মারুফ কবীর : ঈদকে সামনে রেখে দর্জি কারিগরদের যেন ফুরসত নেই। তাদের ব্যস্ততা চরমে। টেইলার্স মালিকরা জানান,বর্তমানে ছিটকাপড়ের দোকান ও তৈরি পোশাক কারিগরদের ব্যবস্ততা সবচেয়ে বেশি। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ক্রেতারা পছন্দের কাপড় কিনে দর্জির দোকানে আসছেন। এমনকি রমজানের শুরু থেকে বেশিরভাগ দর্জি কারখানাগুলোতে অতিরিক্ত কারিগর নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এখন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পোশাক ডেলিভারি দেয়া রড় চ্যালেঞ্জ। সোমবার সরেজমিনে দেখা যায়, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির আঁচ লেগেছে দর্জিবাড়িতেও। যেখানে উত্তাপ ছড়াচ্ছে মজুরি। ১২ রমজানের এসে মহাব্যস্ত হয়ে উঠেছে দর্জি কারিগররা। ২০ রোজার পর পোশাকের অর্ডার নেয়া বন্ধ করে দেবেন বলে জানিয়েছেন টেইলার্স মালিকরা। পোশাক তৈরির ব্যস্ততা চলবে চাঁদরাত পর্যন্ত। কারিগরেরা দিনরাত পরিশ্রম করে তৈরি করছেন নতুন পোশাক। তৈরি হচ্ছে শার্ট, প্যান্ট, পাজামা, পাঞ্জাবিসহ মেয়েদের বাহারি ডিজাইনের সব পোশাক। অন্যান্য পোশাকের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রায় ১শ’ টাকা করে বেড়েছে মজুরি। ডিজাইনের উপর নির্ভর করে নেয়া হচ্ছে মজুরি। মেয়েরা যেমন নিত্যনতুন বিভিন্ন ডিজাইনের পোশাক বানাতে আসছেন,তেমনি ঈদের সময় শার্ট-প্যান্টের চেয়ে ছেলেদের বেশি আগ্রহ পাঞ্জাবিতে। শহরের রানা টেইলার্সের প্রোপাইটর মো. রানা বলেন, আমরা আশা করছি যদি বিদ্যুতের সমস্যা না থাকে তাহলে সবাইকে সময়মতো কাপড় ডেলিভারি দিতে পারব। রোজার আগে থেকেই অর্ডার নেয়া শুরু হয়েছে। আরও কিছুদিন অর্ডার নেওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন তিনি। কাপুড়িয়াপট্টির মডার্ন টেইলার্সের প্রোপাইটর রুহুল আমিন বলেন, ঘরভাড়া, বিদ্যুৎ ও শ্রমিক খরচের পাশাপাশি অন্যান্য খরচ বেড়ে যাওয়ায় মজুরি বাড়াতে বাধ্য হতে হচ্ছে। এমনকি পোশাক তৈরির সাপোর্টিং সরঞ্জামের দামও বেড়েছে। আগে প্যান্টের মজুরি ৪ থেকে ৫শ’ টাকা নেয়া হলেও; এ বছর ৫শ’ থেকে সাড়ে ৫শ’ টাকা নেয়া হচ্ছে। সালোয়ার কামিজের মজুরি আগে ৩শ’ টাকা নেয়া হলেও এখন সাড়ে ৩শ’ থেকে ৫শ’ টাকা নেয়া হচ্ছে। সিনথেটিকক্সের থি-পিসের মজুরি (ইনারসহ) ৭শ’ টাকা পর্যন্ত। ৪শ’ টাকার পাঞ্জাবির মজুরি এবার সাড়ে ৫শ’ টাকা নির্ধারণ করেছে সমিতি।
এদিকে,ক্রেতারা বলছেন কেনা পোশাকের চাইতে বানানো পোশাক ভালো হয়। হামিদুল ইসলাম নামে এক কাস্টমার জানান, ঈদের সময় সবাই চায় নতুন পোশাক। তাই নিজের পছন্দমতো কাপড় গজ আকারে কিনে পছন্দমতো দর্জির দোকানে বানাতে এসেছি। টেইলার্সে আসা একজন ক্রেতা বলেন, প্রতি বছর নতুন কাপড় তৈরি করে পরি। অন্য বছরের তুলনায় এ বছর কাপড়ের ও তৈরি পোশাকের মজুরিও বেড়েছে। মুক্তা ইয়াসমিন নামে এক কাস্টমার বলেন, টেইলার্সে পোশাক ফিটিং, মন মতো ডিজাইনে বানানো যায়। প্রথম দিকে টেইলার্সে কাপড় বানাতে এসেছি, কারণ ২০ রোজার পর বেশির ভাগ টেইলার্স অর্ডার নেয় না।