Ad for sale 100 x 870 Position (1)
Position (1)

❒ঈদ বাজার

বেশি দামেও ছিট কাপড়ের বিক্রি বেড়েছে

এখন সময়: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি , ২০২৬, ০১:২৩:৪৩ এম

মারুফ কবীর : সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়ে মুখর হয়ে উঠেছে শহরের প্রধান বাজারগুলো। দোকান থেকে দোকানে ঘুরে ক্রেতারা পছন্দের পোশাক কিনছেন। আর ক্রেতা সমাগম দেখে সন্তুষ্ট বিক্রেতারাও। শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় ঈদ বাজারে ভিড় ছিলো বেশি। পরিবার-পরিজন নিয়ে কেনাকাটায় ব্যস্ত ক্রেতারা। বিশেষ করে বিকেল ও ইফতারের পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ভিড় ছিলো চোখে পড়ার মতো। বিক্রেতারা জানান, যশোর শহরের ছিট কাপড়ের দোকানে প্রাণচাঞ্চল্য দেখা যাচ্ছে। অনেকেই একসঙ্গে পরিবারের সবার জন্য ম্যাচিং কাপড় কিনছেন। এদিকে, ছিট কাপড়ের বিক্রি বাড়ার প্রভাব পড়েছে দর্জি দোকানগুলোতেও। এখন থেকেই অনেকেই কাপড় কিনে মাপ দিয়ে যাচ্ছেন টেইলার্সে। টেইলার্স মালিকরা জানান, রমজানের দ্বিতীয় সপ্তাহে অর্ডারের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। তাই আগেভাগে অর্ডার নেওয়ার চেষ্টা চলছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, রমজানের ঈদে পাঞ্জাবি কিংবা মহিলাদের থ্রি পিসের ছিট কাপড়ের সাথে শার্ট ও প্যান্টের ছিট কাপড়ও বিক্রি হচ্ছে। এবছর শার্ট এবং প্যান্টে কাপড়ের মুল্য অনেক চড়া। যেখানে দেশি একটি শার্টের ছিট কাপড়ের মূল্য প্রতি পিস ৪শ’ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২৫শ’ টাকা। আবার ভারতীয় একটি শার্টের কাপড়ের পিসের মূল্য সর্বনিম্ন ৭শ’ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ২ হাজার টাকা পর্যন্ত। প্যান্টের পিসের মূল্য সাড়ে ৫শ’ টাকা থেকে শুরু করে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত। ঝিলিক দোকানের বিক্রেতা বাবু বলেন, ভারতীয় ডায়মন্ড, রেমন রে অ্যান্ড টেইলার্স ও এসআরএস ব্র্যান্ডের শার্ট-প্যান্ট বিক্রি হচ্ছে ভালো। পাশাপাশি ভারতীয় ও পাকিস্তানি কাপড়ের পাঞ্জাবির চাহিদাও রয়েছে। শহরের কাজীপাড়া এলাকার গৃহিণী শাহিদা রহমান বলেন, ভিড় এড়াতে রমজানের শুরুর দিকে বাজারে এসেছি। মেয়ের জন্য সিল্কের ওপর কাজ করা গজ কাপড় আর নিজের জন্য চায়না লিলেন কাপড় নিয়েছি। কলেজছাত্রী পুতুল বলেন, এবার ডিজিটাল প্রিন্টের কাপড় খুব সুন্দর এসেছে। রঙগুলোও উজ্জ্বল। আমরা বান্ধবীরা মিলে একসঙ্গে কাপড় কিনতে এসেছি। তবে গজ কাপড়ের দাম অনেক বেড়েছে। ক্রেতা বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে কাপড়ের দাম তুলনামূলক বেশি হলেও কেনাকাটায় দাম কোনো বাধা হচ্ছে না। তবে অনেকে আবার বোনাস পাওয়ার পরে কেনাকাটা করেন। কয়েকদিন গেলেই মানুষের ভিড়ে মার্কেটগুলো আরও জমে উঠবে। চাকরিজীবীরা বোনাস পেলে বেচাকেনা আরো বাড়বে। এবছর প্রতিটি গজ কাপড়ের দাম বেড়েছে ৫০ থেকে ১শ’ টাকা। বিদেশি শার্ট-প্যান্টের পিসে গজ প্রতি ৫০ থেকে ১৫০ টাকা বেড়ছে। পায়জামা-পাঞ্জাবির কাপড়ের গজ প্রতি প্রকার ও মানভেদে বেড়েছে ৫০ থেকে ২শ’ টাকা। দেশি-বিদেশি সালোয়ার কামিজের কাপড়ে দাম বেড়েছে ৫০ থেকে ১শ’ টাকা। ক্রেতা রেশমা কবীর জানান, আগে ভাগে নিজের জন্য টু-পিস এবং ওড়না কাপড় কিনলাম। কাপড় কিনে পছন্দমত পোশাক তৈরি করার মজা আলাদা। দর্জিরাতো কয়েক দিন পর অর্ডার নেবে না। আনোয়ার হোসেন নামে এক ক্রেতা বলেন, আমার পাঞ্জাবি পছন্দ। পাঞ্জাবির পিস কিনতে আসছি। পছন্দমত কিনেছি। কয়েক দিন পরেতো টেইলার্সে সিরিয়াল হবে না। তাই আগেই ছিট কাপড় কিনতে আসছি। লতিফ ক্লথ স্টোরের বিক্রয় প্রতিনিধি সাজেদুল জানান, যশোরের পুরাতণ ছিট কাপড়ের দোকানের মধ্যে আমাদের দোকান অন্যতম। রমজানের শুরুতে সিট কাপড় বিক্রি শুরু হয়। যে কারনে দিন যত যাচ্ছে বেচা-বিক্রি বাড়ছে। রোজা ১৫টির পরে ছিট কাপড়ের চাহিদা একটু কমতে পারে। কারণ টেইলার্সে ১৫ থেকে ২০ রমজান থেকে অর্ডার নেয়া বন্ধ হয়ে যায়।
যশোর শহরের বড়বাজারে ছিট কাপড়ের দোকান জিকো কর্পোরেশনের বিক্রয় কর্মী আলী হোসেন বলেন, বেচাকেনা ভোলো। মেয়েদের ছিট কাপড়ের মধ্যে সুতি ৮০ থেকে ১৫০ টাকা গজ, লিলেন ১শ’ থেকে ১৮০ টাকা গজ, চায়না লিলেন ১৫০ থেকে ২০০, নেট কাপড় ৩০০ থেকে ৫০০, নেটের ওপর পাথরের কাজ ৫০০ থেকে ৮০০,অরগেঞ্জা ১৬০ থেকে ৫০০, সিল্ক ১৫০ থেকে ২৫০ টাকা গজ। যশোর শহরের এইচ এম রোডের প্রসিদ্ধ কয়েকটি দোকান ঘুরে দেখা যায়, মানভেদে দেশি পাঞ্জাবির কাপড়ের প্রতি গজের মূল্য ১৬০ থেকে ৪শ’ এবং ৪৫০ টাকার বেশি। আবার পাঞ্জাবির ভারতীয় কাপড়ের প্রতি গজের মূল্য ৬শ’ থেকে ৬৫০ টাকা। মহিলাদের (ম্যাচিং করা) এক সেট দেশিয় ওড়ান, স্যালোয়ারসহ কামিজের মূল্য এক হাজার ৬শ’ থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত। আবার সেখানে ভারতীয় কাপড়ের মূল্য সর্বনিম্ন ৩ হাজার টাকা। ছিট কাপড়ের পাশাপাশি টেইলার্সে পোশাক তৈরির মজুরিও বেড়েছে। কাপুড়িয়াপট্টির মডার্ন টেইলার্সের প্রোপাইটর রুহুল আমিন বলেন, ঘরভাড়া, বিদ্যুৎ ও শ্রমিক খরচের পাশাপাশি অন্যান্য খরচ বেড়ে যাওয়ায় মজুরি বাড়াতে বাধ্য হতে হচ্ছে। আগে প্যান্টের মজুরি ৪ থেকে ৫শ’ টাকা নেয়া হলেও; এ বছর ৫শ’ থেকে সাড়ে ৫শ’ টাকা নেয়া হচ্ছে। সালোয়ার কামিজের মজুরি আগে ৩শ’ টাকা নেয়া হলেও এখন সাড়ে ৩শ’ থেকে ৫শ’ টাকা নেয়া হচ্ছে। সিনথেটিকক্সের থি-পিসের মজুরি (ইনারসহ) ৭শ’ টাকা পর্যন্ত। ৪শ’ টাকার পাঞ্জাবির মজুরি এবার সাড়ে ৫শ’ টাকা নির্ধারণ করেছে সমিতি।

Ad for sale 100 x 870 Position (2)
Position (2)
Ad for sale 225 x 270 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 225 x 270 Position (4)
Position (4)