নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে যশোর সদর উপজেলা চাঁনপাড়ায় নিজের বৈধভাবে কেনা জমি দখলের চেষ্টা, সীমানা প্রাচীর ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ করেছেন সাবেক সেনা সদস্য আবুল কালাম আজাদ। বুধবার প্রেসক্লাব যশোরে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন। লিখিত বক্তব্যে আবুল কালাম আজাদ বলেন, চাকরিজীবনের সঞ্চয় দিয়ে গত ৮ জানুয়ারি যশোর সদর থানার চাঁনপাড়া মৌজার ৭০১ ও ৭০২ নম্বর দাগের ৯ দশমিক ৩৭ শতক জমি সুজনের কাছ থেকে রেজিস্ট্রি দলিলের মাধ্যমে কেনেন তিনি। পরবর্তীতে তার নামে নামজারিও অনুমোদন হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, জমিতে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের সময় স্থানীয় কয়েকজন তাকে বাধা দেন। পরে সমঝোতার মাধ্যমে প্রাচীর নির্মাণ করেন। একপর্যায়ে বিএনপি নেতা বিএম এলোম হোসেন রানা জমি বিক্রেতা সুজনের মৃত চাচার স্ত্রী হনুফা বেগমকে দিয়ে জমিতে অংশীদারিত্বের দাবি তুলে ১৪৪ ধারায় মামলা করান। আবুল কালাম আজাদ বলেন, মামলাটি তদন্ত করে পুলিশ আদালতে প্রতিবেদন দিয়েছে। ওই প্রতিবেদনে জমিটি তার দখলে থাকার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। তার অভিযোগ, গত ২২ আগস্ট হনুফা খাতুন, তার ছেলে রায়হান ওরফে রকি, রিফাত, গোলাম নবী, আসাদুল্লাহ, রফিকুল ও বিপুলসহ কয়েকজন তার জমিতে ঢুকে শ্রমিকদের বের করে দেন এবং সীমানা প্রাচীর ভাঙচুর করেন। এ সময় তাকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়। এ ঘটনায় তিনি কোতোয়ালী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে ‘অবৈধ ক্রেতা’, ‘সন্ত্রাসী’ ও ‘ভূমিদস্যু’ আখ্যা দিয়ে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ করেন তিনি। গত ৫ সেপ্টেম্বর বিএম এলোম হোসেন রানা আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনেও তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন আবুল কালাম। সংবাদ সম্মেলনে তিনি জমির সীমানা প্রাচীর ভাঙচুরের নিরপেক্ষ তদন্ত, হামলা-ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকির ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনা, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্তভাবে তার সম্পত্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে বিএনপি নেতা বিএম এলোম হোসেন রানা ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান সাবেক এই সেনা সদস্য। আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমি কারও জমি দখল করতে চাই না। আমি শুধু আমার বৈধ সম্পত্তির অধিকার ও নিরাপত্তা চাই।