নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোর শহরের বেজপাড়া কবরস্থান রোডের একটি বাসা থেকে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা চুরির মামলায় ফিরোজ আলম (৪১) নামে এক জুয়েলার্স ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধার ও অন্য জড়িতদের শনাক্ত করতে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। পুলিশের আদালতে দাখিল করা আবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ অক্টোবর রাত পৌনে ১০টার দিকে বেজপাড়া কবরস্থান রোডের তালতলা বাজারসংলগ্ন ফিরোজ জুয়েলার্স নামের দোকান থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। ফিরোজ আলম ওই এলাকার বাসিন্দা। মামলার অভিযোগে জানা যায়, বাদী মো. তারিকুল ইসলাম একটি বেসরকারি ব্যাংকের যশোর শাখায় কর্মরত। তিনি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বেজপাড়া তালতলা বাজারসংলগ্ন কবরস্থান রোডের একটি তিনতলা বাড়ির নিচতলায় ভাড়া থাকেন। গত ২১ অক্টোবর পূজার ছুটিতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে গ্রামের বাড়িতে যান তিনি। পরদিন ২২ অক্টোবর সকালে বাসায় ফিরে দেখেন, ঘরের দরজা, কাঠের আলমারি ও ড্রয়ারের তালা ভাঙা। ঘরের আসবাবপত্রও তছনছ করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, বাসা থেকে পাঁচ হাজার টাকা, আনুমানিক ১০ ভরি ওজনের ১০টি সোনার আংটি, একটি সোনার গলার চেইন, দুই জোড়া কানের দুল ও গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাগজপত্র চুরি হয়েছে। চুরি হওয়া স্বর্ণালংকারের আনুমানিক মূল্য সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা। পুলিশের আবেদনে বলা হয়েছে, বাসার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে ২২ অক্টোবর রাত ১টা থেকে ভোর ৪টার মধ্যে তিন থেকে চারজনকে বাসায় প্রবেশ করে চুরি করতে দেখা যায়। এ ঘটনায় কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা হওয়ার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে। পরে প্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ফিরোজ আলমকে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ফিরোজ আলম ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করেছেন। তবে চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধার এবং ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত করতে তাঁকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন। এ কারণে তাঁকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে। আবেদনে আরও বলা হয়েছে, জামিনে মুক্তি পেলে তিনি আত্মগোপন বা পলাতক হতে পারেন। মামলার তদন্তের স্বার্থে তাঁকে কারাগারে আটক রাখার আবেদনও জানিয়েছে পুলিশ। তবে আদালত রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেছেন কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।