মিরাজুল কবীর টিটো : যশোর শহরের যানজট নিরসন এবং পথচারীদের অবাধ ও স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল নিশ্চিত করতে ৭ দিন ব্যাপী বিশেষ অভিযান শুরু করেছে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। সোমবার শহরের কেন্দ্রস্থল দড়াটানা থেকে সার্কিট হাউস মোড় পর্যন্ত তিন ঘণ্টাব্যাপী অবৈধ ইজিবাইক ও অটোরিকশার বিরুদ্ধে এ অভিযান চালানো হয়। পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ আগস্ট জেলা প্রশাসকের কালেক্টরেট সভা কক্ষে অনুষ্ঠিত উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় শহরের যানজট নিরসনে অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রথমে শহরে তিন দিন ধরে মাইকিং করে সতর্কবার্তা প্রচার করা হয়। পরবর্তীতে সোমবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দড়াটানা, ঈদগাহ মোড় ও সার্কিট হাউসের সামনের সড়কে অভিযান চালিয়ে শতাধিক ইজিবাইক ও অটোরিকশার লাইসেন্স পরীক্ষা করা হয়। লাইসেন্সবিহীন চালকদের শহরে চলাচল না করার জন্য চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি দেয়া হয় এবং পুনরায় দেখা গেলে যানবাহন জব্দের কথা জানানো হয়। অভিযানের নেতৃত্ব দেওয়া পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী বিএম কামাল আহমেদ জানান, চালকদের সতর্ক করার পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে শহরের ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা ও দোকানপাট উচ্ছেদ করা হবে। তবে পৌরসভার এ উদ্যোগের স্থায়ী কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ট্রাফিক পুলিশ। ট্রাফিক পুলিশের একটি সুত্র জানায়, কোনো প্রকার বিকল্প বা স্থায়ী পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে হুট করে অভিযান চালিয়ে ইজিবাইক ও অটোরিকশা বন্ধ করে দিলে সামাজিক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে। এ বিষয়ে পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা জায়েদ হোসেন জানান, শহরের শৃঙ্খলা ফেরাতে যতবার প্রয়োজন ততবারই অভিযান চালানো হবে। তবে আপাতত ফুটপাতের অবৈধ দখলদার কিংবা লাইসেন্সবিহীন যানবাহন চালকদের পুনর্বাসনের জন্য পৌরসভার নির্দিষ্ট কোনো জায়গা নেই। ভবিষ্যতে স্থান চিহ্নিত করা সম্ভব হলে স্থায়ী সমাধানের পদক্ষেপ নেওয়া হবে। অভিযানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পৌরসভার পরিদর্শক আব্দুর রাজ্জাক মন্টু, মনিরুজ্জামান নয়ন, মেহেদী হাসান, আবু বক্করসহ ট্রাফিক পুলিশ ও রেডক্রিসেন্টের সদস্যরা।