বাঘারপাড়া প্রতিনিধি : বাঘারপাড়া উপজেলার ৬নম্বর দোহাকুলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু মোতালেব তরফদারের বিরুদ্ধে রাস্তার মাটি,গাছ ও রাস্তার ইট আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। প্রায় আধা কিলোমিটার রাস্তার পুরাতন ইট তুলে প্রায় ৩/৪ লাখ টাকা বিক্রি করে সম্পূর্ণটাই হজম করে দিয়েছেন তিনি। বিভিন্ন প্রকল্প থেকে এ রাস্তায় ইট বিছানো হয়। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসা ভুপালী’র সরকার সরেজমিনে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছেন।
বিভিন্ন সূত্রে জানাগেছে, খলশী গ্রামের ইউনিয়ন পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র থেকে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সরদার আবুল হোসেনের বাড়ি হয়ে রবিউলের পুকুর পর্যন্ত রাস্তার দৈর্ঘ্য প্রায় সাতশ পনের মিটার। সম্প্রতি এ রাস্তাটি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে এইচবিবি (ইটের দুই স্তর) করণের জন্য টেন্ডার হয়েছে। ঠিকাদারও নিয়োগ হয়েছে। দ্রুত কাজ শুরু হবে বলে জানাগেছে।
সাতশ’ পনের মিটার রাস্তার মধ্যে দুই অংশে প্রায় পাঁচশ মিটার রাস্তায় আগে থেকেই এক স্তরের ইট বিছানো ছিলো। বিভিন্ন প্রকল্প থেকে ধাপে ধাপে দুই অংশের রাস্তায় এক স্তরের ইট বিছানো হয়। টিআর, কাবিখা, কাবিটা, এডিপি ও ইউনিয়ন উন্নয়ন সহায়তা তহবিল থেকে এ সব প্রকল্প নেয়া হয়। ঠিকাদার ঐ রাস্তায় চলতি মাসেই এইচবিবি করণ করবে এমনটা জানতে পেরে চেয়ারম্যন আবু মোতালেব তরফদার দ্রুত ঐ রাস্তার ইট তুলে বিক্রি করে দেন। হিসাব মতে ঐ রাস্তায় ৪০ থেকে ৪২ হাজার ইট ছিলো। প্রতিটি ইট সাত থেকে সাড়ে সাত টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। যার মোট মূল্য প্রায় তিন লক্ষ টাকা।
একটি সূত্র জানিয়েছে, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কোনভাবেই রাস্তার ইট নিলাম ছাড়া ব্যাক্তিগতভাবে বিক্রি করতে পারেন না। বিষয়টি দণ্ডনীয় অপরাধ। রাস্তার ইট সরকারি সম্পদ এবং জনগণের টাকায় নির্মিত, যা সংরক্ষণ করা চেয়ারম্যানের দায়িত্ব। নতুন রাস্তা নির্মাণের ক্ষেত্রে পুরাতন ইট নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করতে হবে। যার জন্য প্রয়োজন হবে প্রশাসনিক অনুমতি। ক্ষেত্র বিশেষ ইউনিয়ন পরিষদের সভায় সিদ্ধান্ত নিয়ে রেজুলেশন করতে হবে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখাগেছে, রাস্তার দুই পাশের বসবাসকারীরা রাস্তার ইট ক্রয় করেছেন। তেমনই একজনের নাম আজগর আলী। তার স্ত্রী জানিয়েছেন, রাব্বানী নামক এক ব্যাক্তি রাস্তার ইট তোলার কাজে নিয়োজিত ছিলো। তার কাছ থেকে সাড়ে সাত টাকা দরে এক হাজার ছয়’শ ইট কিনেছেন। আট হাজার টাকা নগদে দিয়েছেন। বাকি টাকা ধান কাটারপর পরিশোধ করবেন। আজগর আলীর মত আরো ১০/১২ জন এ ইট ক্রয় করেছেন। এদের মধ্যে কেউ তিন’শ, কেউ পাঁচ’শ, আবার কেউ দুই হাজারও কিনেছেন। আর বেশিরভাগ ইট চেয়ারম্যান আবু মোতালেব ট্রলিতে করে দুরে বিক্রি করেছেন।
কথা হয় ইট ও বালি ব্যবসায়ী রাব্বানীর সাথে। তিনি জানান, চেয়ারম্যান তাকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন এক অংশের রাস্তার ইট বিক্রি করার জন্য। ঐ অংশের ইট বিক্রি করে রব্বানী এক লক্ষ টাকা দিয়েছেন চেয়ারম্যানকে।
অনুসন্ধানকালে বাঘারপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ভুপালী সরকারকে বিষয়টি অবহিত করা হয়। তিনি বিস্তারিত জানার পর এ প্রতিবেদককে ঘটনাস্থলেই থাকতে বলেন। প্রায় এক ঘন্টা পর ওই রাস্তায় পৌঁছান নির্বাহী অফিসার। এ সময় তিনি সরেজমিনে ইট ক্রয়কারীদের সাথে কথা বলেন। ঘটনার সত্যতা বুঝতে পেরে তিনি মুঠোফোনে ইউপি চেয়ারম্যান আবু মোতালেব তরফদারকে রাস্তায় আসতে বলেন। চেয়ারম্যান এ সময় কালক্ষেপন করতে থাকেন। পুনরায় মুঠোফোনে কথা বলেন নির্বাহী অফিসার। উপায়ান্তর না পেয়ে রাস্তায় আসেন আবু মোতালেব তরফদার। নির্বাহী অফিসারের জিজ্ঞাসাবাদে চেয়ারম্যান জানান- ইট তার হেফাজতে রেখেছেন। যা দিয়ে অন্য রাস্তায় কাজ করা হবে। হেফাজত করা ইট নির্বাহী অফিসার দেখতে চাইলে আবু মোতালেব তরফদার তখন নানা টালবাহানা শুরু করেন।
ঘটনাস্থলেই নির্বাহী অফিসারের উপস্থিতিতে বারবার চেয়ারম্যান আবু মোতালেবের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তিনি আকুতি মিনতি করে তার ভুল স্বীকার করে বলেন, এ রকম কাজ তিনি আর জীবনেও করবেন না। এ প্রতিবেদককে অনুরোধ করে বলেন এ বিষয়ে যেন কোন নিউজ না করা হয়।
এ বিষয়ে বাঘারপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ভুপালী সরকার জানান, সরেজমিনে তদন্ত করা হয়েছে। আরো অধিকতার তদন্ত করা হবে। আত্মসাতের প্রমান মিললে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।