Ad for sale 100 x 870 Position (1)
Position (1)

যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে দালালদের দৌরাত্ম্য থামবে কবে ?

এখন সময়: বুধবার, ৪ মার্চ , ২০২৬, ০১:৩০:০৯ এম

বিল্লাল হোসেন : যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে দালালের দৌরাত্ম্য কমছেনা। সরকারি হাসপাতাল থেকে ৫০ পার্সেন্ট কমিশনে রোগী ভাগিয়ে ভাগিয়ে পকেট ভরছে দালালরা। বিগতদিনে প্রতারণার অভিযোগে একাধিক দালাল আটক হলেও তারা ছাড়া পেয়ে আবারো ধান্দায় নেমে পড়ছে। দালালের খপ্পরে পড়ে বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে গিয়ে অতিরিক্ত অর্থ খরচ হচ্ছে। হাসপাতালের কতিপয় কর্মচারী, ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টার মালিক পক্ষের নেতৃত্বে রীতিমতো দালাল সিন্ডিকেট গড়ে তোলা হয়েছে। প্রতিদিন সকাল ৭টার পর থেকে দালালরা টিকিট কাউন্টারের সামনে জড়ো হচ্ছে। এরপর পুরো হাসপাতালে ছড়িয়ে যাচ্ছে। অনেকে বলছে- হাসপাতালে দালালদের দৌরাত্মা থামবে কবে?
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে দালালের দৌরাত্ম্য দীর্ঘদিন থেকেই। বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং ওষুধ ফার্মেসীর অর্ধশত দালাল সরকারি এই হাসপাতালে অবস্থান নিয়ে জমপেশ প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। অধিকাংশ দালাল হাসপাতালের আশেপাশের এলাকার হওয়ায় প্রভাবের সাথে প্রতারণা কর্মকান্ড করে থাকে। ২টি সিন্ডিকেটে অর্ধশতাধিক দালাল হাসপাতালের রোগী ও স্বজনদের কাছে নেতিবাচক নানা কথা বলে তাদের ভাগানোর কাজ করেন। এখানকার চিকিৎসাসেবা ও প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা নিরীক্ষা সম্পর্কে মানুষকে ভুল বুঝিয়ে ভীতসন্ত্রস্ত ও দুর্বল করে তোলে। বিগত দিনে ডা. আবুল কালাম আজাদ লিটু এই হাসপাতালে তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে যোগদান করার পর থেকেই দালালদের বিরুদ্ধে জোরালো অবস্থান গ্রহণ করে। দালালদের কবল থেকে রোগী ও স্বজনদের রক্ষা করতে তার নির্দেশনায় হাসপাতালের বিভিন্ন কোনে ১০টি প্রচার মাইক বসানো হয়েছিলো। এছাড়া টিকিট কাউন্টারের সামনে স্থাপন হয় তথ্যকেন্দ্র। মাইকগুলোতে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত দালাল বিরোধী প্রচার চলতো। এতে সচেতন রোগী ও স্বজনরা সচেতন হতেন। তথ্যকেন্দ্রে একজন কর্মচারী রোগীদের সব ধরণের পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করতেন। যাতে করে দালালরা মানুষকে বোকা বানিয়ে প্রতারণার সুযোগ না পায়। বর্তমানে প্রচার মাইকগুলো নষ্ট হয়ে আছে । তথ্য কেন্দ্রে কোন কর্মচারী দায়িত্ব পালন করেন না। সেখানে বহিরাগত লোকজন বসে সময় পার করেন।
সূত্র জানায়, বর্তমানে একটি চক্র সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দালালি জোরদার করেছেন। এদের মধ্যে অনেকেই রোগী ও স্বজনদের সাথে প্রতারণার অভিযোগে বিগতদিনে পুলিশের কাছে আটক হয়েছে। পরে ছাড়া পেয়ে আবারো তারা দালালীতে নেমে পড়েছে। তাদের কাজ হলো সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগী ভাগিয়ে বাইরে নিয়ে কমিশনে বিক্রি করা। অভিযোগ উঠেছে, তাদের সাথে সখ্য রয়েছে হাসপাতালের কয়েকজন কর্মচারীর। তারা সময় মতো পেয়ে যাচ্ছে ভাগের টাকা। আবার কিছু সরকারি কর্মচারি নিজেরা দালালীর সাথে জড়িত।
সূত্রটি জানায়, কতিপয় চিকিৎসকের পোষ্য দালাল আছে। কমিশন লোভে চিকিৎসকরা রোগীকে অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা নিরীক্ষা করার নির্দেশনা দিয়ে থাকেন। তারা ব্যবস্থাপত্রে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা লিখে কোথা থেকে করতে হবে সেই প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করে বলে দেন। ওই প্রতিষ্ঠানের দালাল অপেক্ষায় থাকে চিকিৎসকের কক্ষের সামনে। অন্যথায় রোগীকে সহকারীর সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন। দালালরা রোগীকে নির্দিষ্ট ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যান। অথবা চিকিৎসকের সহকারী ওই প্রতিষ্ঠানের কার্ড ধরিয়ে পাঠিয়ে দেন। প্রতিষ্ঠান মালিক চিকিৎসক ও দালালের কমিশন আলাদা হিসেবে পরিশোধ করে থাকেন। কিন্তু দালালরা নিজেদের যোগ্যতায় রোগী ভাগিয়ে আনতে পারলে শতকরা ৫০ ভাগ কমিশন পান। সে বহিরাগত দালাল হোক আর হাসপাতালের কর্মচারী দালাল হোক।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরকারি হাসপাতালে এক্সরে ২শ’ টাকা, ইসিজি ৮০ টাকা, আলট্রাসনো ১১০ টাকা খরচ হয়। অথচ বেরসরকারি হাসপাতাল অথবা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে প্রায় তিনগুন টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়। এছাড়া প্রস্রাব ও রক্তের বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা তো আছেই। সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে রোগীরা দালালের খপ্পরে পড়ে নিঃস্ব হয়ে বাড়ি ফিরছেন।
ক্ষতিগ্রস্থদের মধ্যে একজন হলেন যশোর সদর উপজেলার এনায়েতপুর গ্রামের ফজলুর রহমান। তিনি জানান,
দালালের কথামতো তাদের সাথে একটি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষার নামে তার কাছ থেকে দেড় হাজারের বেশি টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়েছে। সরকারি হাসপাতালের পাশেই ওই ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারটি অবস্থিত। বিগত দিনে সেখানে ভুল অস্ত্রোপচারের অভিযোগ রয়েছে। এক কথায় প্রতিষ্ঠানটি দালালের ওপর নির্ভরশীল।
হৈবতপুর ইউনিয়নের লাউখালী গ্রামের শিল্পী বেগম জানান, তিনি হাসপাতালের বহির্বিভাগে ডাক্তার দেখানোর জন্য আসেন। টিকিট কাউন্টারের সামনে আসলে একজন দালাল তাকে ভাগিয়ে নিয়ে একটি ক্লিনিকে যান। এরপর ডাক্তার দেখানোর জন্য দুই শ টাকা দাবি করেন। দালালের খপ্পরে পড়েছেন বুঝতে পেরে তিনি চলে আসেন।
আরিচপুর গ্রামের আব্দুল মান্নান মিয়া জানান, শনিবার সরকারি এই হাসপাতালে বহিঃবিভাগে ডাক্তার দেখানোর জন্য এসেছিলেন। টিকিট কাউন্টার থেকে ৫ টাকা দিয়ে টিকিট কাটার পর তিনি এক দালালের কবলে পড়েন। ওই দালাল তার রোগের কথা শুনে বলেন এখানে ডাক্তার ভালো করে দেখবেন না। সামান্য টাকার জন্য কেনো সরকারি এই হাসপাতালে রোগী দেখাবেন। আমার সাথে চলেন তিনশ টাকা ফি দিয়ে ভালো ডাক্তার দেখিয়ে দেবো। সরল মনে তিনি ওই দালালের সাথে হাসপাতালের গাঁ ঘেষে একটি ক্লিনিকে যান। সেখানে ডাক্তার দেখানোর পর বিভিন্ন প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা নিরীক্ষা করানো হয়েছে। চিকিৎসকের ফি ও পরীক্ষা বাবদ ২২শ ৫০ টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়েছে তার কাছ থেকে।
যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. হুসাইন শাফায়াত জানান, ইতিমধ্যে হাসপাতালে অনেক কিছুর পরিবর্তন হয়েছে। অনিয়ম-দুর্নীতি কমে গেছে। দালালের দৌরাত্ম্য কমানো একটা মিশন। ফলে দালালদের বিরুদ্ধে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জোরালো অবস্থানে রয়েছে। গত সপ্তাহে দুইজন চিহ্নিত দালালকে পুলিশ আটক করে। দালালদের একটি তালিকা তৈরি করে জেলা প্রশাসনের কাছে দেয়া হবে।

Ad for sale 100 x 870 Position (2)
Position (2)
Ad for sale 225 x 270 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 225 x 270 Position (4)
Position (4)