নিজস্ব প্রতিবেদক, মহেশপুর : ঝিনাইদহের মহেশপুর পৌরসভার নিকটবর্তী সড়ক ও জনপথের অতিমূল্যবান জমি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দখলদারদের কবলে রয়েছে। জমিগুলো শহরের প্রাণ কেন্দ্র কলেজ বাসস্ট্যান্ডের পার্শ্ববর্তী হওয়ায় দোকান ও অবৈধ স্থাপনা তৈরি করে রমরমা ভাড়া ও জামানত (অগ্রীম টাকা) বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন দখলদাররা। সড়কের দু’পাশের প্রায় ৪০ ফুট প্রশস্থ এসব জমি দখলের লোভে পিছনের ব্যক্তি মালিকানা জমিগুলো চড়া দামে কিনছেন ক্রেতারা। পৌরসভা কর্তৃপক্ষ বলছে, সড়ক ও জনপথের এসব জমি গুলোর সঠিক ব্যবহার করা হলে বছরে প্রায় অর্ধকোটি টাকার সরকারি রাজস্ব আয় করা সম্ভব। এছাড়াও পৌরসভার কাঁচা মালের হাট, মাছের হাট, সিএনজি-ভ্যান স্ট্যান্ড ওইসব জমিতে অপসরণ করা গেলে শহরের রাস্তাগুলো যানজট মুক্ত হবে। পৌরসভার জরিপে সড়ক ও জনপথের জমি প্রায় দেড়শ’র অধিক দোকান ও স্থাপনা রয়েছে। এর মধ্যে কলেজ বাসস্ট্যান্ড থেকে সরকারি খাদ্য গোডাউন পর্যন্ত দক্ষিণপাশে ৪৮ টি, উত্তরপাশে ৩৩ টি, গোডাউন থেকে হাসপাতাল পর্যন্ত দক্ষিণপাশে ১৮টি, উত্তরপাশে ২৫ টি দোকান ও স্থাপনা রয়েছে। মহেশপুর পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় হতে কলেজবাস স্ট্যান্ড পর্যন্ত সড়কের দু’পাশে ১৪ টি দোকান রয়েছে। অবৈধ এসব দোকান-পাট ও স্থাপনা থেকে এককালিন টাকার সাথে প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা ভাড়া পাচ্ছেন দখলদাররা। এদিকে দীর্ঘদিন সরকারের এসব অতি মূল্যবান জমিগুলো বেদখলে থাকলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে উচ্ছেদে তেমন কোন পদক্ষেপ নেননি বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসীর। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, আরিফ হোসেনের দখলকৃত জমিতে আয়ান সাইকেল গ্যালারীর ব্যানারে একটি বড় দোকানে বাইসাইকেলের ব্যবসা করছেন জুয়েল রানা নামের এক ব্যক্তি। তিনি প্রতিমাসে দোকান ভাড়া বাবদ আরিফ হোসেনকে ৭ হাজার করে টাকা দেন। এরপাশেই মহাসিন আলীর মালিকানায় আরো ৪টি দোকান ভাড়া দেওয়া রয়েছে। দুই লাখ টাকা করে জামানতের সাথে ৪টি দোকানের ভাড়াটিয়ারা প্রতি মাসে মহাসিন আলীকে প্রায় ১০ হাজার টাকা ভাড়া দেন। এর বিপরীতে আলী চেয়ারম্যানের দখলকৃত জমি ২টি দোকান রয়েছে। ২টি দোকান থেকে তিনিও প্রতি মাসে ৬ হাজার টাকা ভাড়া পান। সড়ক ও জনপথের নির্বাহী প্রকৌশলী হাফিজুর রহমান বলেন, ইতোমধ্যে অবৈধ স্থাপনার তালিকা তৈরী করা হয়েছে। অল্প কিছু তালিকা বাকি আছে। তালিকার কাছ শেষ হলে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান পরিচালনা করা হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক সাজ্জাদ হোসেন বলেন, এ ব্যাপারে সড়ক ও জনপথের সহকারী প্রকৌশলী আসছিলেন। তাহর সাথে কথা হয়েছে। ড্রেনের কাজ শেষ হলে অবৈধ স্থাপনা গুলো পর্যায়ক্রমে উচ্ছেদ করে কর্ম পরিকল্পনা অনুযায়ী ওইসব জমিগুলোর সঠিক ব্যবহার করা হবে। সড়কের জমি ব্যবহারের মাধ্যমে পৌরসভাকে সুন্দর করারও পরিকল্পনা রয়েছে।