মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি : মণিরামপুরে দাখিল পরীক্ষায় রাজগঞ্জ সিদ্দিকীয়া মডেল ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রের একটি কক্ষে ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগে কেন্দ্র সচিব, হল সুপার এবং দুই কক্ষ প্রত্যবেক্ষককে (কক্ষ পরিদর্শক) দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় বুধবার উপজেলা নির্বাহী অফিসার সম্রাট হোসেন তাদেরকে অব্যাহতি দেন। জানাযায়, দাখিল পরীক্ষায় রাজগঞ্জ সিদ্দিকীয়া মডেল ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রের ১২ নম্বর কক্ষে ৩৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। ২৬ এপ্রিল গণিত পরীক্ষার প্রথমার্ধে ৩০ মার্কের এমসিকিউ পরীক্ষার সময় ওই কক্ষে প্রত্যবেক্ষকের (পরিদর্শক) দায়িত্বে ছিলেন কালারহাট দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক (মৌলভী) আবু দাউদ ও গোবিন্দপুর তেঘরি আদর্শ মহিলা আলিম মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক (মৌলভী) আমিনুর রহমান। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে ৩৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে চারজন অনিয়মিত পরীক্ষার্থীকে সরবরাহ করা হয় নিয়মিত পরীক্ষার প্রশ্ন। আবার চারজন নিয়মিত পরীক্ষার্থীকে সরবরাহ করা হয় অনিয়মিত পরীক্ষার প্রশ্ন। ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ ভূল প্রশ্নের বিষয়টি কক্ষ প্রত্যবেক্ষকদের অবহিত করা হলেও তারা কোন কর্ণপাত করেনি। ফলে বাধ্য হয়ে ওই আটজন পরীক্ষার্থী ভূল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দেয়। বিষয়টি জানাজানি হলে তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়। তবে কক্ষ প্রত্যবেক্ষক আবু দাউদ ও আমিনুর রহমান জানান, অনিচ্ছাকৃত ভুলের বিষয়টি নজরে আসার পর অতিরিক্ত ২০ মিনিট সময় বাড়িয়ে সঠিক প্রশ্নে তাদের পুনরায় পরীক্ষা নেয়া হয়। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সম্রাট হোসেন বিষয়টি তদন্ত করতে উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মাসুদ হোসেনসহ ৩ জনকে দায়িত্ব দেন। একাডেমিক সুপারভাইজার জানান- তদন্তে কক্ষ প্রত্যবেক্ষক, কেন্দ্র সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। নির্বাহী অফিসার সম্রাট হোসেন জানান, দায়িত্বে অবহেলার দরুন কেন্দ্র সচিব রাজগঞ্জ সিদ্দিকীয়া মডেল ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আলম, হল সুপার হাজরাকাটি মহিলা আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আব্দুল আলিম, কক্ষ প্রত্যবেক্ষক আবু দাউদ ও আমিনুর রহমানকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে। নতুন করে কেন্দ্র সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মণিরামপুর মহিলা আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মহসিন আলী, হল সুপারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে খালিয়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসার সুপার আব্দুর রশিদকে।