Ad for sale 100 x 870 Position (1)
Position (1)

শ্রদ্ধায় স্মরণ ও প্রার্থনায় তরিকুল ইসলামের অষ্টম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

এখন সময়: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর , ২০২৬, ১২:১৫:৩৬ এম
শ্রদ্ধায় স্মরণ ও প্রার্থনায় তরিকুল ইসলামের  অষ্টম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোরে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ ও প্রার্থনার মধ্যে দিয়ে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির প্রয়াত সদস্য, সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলামের অষ্টম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে। বুধবার দিনভর নানা কর্মসূচিতে গোটা জেলায় মৃত্যুবার্ষিকী পালন করেন বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীরা। বুধবার সকালে যশোর শহরের কারবালা কবরস্থানে দলীয় নেতাকর্মীরা প্রয়াত নেতা তরিকুল ইসলামের কবর জিয়ারতের মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা করেন। পরে জেলা বিএনপির আয়োজনে দলীয় কার্যালয়ে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে প্রয়াত এই রাজনীতিকের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়। দোয়া ও কবর জিয়ারত কর্মসূচি যশোরের আট উপজেলা ছাড়াও পার্শ¦বর্তী নড়াইল ও ঝিনাইদহ জেলার বিভিন্ন স্তরের দলীয় নেতৃবৃন্দের সমাগম ঘটে। কবর জিয়ারত ও দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন তরিকুল ইসলামের সহধর্মিনী ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম, জাতীয় নির্বাহী কমিটির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক ও বিদ্যুৎ, জ্বালানি, খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান, পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন, যশোর চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মিজানুর রহমান খান, ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট এম এ মজিদ ও সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, নড়াইল জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মুস্তাফিজুর রহমান আলেক, নড়াইল জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম ও নড়াইল পৌরসভার সাবেক মেয়র জুলফিকার আলী, তরিকুল ইসলামের বড় পুত্র বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক শান্তনু ইসলাম সুমিত, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম প্রমুখ। এদিকে দোয়া মাহফিল শেষে জেলা ছাত্রদলের উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়। একই সময়ে জেলা মৎস্যজীবী দলের উদ্যোগে মুসল্লিদের মধ্যে জায়নামাজ, টুপি ও তসবি বিতরণ করা হয়। এছাড়া যশোর সদরসহ জেলার সব উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে তরিকুল ইসলামের রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া মাহফিল ও গণভোজের আয়োজন করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলামকে ‘যশোর উন্নয়নের কারিগর’ হিসেবে অভিহিত করেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। ২০১৮ সালের এই দিনে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি। ছাত্রজীবনে ছাত্র ইউনিয়নের মাধ্যমের ছাত্র রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হন তরিকুল ইসলাম। ১৯৬৩-৬৪ শিক্ষাবর্ষে তিনি ছাত্র ইউনিয়নের প্রার্থী হিসেবে যশোর এমএম কলেজ ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৬৩ সালে সর্বক্ষেত্রে রাষ্ট্রভাষা বাংলা প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। ১৯৬৬ সালে যশোর এমএম কলেজে শহীদ মিনার নির্মাণের সময় রাজনৈতিক মামলায় প্রথমবারের মতো গ্রেফতার হয়ে কারাভোগ করেন। ১৯৬৮ সালে আইয়ুববিরোধী আন্দোলনের সময় রাজবন্দি হিসেবে যশোর ও রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে ৯ মাস বন্দি ছিলেন। ১৯৭০ সালে মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টিতে যোগ দেন তিনি। তরিকুল ইসলাম ১৯৭৩ সালে যশোর পৌরসভার ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ১৯৭৪ সালে মাওলানা ভাসানীর ফারাক্কা অভিমুখে লংমার্চ কর্মসূচি সফল করতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন তিনি। ১৯৭৫ সালে বাকশালের বিরোধিতা করে আবারও তিন মাস কারাভোগ করেন। ১৯৭৮ সালে যশোর পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এরপর বিএনপিতে যোগ দিয়ে দলটির যশোর জেলা শাখার প্রতিষ্ঠাকালীন আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৯ সালে যশোর-৩ (সদর) আসন থেকে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবরণের পর তিনি বিচারপতি আব্দুস সাত্তারের মন্ত্রিসভায় প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পান। স্বৈরাচার এরশাদ রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে সামরিক শাসন জারি করলে তরিকুল ইসলাম আবারও গ্রেফতার হন। কারাগারে এসময় তার ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়। এ দফায়ও দীর্ঘদিন কারাভোগের পর বেরিয়ে আবার বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হন। বেগম খালেদা জিয়ার সরকারে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৬ সালে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব পান তরিকুল ইসলাম। এরশাদবিরোধী আন্দোলনে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্বও পালন করেছেন। ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার গঠন করলে তিনি পর্যায়ক্রমে সমাজকল্যাণ ও মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয়, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। ২০০১ সালে যশোর-৩ আসন থেকে আবারও বিপুল ভোটের ব্যবধানে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে বন ও পরিবেশ মন্ত্রী ও তথ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তরিকুল ইসলামের স্ত্রী অধ্যাপক নার্গিস বেগম বর্তমানে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। কনিষ্ঠ পুত্র অনিন্দ্য ইসলাম অমিত যশোর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও বিদ্যুৎ জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী। তিনি কেন্দ্রীয় কমিটির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। জ্যেষ্ঠ পুত্র শান্তনু ইসলাম সুমিত পিতার প্রতিষ্ঠিত পত্রিকা দৈনিক লোকসমাজের প্রকাশক ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন।

Ad for sale 100 x 870 Position (2)
Position (2)
Ad for sale 225 x 270 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 225 x 270 Position (4)
Position (4)