তথ্য অধিকার আইনে আবেদন

বাঘারপাড়া কৃষি অফিস থেকে তথ্য নিতে ২০ হাজার টাকা পরিশোধের চিঠি!

এখন সময়: বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন , ২০২৪, ০৭:৩০:১৩ এম

 

 

বাঘারপাড়া (পৌর) প্রতিনিধি: যশোরের বাঘারপাড়ায় তথ্য পেতে আবেদনকারীকে ২০ হাজার টাকা মূল্য পরিশোধের চিঠি দিয়েছে উপজেলা কৃষি অফিস।

ব্যাংক চালানের মাধ্যমে ওই পরিমাণ টাকা পরিশোধ করতে বলা হয়েছে চিঠিতে। গত ২০ মার্চ তথ্য অধিকার আইনে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেন শালবরাট গ্রামের শান্ত দেবনাথ। মঙ্গলবার সকালে কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয়ের এক কর্মচারীর মাধ্যমে তথ্যের মূল্য পরিশোধের চিঠি পেয়েছেন তিনি। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা তরুণ রায় চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন। অথচ মূল্য পরিশোধের কথা বলা হলেও চাহিদা অনুযায়ী তথ্য প্রস্তুত করা হয়নি। 

তথ্য অধিকার আইন ২০০৯ এর ৮ ধারার (৪) উপ-ধারা(১) এ বলা হয়েছে, তথ্য প্রাপ্তির ক্ষেত্রে অনুরোধকারীকে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার মাধ্যমে তথ্যের জন্য নির্ধারিত ও যুক্তিসংগত মূল্য পরিশোধ করতে হবে। বিধি-৮ এ  বলা হয়েছে, লিখিত কোনো ডকুমেন্টের কপি সরবরাহের জন্য (ম্যাপ, নকশা, ছবি, কম্পিউটার প্রিন্টসহ) এ-৪ ও এ-৩ মাপের কাগজের ক্ষেত্রে প্রতি পৃষ্ঠা দুই টাকা হারে এবং তদুর্ধ সাইজের কাগজের ক্ষেত্রে তথ্য প্রাপ্তির অনুরোধ ফি বা তথ্যের মূল্য পরিশোধযোগ্য হবে।

গত ১৮ এপ্রিল স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে,  আপনি গত ২০ মার্চ তথ্য প্রাপ্তির জন্য অত্র দপ্তরে আবেদন করেন। সব তথ্য প্রস্তুতের জন্য সময় প্রয়োজন। তথ্য প্রস্তুত সাপেক্ষে পর্যায়ক্রমে তথ্য দেয়া হবে। তথ্য প্রাপ্তির জন্য আপনি তথ্য অধিকার আইনের ৮(৪) ধারা মোতাবেক ২০ হাজার টাকা সরকারি চালানে জমাদান  করে অত্র দপ্তর থেকে আবেদনকৃত তথ্য সংগ্রহ করতে পারবেন।

শান্ত দেবনাথ জানান, বাঘারপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে তথ্য অধিকার আইনের ‘ক’ ফরমে বিভিন্ন তথ্য চেয়ে গত ১৮ মার্চ আবেদন করেছিলাম। আবেদনপত্রটি ডাক বিভাগের মাধ্যমে প্রেরণ করি। আবেদনপত্রে বাঘারপাড়া উপজেলায় ২০২৩-২০২৪ অর্থবছর খরিপ-১, খরিপ-২ এবং রবি মৌসুম কোন কোন প্রকল্পের আওতায় কী কী ফসলের প্রদর্শনী দেয়া হয়েছে, প্রকল্পগুলোর নাম, প্রদর্শনীতে দেয়া ফসলের নাম, ফসল অনুসারে প্রদর্শনীর জন্য বরাদ্দ বীজ, সার ও নগদ টাকার পরিমাণ (খাতওয়ারী), কৃষক প্রতি প্রশিক্ষণ ভাতা ও নাস্তার টাকার পরিমাণ, প্রদর্শনী পাওয়া কৃষকের নাম, ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর; উপজেলায় ২০২৩-২০২৪ অর্থবছর খরিপ-১, খরিপ-২ এবং রবি মৌসুম কোন কোন প্রকল্পের আওতায় কী কী ফসলের প্রদর্শনীর মাঠ দিবস পালন করা হয়েছে, প্রতিটি মাঠ দিবসে বরাদ্দ টাকার টাকার পরিমাণ(খাত ওয়ারী), মাঠ দিবসে অংশগ্রহণকারী কৃষকের নাম, ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর এবং উপজেলায় ২০২৩-২০২৪ অর্থবছর কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় কোন মাঠে বোরো হাইব্রিড ধানের ‘সমলয়’ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে, কতো বিঘা জমিতে এই প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে, প্রকল্প বরাদ্দের পরিমাণ, প্রকল্প সুনির্দিষ্টভাব আলাদাভাবে খাত ওয়ারী বরাদ্দের পরিমাণ, সুফলভাগী কৃষকের নাম, ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর চাওয়া হয়।

তথ্য প্রাপ্তির আবেদনকারী শান্ত দেবনাথ বলেন, চিঠি পেয়ে অবাক হয়েছি। তথ্য না দেয়ার জন্য এই চিঠি দেয়া হয়েছে। আমি আপিল কর্তৃপক্ষের কাছে আপিল করবো।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ও দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তরুণ রায় সাংবাদিকদের বলেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বর্তমানে মাতৃত্বকালীন ছুটিতে আছেন। তথ্য প্রাপ্তির আবেদনটি সেই সময়ে করা। আমি কৃষি কর্মকর্তার সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা বলেছি। তার নির্দেশনা অনুযায়ী, তথ্য প্রাপ্তির অনুরোধকারীকে চিঠি দেয়া হয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে আমি চিঠিতে স্বাক্ষর করেছি মাত্র। বিষয়টি নিয়ে আমি ঊর্ধ্ব কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলবো।