উৎপল বিশ্বাস, নেহালপুর : মণিরামপুরে বিল কেদারিয়ায় মুক্তেশ্বরী নদীর ধসে যাওয়া সেই বাঁধ মেরামত করা হচ্ছে। রোববার থেকে মাছের ঘের মালিকদের উদ্যোগে দুইটি সুপার ৫ স্কেভেটর মেশিন দিয়ে এই মেরামত কাজ শুরু করা হয়। পানি উন্নয়ন বোর্ডের দাবি-এই বাঁধ তাদের আওতাধীন না। কিন্তু স্থানীয়দের দাবি-বছর প্রায় দেড় যুগ আগে পাউবো মুক্তেশ্বরী নদীর এই বাঁধ সংস্কার করে। পরবর্তিতে মুক্তেশ্বরী নদীর এই বাঁধ মাছের ঘেরের পাড় হিসেবে ব্যবহার করায় পাউবো আর সেদিকে নজর দেয়নি বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। গত রবিবার এই মুক্তেশ্বরী নদীর এই বাঁধ ধসে যাওয়ায় উপজেলার কমপেক্ষ ৫ গ্রামে ঢুকে পড়ে। এতে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়। সম্প্রতি টানা আকাশ বৃষ্টি ও উজানের ঢল ভবদহ স্লুইচগেট দিয়ে নিষ্কাশিত না হওয়ায় ভবদহ সংলগ্ন অর্ধশত গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। জলাবদ্ধতার শিকার হয়ে প্লাবিত হয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ শত শত মাছের ঘের। এতে পানি বন্দী হয়ে প্রায় এক লাখ মানুষ। এদিকে ১শ’ ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে নদী ও খালের ৮১.৫ কিলোমিটার খনন কাজ ভবদহ বিলের পাড়ের মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে আশা জাগিয়েছিল। কিন্তু বর্ষা মৌসুমে ফের জলাবদ্ধ হওয়ায় সেই আশা নিরাশায় পরিনত হয়েছে। বিশেষ করে আকস্মিক ভবদহ স্লুইচগেট দিয়ে পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় অভয়নগর, মণিরামপুর, কেশবপুর ও ডুমুরিয়া উপজেলার প্রায় ৫০টি গ্রাম সম্পূর্ণ ও আংশিক প্লাবিত হয়। আর মুক্তেশ্বরী নদীর বাঁধ ধ্বস নতুন করে ‘গোদের ওপর বিষফোঁড়া’ দেখা দেয়। অবশ্য দ্রুতই পাউবো কর্তৃপক্ষ পানি নিষ্কাশনের বাঁধার কারন চিহ্নিত করে। গত ২৫ জুলাই হতে থেকে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) খুলনা জেলার ডুমুরিয়া জেলার খর্ণিয়া ব্রিজ সংলগ্ন তেলেগাতী নদীর বুকে জমা পলি অপসারনে দুইটি ভাসমান ড্রেজার মেশিন দিয়ে কাজ শুরু করে। এতে ভবদহ স্লুইচগেট দিয়ে পানি নিষ্কাশনের প্রবাহ বৃদ্ধি পায়। প্লাবিত এলাকা হতে পানি কিছুটা নামতে শুরু করেছে দাবী পাউবো কর্তৃপক্ষের। স্থানীয় কুলটিয়া গ্রামের জয়ন্ত মল্লিক জানান, গত প্রায় দেড়যুগ আগে মুক্তেশ্বরী নদীর এই বাঁধ সংস্কার করে। পরে আজ অবধি আর পাউবো কর্তৃপক্ষ নজর দেয়নি। বাধ্য হয়ে মাছের ঘের মালিকরা দুইটি সুপার ৫ স্কেভেটর মেশিন দিয়ে মুক্তেশ্বরীর নদীর ধ্বসে যাওয়া সেই বাঁধ মেরামত করছে। পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ ব্যানার্জী দাবি করেন, ওই এলাকাটি তাদের (পাউবো’র) আওতাধীন না। যদি কেউ পাউবোর বাঁধ বলে, সেটি তাদের ব্যাপার।