নিজস্ব প্রতিবেদক : টানা সাত দিনের ঈদুল আজহার ছুটি শেষে বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য শুরু হয়েছে। তবে বন্দরে পুরোপুরি কর্মচাঞ্চল্য ফিরে আসতে আরও কয়েক দিন লাগবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। সোমবার (১ জুন) সকাল ৯টা থেকে শুরু হয় বেনাপোল ও ভারতের পেট্রাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি।
এদিকে ঈদের ছুটিতে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সাত দিন আমদানি-রফতানি বন্ধ থাকায় ওপারের পেট্রাপোল বন্দর এলাকায় তীব্র ট্রাকের জট সৃষ্টি হয়েছে। এক হাজারের বেশি পণ্যবাহী ট্রাক আটকে আছে।
বেনাপোল কাস্টম সূত্রে জানা গেছে, ঈদুল আজহা উপলক্ষে সাত দিন বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি বন্ধ ছিল। সোমবার সকাল থেকে দুই দেশের মধ্যে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম শুরু হলেও তা ধীরগতিতে চলছে। তবে দুই-এক দিনের মধ্যেই পুরোদমে কাজ শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান বনি বলেন, ‘দেশের ৮০ ভাগ শিল্প প্রতিষ্ঠানের কাঁচামালের পাশাপাশি বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্য আসে এই বন্দর দিয়ে। আমদানিকারকরা গ্রামে ঈদ করতে যাওয়ায় এখনও ঢাকায় তাদের অফিস খোলেননি। তাই বন্দর থেকে পণ্য খালাস তেমন নেয়া হচ্ছে না। পুরোপুরি কাজ শুরু হতে দুই-একদিন লেগে যাবে।’
ভারতের পেট্রাপোল বন্দরের ক্লিয়ারিং এজেন্ট স্টাফ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কার্তিক চক্রবর্তী জানান, বেনাপোল বন্দরে প্রবেশের অপেক্ষায় এক হাজারের অধিক পণ্যবাহী ট্রাক রাস্তায়, বন্দর এলাকায়, বন্দরের ট্রাক টার্মিনাল, পেট্রাপোল পার্কিং ও বনগাঁ পার্কিংয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
পেট্রাপোল বন্দরে আটকে থাকা ট্রাক ড্রাইভার অসিত সাহা জানান, আমরা সোমবার ভোর থেকে এখানে আটকে আছি। প্রচন্ড ট্রাকজট লেগেছে। কবে বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করব জানিনা। এই বন্দরে কমপক্ষে এক হাজারের বেশি ট্রাক আটকে রয়েছে বলে তিনি জানান।
বেনাপোল আমদানি রপ্তানিকারক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান জানান, সোমবার থেকে বন্দরের কার্যক্রম চালু হলেও অনেক ধীরগতির ছিল। আবার ভারতের পেট্রাপোল বন্দরে জট থাকায় পণ্যবাহী ট্রাক এপারে প্রবেশ করতে পারছে না।
বেনাপোল স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক মো. শামীম হোসেন বলেন, ‘ঈদের দীর্ঘ ছুটির পর আজ সকাল থেকে বন্দরে আমদানি-রফতানি শুরু হয়েছে। তবে পুরোদমে কাজ শুরু হতে দুই থেকে তিন দিন লাগবে। বন্দরে পণ্য জট কমাতে দ্রুত পণ্য খালাসের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তবে প্রচণ্ড গরমে বন্দর অভ্যন্তরে বা ওপেন ইয়ার্ডে হ্যান্ডেলিং শ্রমিকরা কাজ করতে হিমশিম খাচ্ছেন।’