Ad for sale 100 x 870 Position (1)
Position (1)

ভিজিএফ কার্ড ভাগাভাগি নিয়ে শৈলকুপায় বাকবিতণ্ডা : সংঘর্ষে আহত ৪০, আটক ১৫

এখন সময়: শুক্রবার, ১৩ মার্চ , ২০২৬, ১০:৫১:০৪ পিএম

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি : ঝিনাইদহের শৈলকুপায় ভিজিএফ চালের কার্ড বিতরণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের চরগোলকনগর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। আহত ব্যক্তিদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এদিকে আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গ ও সংঘর্ষের ঘটনায় ১৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার সকালে উপজেলার চর গোলকনগর গ্রামসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।
স্থানীয়রা এবং শৈলকুপা থানা পুলিশ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ভিজিএফ কার্ড বিতরণের সময় মির্জাপুর ইউনিয়নের চরগোলকনগর গ্রামে ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সায়েম মণ্ডলের সঙ্গে যুবদল নেতা শামীম কথা বলতে যান। শামীম তার সমর্থকদের জন্য কিছু কার্ড দাবি করলে সায়েম মণ্ডলের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। শামীমের অভিযোগ, এ সময় সায়েম মণ্ডলের লোকজন তাকে মারার হুমকি দেয় এবং খুঁজতে থাকে।
এই ঘটনার খবর পেয়ে দুপুরে পুলিশ এলাকায় আসে। এ সময় এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বিষয়টি মিটিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেন। সন্ধ্যায় স্থানীয় বিএনপি নেতাদের মধ্যস্থতায় একটি সমঝোতা বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে বাড়ি ফেরার পথে উভয় পক্ষ আবার সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। উভয় পক্ষ ঢাল, রামদা, লাঠিসোঁটা ও ইটপাটকেলসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে পরস্পরের ওপর হামলা করে। রাত ৮টা থেকে শুরু হয়ে প্রায় ১১টা পর্যন্ত থেমে থেমে এই সংঘর্ষ চলে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৪০ জন আহত হন।
আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সংঘর্ষ চলাকালে গ্রামের বেশ কিছু বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ হিমশিম খায়। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ প্রচেষ্টায় রাত সাড়ে ১১টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
যুবদল নেতা শামীম বলেন, ‘ওয়ার্ড সভাপতি হিসেবে সায়েম মণ্ডলের কাছে অনেকগুলো কার্ড ছিল। আমি আমার কিছু সমর্থকের জন্য কার্ড চাইলে তিনি আমার সঙ্গে অত্যন্ত খারাপ ব্যবহার করেন এবং তার লোকজন আমাকে হুমকি দেন। সমঝোতা বৈঠকের নামে তারা আমাদের ওপর হামলা করেছেন।’
অন্যদিকে ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি সায়েম মণ্ডল পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, ‘আমি নিয়ম অনুযায়ী সবাইকে কার্ড ভাগ করে দিয়েছি। কিন্তু শামীম যুবদল করে, সে আমার সঙ্গে মূল দল (বিএনপি) করে না, তাই তাকে কার্ড দিইনি।’
এ বিষয়ে শৈলকূপা উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন বাবর ফিরোজ বলেছেন, যারাই দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করবে, তাদের বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে সর্বোচ্চ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা বিঘ্ন ঘটে, এমন কাজে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পুলিশ প্রশাসনকে নির্দেশনা ও পরামর্শ দেয়া হয়েছে। আমরা বলেছি, অপরাধী যেই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, সংঘর্ষের পরে শুক্রবার মির্জাপুর ইউনিয়নের ওয়ার্ড বিএনপি’র সভাপতি সায়েম আলী ও যুবদল নেতা শামীম লস্কর বাদি হয়ে শৈলকূপা থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দায়ের করেন। লিখিত অভিযোগপত্রে উভয়পক্ষই একে অপরের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি করেন।
অভিযোগের পর পুলিশ উভয়পক্ষের অন্তত ১৫ জনকে আটক করেছে। আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন, মির্জাপুর ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি হুমায়ুন কবির মুক্তি, ৪ নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সভাপতি সায়েম আলী, যুবদল নেতা শামীম লস্কর, মহিদুল ইসলাম, পান্না মিয়াসহ ১৫ নেতা-কর্মী।
শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ন কবির মোল্লা বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত আছে এবং সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। চর গোলকনগর গ্রামে সংঘর্ষের ঘটনায় উভয়পক্ষের লোকজন থানায় অভিযোগ জমা দিয়েছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে ১৫ জনকে আটক করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলার অবনতি যে বা যারাই ঘটাবে, তাদের বিরুদ্ধেই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি প্রয়োগ করা হবে।

Ad for sale 100 x 870 Position (2)
Position (2)
Ad for sale 225 x 270 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 225 x 270 Position (4)
Position (4)