Ad for sale 100 x 870 Position (1)
Position (1)

সৌরবিদ্যুতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা তৈরি সম্ভব হবে : সংসদে প্রতিমন্ত্রী

এখন সময়: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর , ২০২৬, ১১:১১:২৬ পিএম

স্পন্দন ডেস্ক : ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের অন্তত ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে পাওয়ার লক্ষ্য ঠিক করার কথা বলেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে একটি নোটিসের জবাবে প্রতিমন্ত্রী সৌরবিদ্যুৎ থেকে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়ার কথাও বলেন। সংরক্ষিত নারী আসনের সরকার দলীয় সংসদ সদস্য হেলেন জেরিন খানের একটি মনোযোগ আকর্ষণ নোটিস দেন। তার জবাবে অনিন্দ্য ইসলাম সরকারের এ সংক্রান্ত পরিকল্পনা তুলে ধরেন। সরকার সৌরবিদ্যুৎকে নতুন কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র হিসেবে দেখছে বলেও তুলে ধরেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ছোট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের মাধ্যমে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা তৈরি করা সম্ভব হবে। বিশেষ করে তরুণদের এ খাতে উদ্যোক্তা হিসেবে যুক্ত করতে সরকার অর্থায়নের ব্যবস্থা করতে চায়। সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে, বলেন তিনি। প্রতিমন্ত্রী অমিত বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও শিল্পায়নের বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৩০ সালে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ২৪ হাজার থেকে ২৫ হাজার মেগাওয়াটে পৌঁছাতে পারে। এ চাহিদা বিবেচনায় আমদানি করা জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এ জন্য সরকার ‘জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র ২০২৬-২০৩০’ প্রণয়ন করেছে। কৌশলপত্র অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের অন্তত ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে অন্তত ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে পাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। বাংলাদেশের বাস্তবতা ও সম্ভাবনা বিবেচনায় ২০৩০ সাল পর্যন্ত ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৫ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট এবং ভূমিভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৪ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট উৎপাদনের লক্ষ্য নেওয়ার কথা বলেছেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী। এর বাইরে বায়ু, বর্জ্য, পানিবিদ্যুৎ, ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ ও ‘অ্যাগ্রিভোল্টাইক’সহ অন্যান্য প্রযুক্তি থেকে ৪৫০ থেকে ৫৫০ মেগাওয়াট উৎপাদনের পরিকল্পনার কথা বলেন তিনি। ‘অ্যাগ্রিভোল্টাইক’ হচ্ছে একই জমিতে কৃষিকাজের পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবস্থা। সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের খরচ কমাতে প্যানেল, ইনভার্টার, ব্যাটারি ও প্রয়োজনীয় কাঠামো আমদানিতে কর সুবিধা দেওয়ার কথাও বলেছেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, এসব সরঞ্জামের ক্ষেত্রে এক শতাংশ করের সুবিধা রাখা হয়েছে। এর পাশাপাশি বাণিজ্যিক আমদানিকারকদের জন্য ছয় মাসের বিশেষ ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রজ্ঞাপন জারির পর ১৮০ দিন পর্যন্ত সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ আমদানিতে এক শতাংশের অতিরিক্ত কাস্টমস ডিউটি, রেগুলেটরি ডিউটি, সম্পূরক শুল্ক, মূল্য সংযোজন কর, আগাম কর ও অগ্রিম আয়কর থেকে পূর্ণ অব্যাহতি দেওয়া হবে। অনিন্দ্য ইসলাম বলেন, ছোট ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকদের মাধ্যমে সৌরবিদ্যুতের সরঞ্জাম তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দিতে এ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। ছোট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে উৎপাদিত উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের সুযোগও রাখা হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনকারীরা নিজেদের প্রয়োজন মেটানোর পর উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে দিলে সরকার প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে তা কিনবে। আগামী গ্রীষ্মের আগে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে বিনিয়োগ বাড়াতেই এ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, বলেন তিনি। বড় সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনে জমির খরচ কমাতে সরকারি অব্যবহৃত জমি ব্যবহারের পরিকল্পনা কথা তুলে ধরে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরকে তাদের অব্যবহৃত জমির তালিকা দিতে বলেছিলেন। যেসব জমি বর্তমানে ব্যবহার হচ্ছে না এবং আগামী ২০ থেকে ২৫ বছরেও ব্যবহারের সম্ভাবনা কম, সেগুলো চিহ্নিত করতে বলা হয়। তিনি বলেন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় প্রথমে প্রায় ৬০ হাজার একর জমির তথ্য দেয়। সেখান থেকে যাচাই-বাছাই করে প্রায় ৩০ হাজার একর জমি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে। বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেন, এসব জমি বিনিয়োগকারীদের বরাদ্দ দেওয়ার কাজ করবে বিনিয়োগ উন্নয়ন ও সহায়তা সংস্থা ইনভেস্ট বাংলাদেশ। সরকার জমি দেবে এবং বেসরকারি বিনিয়োগকারী সেখানে অর্থ ও প্রযুক্তি নিয়ে আসবেন। পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ বা পিপিপি পদ্ধতিতে এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। জমি চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে কাছাকাছি বিদ্যুৎ বিতরণ ও সঞ্চালন লাইনের সক্ষমতাও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। সম্পূরক প্রশ্নে হেলেন জেরিন খান জানতে চান, জেলাভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের উপযোগী জমি ও ছাদের মানচিত্র প্রকাশ করা হবে কি না। তিনি বড় নদীর জলরাশির ওপর ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প করার পরিকল্পনা সম্পর্কেও জানতে চান। জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বড় সৌর প্রকল্পের জন্য সরকার জমি চিহ্নিত করেছে। তবে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের জন্য আলাদা মানচিত্র প্রকাশের উদ্যোগ এখন নেই। রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র এলাকায় আরও একটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বদলে ৪৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প নেওয়ার উদ্যোগের কথা বলেছেন তিনি। মাতারবাড়ি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকাতেও ৭০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প নেওয়ার কথা বলেন অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেন, মাতারবাড়িতে কয়লার ছাই রাখার জন্য নির্ধারিত ‘অ্যাশ পন্ডের’ জায়গা রয়েছে। উৎপাদিত ছাই দ্রুত বিক্রি হয়ে যাওয়ায় জায়গার একটি অংশ খালি থাকে। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিদ্যুতের প্রয়োজনও পর্যায়ক্রমে নিজেদের সৌরবিদ্যুৎ থেকে মেটানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্যেই সরকারি ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের কাজ এগোচ্ছে, বলেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি ফেনীতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের ২৩টি ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুতের যে প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে, তা ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর ফেনী সফরের সময় উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে। অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবসায়িক মডেলও চূড়ান্ত করা হয়েছে।

Ad for sale 100 x 870 Position (2)
Position (2)
Ad for sale 225 x 270 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 225 x 270 Position (4)
Position (4)