নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোরের মণিরামপুর উপজেলার কপালিয়া বাজারে দুটি নিষিদ্ধ ঘোষিত চরমপন্থী সংগঠনের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে খুন হন বরফ কল ব্যবসায়ী রানা প্রতাপ বৈরাগী। তিনি ছিলেন বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির মণিরামপুরের আঞ্চলিক নেতা এবং কেশবপুর উপজেলার বাইসা গ্রামের তুষার কান্তি বৈরাগীর ছেলে। যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অফস) আবুল বাশার শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য দেন।
তিনি আরো বলেছেন, চরমপন্থী নেতা রানা প্রতাপ বৈরাগী হত্যাকাণ্ডের পর এ পর্যন্ত মোট চারজনকে আটক করা হয়েছে। এদের মধ্যে গত বৃহস্পতিবার রাতে দুইজনকে আটক করা হয়। যশোরের অভয়নগর উপজেলার বারান্দি পালবাড়ি এলাকার হাবিবুর রহমানের ছেলে মাহমুদ হাসান হৃদয় এবং বারান্দি পূর্ব পাড়ার মৃত শহিদুল ইসলামের ছেলে শামীম হোসাইন । গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে রাজশাহীর তানোর উপজেলার মোহাম্মদপুরের মদপুর গ্রাম থেকে তাদের আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, দুই রাউন্ড গুলি, একটি ম্যাগজিন এবং একটি চাকু উদ্ধার করা হয়েছে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাশার বলেছেন, এর আগে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি রাজিব মোল্লাকে আটক করা হয়। রাজিবের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে যশোরের ডিবি পুলিশ হৃদয় ও শামীমকে আটক করে। তাদের কাছ থেকে এই হত্যাকান্ডের মূল কারণ জানতে পেরেছে পুলিশ।
প্রেস ব্রিফিংয়ে বলা হয়, রানা প্রতাপ বৈরাগী হত্যাকাণ্ডের প্রথম আটক হয় সাদ্দাম হোসেন নামে একজন চরমপন্থী। এছাড়াও এই ঘটনায় আটক রাজিব, হৃদয় শামীম সকলেই পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য। আর নিহত রানা প্রতাপ বৈরাগী ছিলেন বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির আঞ্চলিক নেতা। রানা প্রতাপ বৈরাগী নিজেকে প্রতিদ্বন্দ্বী পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন জায়গায় চাঁদাবাজি করতেন। এ ছাড়া ঘের দখল, জমি দখল, বাড়ি দখলসহ নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করতেন পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির নাম ভাঙিয়ে। এ বিষয়টি জানতে পারেন পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির আঞ্চলিক নেতা শিপন আহমেদ মুন্না। তিনি লোক মারফত রানা প্রতাপ এর কাছে সংবাদ পাঠিয়ে এই ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে বলেন। কিন্তু রানা প্রতাপ তার কোন কথা শুনেননি। তিনি পূর্বের মতো পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির নাম ভাঙিয়ে জমি দখল, ঘের দখল,চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করতেন। এতেই ক্ষিপ্ত হন আঞ্চলিক নেতা শিপন আহমেদ মুন্না। তিনি রানা প্রতাপ বৈরাগীকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ৫ জনুয়ারি পার্টির সদস্য শামীম ও সেলিমকে বাজারে পাঠান রানা প্রতাপ বৈরাগীর অবস্থান জানার জন্য। আর পার্টির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হৃদয়,রাজিব মোল্লা ও সূর্য পালসার ব্র্যান্ডের একটি মোটরসাইকেল নিয়ে কপালিয়া বাজারে যান। ওইদিন সন্ধ্যার সময় কপালিয়া বাজারের ঝুমুর বিউটি পার্লারের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন রানা প্রতাপ। শামীম ও সেলিমের দেখানো মতে মণিরামপুরে তার কাছে যান হৃদয়, রাজিব ও সূর্য্য। কথা বলার এক পর্যায় তারা রানা প্রতাপকে গুলি করে। মাথায় ও বুকে একাধিক গুলি লাগে। মৃত্যু নিশ্চিত করতে চাকু দিয়ে গলায় আঘাত করে পালিয়ে যায় তারা।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরো বলেছেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত দুটি চরমপন্থি সংগঠনের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জের ধরেই হত্যাকাণ্ড। এর পেছনে অন্য কোন কারণ নেই। হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই মামলাটি তদন্ত করে যশোর ডিবি পুলিশ। পুলিশের এসআই কামরুজ্জামান মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। তিনি তদন্ত করে এই মামলার মূল মোটিভ উদ্ধার করেন। এই মামলায় হৃদয়, রাজিব, সেলিম ও শামীম আটক আছে। পলাতক আছে সূর্যসহ বেশ কয়েকজন। তাদের আটকের প্রস্তুতি চলছে।