নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোর চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি আলহাজ মিজানুর রহমান খান বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে ঘোষিত বিভিন্ন উদ্যোগ, প্রস্তাবিত করছাড় ও দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত পদক্ষেপ বাজেটকে ব্যবসাবান্ধব করেছে। তবে এসব উদ্যোগের প্রকৃত কার্যকারিতা নির্ভর করবে সেগুলোর যথাযথ ও সময়োপযোগী বাস্তবায়নের ওপর।
আলহাজ মিজানুর রহমান খান বলেন, দুই দশক পর আবারও জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করলো বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নেতৃত্বাধীন সরকার। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
‘বাজেট ২০২৬-২৭-কে শিল্প ও বিনিয়োগের জন্য একটি ইতিবাচক ভিত্তি তৈরির প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছি। বিশেষ করে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত পদক্ষেপ দীর্ঘমেয়াদে রপ্তানিমুখী শিল্পখাতের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও এলডিসি-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহায়ক হবে বলে আমরা মনে করি।’
আমরা দীর্ঘদিন ধরে শিল্প ও বাণিজ্য খাতে নীতির ধারাবাহিকতা এবং পূর্বানুমানযোগ্যতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এবারের বাজেটে বিভিন্ন ক্ষেত্রে তিন বছর ও পাঁচ বছর মেয়াদি নীতিগত রূপরেখা দেওয়ার উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। ঘন ঘন নীতি পরিবর্তন ব্যবসায়িক পরিকল্পনা ও বিনিয়োগ সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে।’
দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত দিকনির্দেশনা উদ্যোক্তাদের জন্য আস্থা সৃষ্টি করবে এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে সহায়তা করবে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের প্রেক্ষাপটে অবকাঠামোগত সক্ষমতা বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাজেটে এ বিষয়ে পরিকল্পনার প্রতিফলন দেখা গেছে। বিশেষ করে ঢাকা-চট্টগ্রাম অর্থনৈতিক করিডোর, যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়ন, লজিস্টিক ব্যয় কমানো ও বন্দর সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে রপ্তানি পণ্যের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়বে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।’
জ্বালানি নিরাপত্তা শিল্পখাতের অন্যতম প্রধান উদ্বেগ জানিয়ে আলহাজ মিজানুর রহমান খান বলেন, ‘উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিরবচ্ছিন্ন ও সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। বাজেটে জ্বালানি খাতের দক্ষতা বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় যৌক্তিক করা এবং বিদ্যুতের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখার যে অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে, তা শিল্পখাতের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করে।’
বিশেষ করে বিদ্যুৎ খাতে অদক্ষ ব্যয় কমানো ও ক্যাপাসিটি চার্জ সংক্রান্ত বিষয়গুলো পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ উৎপাদন ব্যয় কমাতে সহায়ক হতে পারে বলে মনে করেন এ ব্যবসায়ী নেতা।
তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করি, বাজেটে ঘোষিত ব্যবসা সহজীকরণ, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, অবকাঠামো উন্নয়ন ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগগুলো দ্রুত ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। কারণ বাজেটের প্রকৃত সাফল্য কেবল ঘোষণায় নয়, বরং বাস্তবায়নের ওপর নির্ভর করে।’
সামগ্রিকভাবে বাজেট ২০২৬-২৭ শিল্পায়ন, বিনিয়োগ ও রপ্তানি প্রবৃদ্ধির জন্য ইতিবাচক দিকনির্দেশনা দিয়েছে। ঘোষিত কর্মসূচিগুলোর সফল বাস্তবায়ন হলে তৈরি পোশাক খাতসহ সামগ্রিক রপ্তানি খাত নতুন গতি পাবে, কর্মসংস্থান বাড়বে এবং দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আরও টেকসই ভিত্তি লাভ করবে বলে জানান আলহাজ মিজানুর রহমান খান।