মাহফুজুল ইসলাম মন্নু, লোহগড়া (নড়াইল) : নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার শালনগর ইউনিয়নের চরশালনগর মধুমতি নদীতে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে বসে গ্রামীণ মেলা। নৌকার বৈঠার ছন্দ, মাঝিদের সুর আর দর্শকদের উল্লাসে মুখর হয়ে উঠে মধুমতি নদীর দুইপাড়। শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার শালনগর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের জনগণের উদ্যোগে নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এ প্রতিযোগিতা দেখতে নদীর দুই পাড়ে হাজারো দর্শকের উপচে পড়া ভীড় । নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা একনজর দেখার জন্য দুপুর থেকেই মধুমতি নদীর মাকড়াইল আদর্শ গ্রাম হতে চরশালনগর মেলা পর্যন্ত দুই কিলোমিটার জুড়ে নদীর দুই পাড়ে মানুষ জড়ো হতে থাকে। মুহূর্তের মধ্যে নদীর দুই পাড় কানায় কানায় ভরে যায় দর্শনার্থীতে। নড়াইল জেলাসহ পার্শ্ববর্তী জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা দেখতে হাজারো মানুষের আগমন ঘটে। পুরো বাইচ উপভোগ করার জন্য অনেক দর্শনার্থী ইঞ্জিন চালিত নৌকায় চড়ে প্রতিযোগিতা উপভোগ করেন। গ্রাম বাংলার জনপ্রিয় নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা শিশু, নারী-পুরুষসহ সব শ্রেণির দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন লোহাগড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মোঃ আহাদুজ্জামান বাটু। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, আমাদের গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা ও প্রতিযোগিতা হারিয়ে যেতে বসেছে। তরুণ সমাজ মোবাইলে ফেসবুক, ইউটিউব, অনলাইন গেমসহ ইন্টারনেটভিত্তিক বিভিন্ন সময় নষ্ট করছে। গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা ও প্রতিযোগিতা ফিরিয়ে আনতে ঐতিহ্যবাহী এই নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। এসময় লোহাগড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী সুলতানুজ্জামান সেলিম, পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. মিলু শরিফ, আয়োজক কমিটির শালনগর ইউপি সদস্য আলী আহমেদ, ইসরাফিল ফকির, সাউদ ব্যাপারী, মুছা মোল্যা, কালাম শেখ, জাহিদুল ইসলাম শেখসহ শালনগর ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। লোহাগড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী সুলতানুজ্জামান সেলিম বলেন-নৌকাবাইচ বাঙালির ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অংশ। দেশের আবহমান গ্রাম বাংলার ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ করতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে এবং প্রতি বছর এর আয়োজন করতে হবে। তিনি আরও বলেন-গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচের সঙ্গে বাঙালির ঐতিহ্য মিশে রয়েছে। এটা যাতে হারিয়ে না যায় সেই উদ্যোগ নিতে হবে। আয়োজক কমিটির মোঃ এয়ার আলী জানান-মধুমতি নদীর মাকড়াইল আদর্শ গ্রাম থেকে নৌকা ছাড়া হয় তা দুই কিলোমিটার নদী পাড়ি দিয়ে চরশালনগর মেলায় এসে শেষ হয়। পয়েন্টভিত্তিক এ প্রতিযোগিতায় ৪ বার অংশগ্রহণ করতে হয় নৌকাগুলোর। লোহাগড়া উপজেলার আড়পাড়া থেকে নৌকাবাইচ দেখতে আসা মোঃ হাবিবুর রহমান তবি বলেন-আমরা বর্তমানে ফেসবুক ইন্টারনেট ভিত্তিক বিনোদনে আসক্ত হয়ে পড়েছি। বহুদিন পর নৌকাবাইচ দেখতে গিয়ে সুন্দর একটি বিকেল অতিবাহিত করেছি। আমাদের মতো হাজার হাজার মানুষ নির্মল আনন্দ উপভোগ করেছে। এরকম প্রতিবছর বর্ষাকালে নড়াইল নদী ও বিলে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতার আয়োজন করার দাবি জানাচ্ছি। এ প্রতিযোগিতায় নড়াইল, মাগুরা, খুলনা, গোপালগঞ্জ জেলা হতে আসা ৫টি নৌকা অংশগ্রহণ করে। মধুমতি নদীর দুই পাড়ে দাঁড়িয়ে, বিভিন্ন গাছপালার ডালে এবং বাসা-বাড়ির ছাদে বসে বিভিন্ন বয়সী হাজার হাজার নারী-পুরুষ ও শিশু এ নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা উপভোগ করেন। নৌকা বাইচের সঙ্গে গ্রামীণ মেলার আয়োজনও ছিল। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মোঃ আহাদুজ্জামান বাটু ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী সুলতানুজ্জামান সেলিম।