Ad for sale 100 x 870 Position (1)
Position (1)

আজ থেকে বাজারে মিলবে সাতক্ষীরার আম

এখন সময়: বুধবার, ১৩ মে , ২০২৬, ১১:৫৬:১২ এম

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : ভৌগোলিক অবস্থান, আবহাওয়া এবং মাটির গুণাগুণের কারণে দেশের সর্বপ্রথম বাজারে উঠতে শুরু করেছে সাতক্ষীরার আম। জেলা প্রশাসন ও কৃষি অধিদপ্তরের আয়োজনে আজ ৫ মে থেকে গোবিন্দভোগ, গোপাল ভোগ, গোলাপ খাস, বোম্বাই, বৈশাখীসহ পরিপক্ক আম গাছ থেকে ছাড়ানোর মাধ্যমে বাজারজাতকরণ শুরু হচ্ছে । কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে এবছর সাতক্ষীরায় আমের বাম্পার ফলন হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ আর ঝড় ঝাপটার মধ্যে না পড়লে এবছর সাতক্ষীরায় ৭০ হাজার মেট্রিক টন আম উৎপাদন হবে। যা প্রায় সাড়ে ৩০০ কোটি টাকা বাজারজাত হবে হবে বলে মনে করছেন কৃষি বিভাগ। ফলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে সাতক্ষীরার উৎপাদিত আম। জেলা প্রশাসন ঘোষিত আম ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, ৫ মে সকাল থেকে গাছ থেকে আম ছাড়ানো শুরু হবে। একই সাথে সাতক্ষীরার বড় আমের হাট সুলতানপুরের বড়বাজারের আড়ত গুলোতে পাওয়া যাবে গোবিন্দভোগ, গোলাপ খাস, গোবিন্দভোগ, বোম্বাই, বৈশাখীসহ স্থানীয় জাতের দেশীয় আম। আর ১৫ মে হিমসাগর, ২৭মে ল্যাংড়া এবং আম্রপালি জাতের আম বাজারজাত করা যাবে ৫ জুন থেকে। আর মূলত এ কারণেই জেলার আম চাষি ও ব্যবসায়ীদের মাঝে এখন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। স্বাদে অন্যন্য হওয়ায় সাতক্ষীরার আমের চাহিদা ও জনপ্রিয়তা শীর্ষে। এ বছরও আমের রাজ্য সাতক্ষীরা থেকে গোবিন্দভোগ, হিমসাগর, ল্যাংড়া এবং আমরুপালিসহ ১০০ মেট্রিক টন আম ইউরোপ ও আমেরিকায় রপ্তানি হবে। যা থেকে প্রচুর পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করবে সরকার। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সাতক্ষীরার খামারবাড়ির তথ্য মতে, জেলায় আম বাগানের সংখ্যা ৩২০টি, চাষি ও ব্যবসায়ী রয়েছেন ৫০ হাজারের বেশি। এ বছর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭০ হাজার মেট্রিক টন, বিদেশে রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১০০ টন আম। পারকুকরালী এলাকার আম চাষি মোহাম্মদ আলী জানান, তার ২৫ লাখ টাকার আম বাগান বিক্রি হয়েছে। বাগানে এ বছর ফলন ভালো হয়েছে। শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ৪০ লক্ষাধিক টাকার আম বেচাবিক্রি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। এদিকে আম ব্যবসাকে ঘিরে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্যবাসায়ীরা অবস্থান নিয়েছেন সাতক্ষীরা শহরের বিভিন্ন এলাকায়। তারা বাজার ও বাগান ঘুরে দেখছেন। সাতক্ষীরা বড় বাজার কাঁচামাল ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সাধরাণ সম্পাদক আব্দুর রহিম বাবু বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা পরিস্থিতি বোঝার জন্য ঘুরছেন। এখনই দাম বলা যাবে না। তবে ২০০০ থেকে ২৫০০ টাকার মধ্যে পরিপক্ষ পাকা প্রতি মন গোবিন্দভোগ আম বিক্রি হতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। তবে ৫ মে সকাল থেকে প্রশাসন ঘোষিত ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আম বাজারে আসার পর জাত ও শ্রেণিভেদে কোন আম প্রতি মণ কত দামে বিক্রি হবে তখন বলা যাবে। সাতক্ষীরা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনির হোসেন জানান, এ বছর সাতক্ষীরা আমের বাম্পার ফলন হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঝর ঝাপটার কবলে না পড়লে কৃষকরা ব্যাপকভাবে লাভবান হবে। এবং সাড়ে ৩০০ কোটি টাকা এবার সাতক্ষীরার আম বেচাকেনা হওয়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া কোন অসাধু ব্যবসায়ী যেন বাজারে অপরিপক্ক কেমিক্যাল মিস্ত্রিত আম বিক্রি করতে না পারে সেজন্য’মাসজুড়ে আম ব্যবসায়ীদের অপতৎপরতা রোধে প্রশাসনিক তৎপরতা মাঠে থাকবে। ব্যবসায়ীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে কোনো প্রকার কেমিক্যাল-মিশ্রিত আম বাজারজাত করা যাবে না। ধরা পড়লে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতিমধ্যে অভিযান চালিয়ে ৩০ মেট্রিক টন কেমিক্যাল মিশ্রিত অপরিপক্ক আম ধ্বংস করা হয়েছে। নির্দেশনা একটাই: পরিপক্ব নিরাপদ বিষমুক্ত আম বাজারজাত করতে হবে।

Ad for sale 100 x 870 Position (2)
Position (2)
Ad for sale 225 x 270 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 225 x 270 Position (4)
Position (4)