নিজস্ব প্রতিবেদক : ২১ বছর পর বড় বরাদ্দ পেল যশোর শামস্-উল-হুদা স্টেডিয়াম। স্টেডিয়ামটির উন্নয়নে অর্থ মন্ত্রণালয় ৩৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপসচিব উম্মে ইসরাত স্বাক্ষরিত একটি চিঠি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নির্বাহী পরিচালকের কাছে পাঠানো হয়েছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এবং যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অনিন্দ্য ইসলাম অমিত যশোর শামস্-উল-হুদা স্টেডিয়ামের উন্নয়নকাজের জন্য ৩৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা বরাদ্দ হওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে কোন ধরণের উন্নয়নকাজ না হওয়ায় স্টেডিয়ামটি পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। জেলার ক্রীড়াঙ্গনও স্থবির হয়ে পড়েছিল। এখন স্টেডিয়ামটি আধুনিক করে গড়ে তুলে যশোরের ক্রীড়াঙ্গনের অতীতের গৌরব ফিরিয়ে আনা হবে। ১৯৬৪ সালে নির্মিত যশোর শামস-উল-হুদা স্টেডিয়ামে একসঙ্গে ১৫ হাজার দর্শক গ্যালারিতে বসে খেলা উপভোগ করতে পারে। কিন্তু ২০০৫ সালের পর গত ২১ বছরে এ স্টেডিয়ামটিতে কোন ধরণের উন্নয়নকাজ না হওয়ায় তা একরকম ভাগাড়ে পরিণত হয়। দুই দশক ধরে এখানে কোন প্রতিযোগিতামূলক খেলাও অনুষ্ঠিত হতে পারেনি। তারওপর ২০২২ সালের ২৪ নভেম্বর তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের পলাতক প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভার জন্য ভেঙে ফেলা হয় স্টেডিয়ামটি উত্তর পাশের গ্যালারি। সে সময় প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল, স্টেডিয়ামটির উন্নয়নে বড় ধরণের বরাদ্দ দেয়া হবে। এরপর দুই বছর পার হয়ে গেলেও তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার সে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেনি। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার ছয় মাস যেতে না যেতেই ৬২ বছরের পুরনো যশোরের এ স্টেডিয়ামটি উন্নয়নে বড় ধরণের বরাদ্দ দেয়ায় জেলা ক্রীড়ামোদীদের মাঝে আনন্দের বন্যা বয়ে যাচ্ছে। জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ক্রিকেটার এমএ আকসাদ সিদ্দিকী শৈবাল বলেন, গত দুই দশক ধরেই যশোরের ক্রীড়াঙ্গনে বন্ধাত্ব চলছিল। আমরা আশা করেছিলাম, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এমপি হলে যশোর স্টেডিয়ামের আধুনিকায়নে ব্যবস্থা নেবেন। বিএনপি সরকার গঠনের পর অল্পসময়ের মধ্যেই তিনি তার সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেছে। এতে আমরা যশোরের ক্রীড়া সংগঠক, ক্রীড়ামোদী ও খেলোয়াড়রা অত্যন্ত আনন্দিত। এই বরাদ্দ অনুমোদন করায় সরকার, ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ও সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।