কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে বহুল আলোচিত সাড়ে ৪ বছরের শিশু কন্যা তাবাসসুম হত্যার মূল আসামি আবু তাহেরকে (৩২) আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ কুষ্টিয়া থেকে তাকে আটক করে। তাহের পুলিশের কাছে স্বীকার করে-ধর্ষণের সময় শিশুটি চিৎকার করায় মুখে লুঙ্গি চেপে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। আটক তাহের কালীগঞ্জ উপজেলার ফরাসপুর গ্রামের মৃত শফি উদ্দীনের পুত্র। সে একটি সিগারেট কোম্পানীর বিক্রয় প্রতিনিধি। স্থানীয়রা জানিয়েছে সে একজন মাদকাসক্ত।
নিহত শিশুটির পিতা মহেশপুর ভৈরবা এলাকার নজরুল হোসেন কালীগঞ্জে একটি দর্জির দোকানের শ্রমিক ও মাতা হালিমা খাতুন ওয়েব ফাউন্ডেশনে চাকরি করেন। সেই সুবাদেই দীর্ঘদিন ধরে তারা কালীগঞ্জের বারবাজার এলাকার বাদেডিহি গ্রামে ভাড়া থাকতেন।
নিখোঁজের একদিন পর গত বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার বাদুড়গাছা গ্রামে আব্দুল জব্বার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পেছনের সেফটিক ট্যাংক থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
এদিকে- শিশু হত্যাকারীকে আটকের পর শুক্রবার দুপুরে কালীগঞ্জ থানায় প্রেসব্রিফিং করা হয়। প্রেস ব্রিফিংয়ে ঝিনাইদহ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহফুজুর রহমান জানান- গত ২৫ ফেব্রুয়ারি শিশুটি নিখোঁজ হয়। এ সংবাদ জানার পর পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধারে তৎপরতা শুরু করে। পরের দিন সকালে তার মরদেহ পাওয়া যায়। এরপর থেকেই হত্যার সাথে জড়িতদের ধরতে ব্যাপক অভিযান শুরু করে পুলিশ। তিনি বলেন, সম্পূর্ণ ক্লুলেসহীন এ হত্যার ঘটনায় খুব অল্প সময়ের মধ্যে পুলিশ হত্যাকারীকে শনাক্ত করে। এবং বৃহস্পতিবার রাতে হত্যাকারী আবু তাহেরকে কুষ্টিয়ায় তার ভাইয়ের বাসা থেকে কুষ্টিয়া পুলিশের সহযোগিতায় আটক করে। পুলিশ জানায়, নিহত শিশুটির সুরতহাল রিপোর্ট ও ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হলে ডাক্তাররা জানান ধর্ষণের অনেক আলামত দেখা গেছে। সে ধর্ষণের পর হত্যার শিকার হতে পারে।
এদিকে প্রেস ব্রিফিং শেষে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও থানার ওসিসহ পুলিশ সদস্যদের একটি টিম আটক তাহেরকে নিয়ে আলামত উদ্ধার অভিযানে নামেন। তারা দুপুর ১২ টার দিকে তিন গাড়ি পুলিশ ও স্থানীয় সাংবাদিকদের নিয়ে উপজেলার সিংগি বাজার সংলগ্ন নদীর পাড়ে যায়। সেখানে নদীতে ফেলা শিশুটিকে শ্বাসরোধে হত্যায় ব্যবহৃত লুঙ্গি ও নদীর পাশ থেকে শিশুটির ব্যবহৃত ১টি স্যান্ডেল উদ্ধার করে। এরপর একই এলাকার একটি পানবরজ থেকে আরো একটি স্যান্ডেল উদ্ধার করা হয়।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জেল্লাল হোসেন জানান, তাবাস্সুম নামে সাড়ে চার বছরের কন্যা শিশুর লাশ উদ্ধারের ২৪ ঘন্টার মধ্যে ঘাতককে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে তাদের সুরতহাল রিপোর্টে ধর্ষণের আলামত দেখা গেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে ঘাতককে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে চাঞ্চল্যকর শিশু তাবাসসুম হত্যায় জড়িত আবু তাহেরের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে শুক্রবার জুম্মার নামাজ শেষে বারোবাজারে মানববন্ধন করেছে কয়েকশ’ মানুষ।