মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের মণিরামপুর পৌরশহরে অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ করে প্রায় কয়েক কোটি টাকা মূল্যের সরকারি জমি উদ্ধার করেছে উপজেলা প্রশাসন। রাজারহাট-চুকনগর মহাসড়ক সংলগ্ন অত্যন্ত মূল্যবান এই জমি উদ্ধার করায় সর্বমহলে প্রশংসিত হচ্ছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ সম্রাট হোসেন। উদ্ধার করা এই জমিতে এখন একটি আধুনিক বহুতল পৌর মার্কেট, আন্ডারগ্রাউন্ড পার্কিং ও সর্বসাধারণের জন্য গণশৌচাগার নির্মাণের জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, ১০০ নম্বর দুর্গাপুর মৌজার ৫৩ দাগে এক খতিয়ানভুক্ত ১৮.৩৫৬ শতক জমির মধ্যে প্রায় ১১ শতক জমি ১৯৮৩ সালে পাবলিক লাইব্রেরি ও একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নামে বন্দোবস্ত দেয় সরকার। তবে বাকী প্রায় ৭ শতক জমি দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী একটি চক্রের দখলে ছিল। যেখানে অবৈধভাবে গড়ে তোলা হয় বেশ কিছু দোকানপাট, এমনকি পেছনে গড়ে ওঠে মুরগি ও মাংসের বাজার। বর্তমানে এই জমির আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় দুই কোটি টাকা। অভিযোগ রয়েছে, ১৯৯৬ সালে তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী চক্রের ছত্রছায়ায় নামমাত্র ‘একসনের ডিসিআর’ দেখিয়ে জমিটি দখলে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর পৌরসভার কয়েকজন কাউন্সিলর সেখানে টিনশেড ঘর তুলে অগ্রিম টাকা নিয়ে ভাড়া দেন। এমনকি গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও নতুন এক পক্ষ ঘরগুলো পুনরায় দখল করে ভাড়া আদায় করে আসছিল। জনভোগান্তি নিরসনে স্থানীয় নাগরিকদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি সরকার ওই একসনের ডিসিআর বাতিল করে। অবশেষে গত সোমবার বিকেল থেকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে সরকারি জমিটি পুরোপুরি দখলমুক্ত করা হয়। অভিযানের পর জমিটি ঘিরে নতুন আশার আলো দেখছেন স্থানীয়রা। জাকির হোসেন বাবু, শফিকুল ইসলাম, আব্দুল মতিন, ইউসুফ আলীসহ স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মনিরামপুর পৌরশহরে দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষের গাড়ি পার্কিংয়ের কোনো নিরাপদ জায়গা নেই। তাই উদ্ধারকৃত জমিতে লিফট সুবিধা, আন্ডারগ্রাউন্ড পার্কিং এবং একটি সর্বাধুনিক বহুতল মার্কেট নির্মাণ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে পথচারী ও ক্রেতাদের সুবিধার্থে একটি মানসম্মত গণশৌচাগার তৈরির জোরালো দাবি জানান তারা। উচ্ছেদ অভিযানের বিষয়ে মনিরামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ সম্রাট হোসেন জানান, গত ৩ সেপ্টেম্বর উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। তবে মানবিক দিক বিবেচনা করে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের স্থানীয় মাছবাজারের দ্বিতীয় তলায় পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখে ভবিষ্যতে এই উদ্ধারকৃত জমিতে মার্কেট ও গণশৌচাগার নির্মাণের পরিকল্পনা করা যেতে পারে বলে তিনি জানান।