বাবুল আক্তার, চৌগাছা : যশোরের চৌগাছা উপজেলার হাজরাখানা গ্রামে আজ মঙ্গলবার থেকে শুরু হচ্ছে শত বছরের বেশি সময়ের ঐতিহ্যবাহী পীর বলুহ মেলা। বাংলা সনের ভাদ্র মাসের শেষ মঙ্গলবার প্রতিবছর এ মেলা শুরু হয়। এরই মধ্যে মেলার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু মেলার অনুমতি নিয়ে ধূম্রজাল তৈরি হয়েছে। মেলা আয়োজক কমিটির সভাপতি মিজানুর রহমান জানান , আজ সকাল ১০টায় মেলার উদ্বোধন করা হবে। তিনি বলেন, মেলার জন্য ১৫ দিনের অনুমতি পাওয়া গেছে। তিনি আরও বলেন, মেলার উদ্বোধন করবেন সংরক্ষিত আসনের মহিলা সংসদ সদস্য সাবিরা সুলতানা মুন্নি। তবে প্রশাসনের কেউ মেলার অনুমতির ব্যাপারে নিশ্চিত করতে পারেনি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মেলায় অংশ নিতে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে ব্যবসায়ীরা কয়েক দিন আগেই এসে দোকান বসিয়েছেন। ইতোমধ্যে মেলার মাঠে বসেছে বিভিন্ন ধরনের দোকান ও বিনোদনের আয়োজন। শিশুদের খেলনা, কাঠের আসবাবপত্র, প্রসাধনীসহ নানা পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেছেন ব্যবসায়ীরা। মেলায় ‘নৌকা-দোলা’, নাগরদোলা, জাম্পিং ও স্লিপিংসহ বিভিন্ন রাইডও বসানো হয়েছে। আয়োজক কমিটি জানিয়েছে, এবার কপোতাক্ষ নদে মাশিলা খাট থেকে স্পিডবোট চলাচলের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। মেলা উপলক্ষে নদীকেন্দ্রিক বিনোদনেও আগ্রহ দেখাচ্ছেন দর্শনার্থীরা। শত বছরের বেশি সময় ধরে চলে আসা এ মেলার সঠিক বয়স সম্পর্কে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। এলাকার প্রবীণদের ভাষ্য, তাঁদের দাদার আমল থেকেই তাঁরা এ মেলার কথা শুনে আসছেন। ফলে এটি চৌগাছার অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ মেলা হিসেবে পরিচিত। মেলায় কাঠের আসবাবপত্র নিয়ে এসেছেন যশোরের মণিরামপুর উপজেলার ব্যবসায়ী আশাদুল ইসলাম, সালামত হোসেন ও আরব আলী। তাঁরা জানান, প্রায় দুই দশক ধরে তাঁরা বলুহ মেলায় দোকান দেন। প্রতিবছরই ভালো বেচাকেনা হয়, লাভ নিয়ে বাড়ি ফেরেন তাঁরা। যশোরের বাঘারপাড়ার বসুন্দিয়ার পরিচিত ‘খোকন ভাইয়ের চটপটি’ও এবার মেলায় এসেছে। দোকান মালিক খোকন বলেন, মেলা শুরুর আগেই কমবেশি বিক্রি হচ্ছে। মাদারীপুর থেকে প্রসাধনী পণ্য নিয়ে এসেছেন উসমান মোল্লা। তিনি বলেন, ‘বলুহর মেলা বলে কথা। প্রতিবছরই আসি। এবারও এসেছি। আশা করছি, ব্যবসা ভালো হবে।’ বগুড়া থেকে শিশুদের খেলনা নিয়ে এসেছেন ব্যবসায়ী লিটন হোসেন। তিনি বলেন, এবার ভালো ব্যবসা হবে বলে আশা করছি। আর ঢাকার গুলিস্তান থেকে কম্বল নিয়ে এসেছেন ব্যবসায়ী আবু তাহের। মেলা পরিচালনা কমিটির সভাপতি মিজানুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক বিএম বাবুল আক্তার বলেন, বলুহ মেলা একটি ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ মেলা। যুগ যুগ ধরে এ মেলা চলে আসছে। গ্রামবাসীসহ এলাকার মানুষের সহযোগিতা নিয়ে এবারও সুন্দরভাবে মেলা পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে মেলা ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগও রয়েছে। তাঁদের দাবি, মেলার নামে যেন অশ্লীল নৃত্য, জুয়ার আসর, মাদক বিকিকিনি কিংবা অন্য কোনো অসামাজিক কার্যকলাপ না হয়। এ বিষয়ে প্রশাসনকে কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশিদ বলেন, আমি শুনেছি শর্তসাপেক্ষে ১৫ দিনের জন্য বলুহ মেলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এমর্মে কোনো চিঠি পাইনি। চিঠি পেলে পুলিশ যথাযথ পদক্ষেপ নেবেন বলে জানান।