বিল্লাল হোসেন : মেয়ের ছবি বুকে নিয়ে কাঁদছেন মা। মাত্র চার মাসের সংসারের পর ১৬ বছর বয়সী নববধূ সিনথিয়া আক্তার সুমাইয়ার রহস্যজনক মৃত্যু কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না মা বিলকিছ বেগম। মেয়ের মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করে সঠিক বিচার দাবি করেছেন তিনি। তার অভিযোগ, যৌতুকের জন্য নির্যাতনের পর সুমাইয়াকে হত্যা করা হয়েছে। সুমাইয়া ঝিকরগাছার গদখালী মটবাড়িয়া গ্রামের হারুন বিশ্বাসের মেয়ে। চার মাস আগে মণিরামপুরের মথুরাপুর গ্রামের আল আমিনের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। পরিবারের দাবি, বিয়ের সময় যৌতুক হিসেবে ৫০ হাজার টাকা ও আসবাবপত্র দেওয়া হলেও পরে সুমাইয়ার ওপর নির্যাতন চালানো হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় দেওয়া আবেদনে সুমাইয়ার মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলা হলেও মা বিলকিছ বেগমের দাবি, মেয়েকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়নি। তার দাবি, স্বামীর কক্ষের খাটের ওপর কাঁথা দিয়ে ঢাকা অবস্থায় সুমাইয়াকে পাওয়া যায়। এ নিয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়েছে—সুমাইয়া আত্মহত্যা করে ঝুলে থাকলে তাকে কে এবং কখন নামালেন? এদিকে সুমাইয়াকে গোসল করানোর সময় কয়েকজন শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন এবং একটি হাড় ভাঙার মতো বিষয় দেখতে পেয়েছেন বলে দাবি করেছেন। তবে এসব দাবির স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সুমাইয়ার মৃত্যুর ঘটনায় প্রথমে মণিরামপুর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়। পরে তার মা বিলকিছ বেগম আদালতে হত্যা মামলা করেন। তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে এ অভিযোগের পক্ষেও স্বাধীন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। মেয়ের মৃত্যুর পর থেকেই শোকে ভেঙে পড়েছেন বিলকিছ বেগম। ঘরের দরজায় বসে মেয়ের ছবি হাতে নিয়ে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছেন তিনি। কখনো ছবিতে হাত বুলিয়ে আদর করছেন, আবার মেয়ের কথা মনে পড়লেই অচেতন হয়ে পড়ছেন। কিছুতেই মেয়ের মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না তিনি। বিলকিছ বেগম বলেন, ‘আমি আমার মেয়ের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে চাই। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সুমাইয়ার মৃত্যুর রহস্য উদঘাটন করে যারা দায়ী, তাদের সঠিক বিচার করতে হবে।’ মণিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু সাঈদ বলেন, ‘সুমাইয়া আত্মহত্যা করেছেন নাকি তাকে হত্যা করা হয়েছে, তা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।’