবায়ের হোসেন বলেন-আমি একজন কৃষি উদ্যোক্ততা। গেল ৩ বছর ধরে আমি তরমুজের চাষ করে আসছি। বছরে এই তরমুজ ৩ বার চাষ করা যায়। এ চাষে বছরে একবার ৪০/৫০ হাজার টাকা খরচ করলে ৩ বার উৎপাদন করা যায় তরমুজ। এতে করে বছরে আমার দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা হয়ে থাকে। যদি কেউ চাষটি করতে চাই, সে ক্ষেত্রে আপনার পরামর্শ কি,এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এটা একটা লাভ জনক ফলের চাষ। আর অল্প খরচে,কম সময়ে চাষিরা এর উৎপাদন ঘরে তুলতে পারেন। এজন্য এই চাষ করতে চাইলে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করলে, তার পরামর্শ সহ জাবতীয় সহায়তা দিবো। এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন-যশোর অঞ্চলের টেকসই কৃষি সম্প্রসারনের আওতায় গ্রীস্মকালীন উচ্চমূল্যের তরমুজে ৭ টি প্রদর্শনী ছিল এ বছর এই উপজেলায়। চাষিরা মাত্র ৭০ দিনে ২০ শতক জমিতে ৬৫ হাজার টাকার তরমুজ বিক্রি করেছেন। এতে করে চাষিরা তাদের খরচের টাকা বাদ দিয়ে ৫০ হাজার টাকা লাভবান হয়েছেন। এই চাষে আমাদের অফিস থেকে চাষিরদের বীজ, সার, মালচিং, বালাইনাশক দিয়ে সহায়তা করেছি। যাতে করে এলাকার চাষিরা এই চাষ দেখে উৎবুদ্ধ হয়ে সামনের দিনে চাষ করেন। ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে কোটচাঁদপুরে দেড় একর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে। যা হেক্টর প্রতি ৩০ মেট্রিক টন উৎপাদন হয়েছে। কোটচাঁদপুরে মার্সেলো গ্রীন, ইয়েলো কিং ও ম্যালোডি সুপার এই জাতের তরমুজের চাষ হচ্ছে। তবে এর মধ্যে মার্সেলো গ্রীন জাতের তরমুজের চাষ বেশি হয়েছে।