মাগুরা প্রতিনিধি : ভোরের আলো ফোটার আগেই জমে ওঠে এই বাজারটি। ফজরের নামাজ শেষে হাঁটাহাঁটি করতে বের হওয়া মানুষজনই হয়ে ওঠেন এই বাজারের প্রধান ক্রেতা। কৃষকদের আনা টাটকা শাক-সবজি, মৌসুমি ফল ও বিভিন্ন কৃষিপণ্য কিনতে প্রতিদিনই ভিড় করেন শত শত মানুষ।
বৃহস্পতিবার সকাল ৭টার সময় মাগুরা সদর উপজেলার নতুন বাজার মিল সংলগ্ন এলাকায় গড়ে ওঠা ব্যতিক্রমী এই বাজারটি স্থানীয়দের কাছে পরিচিত ‘ডায়াবেটিস বাজার’ নামে। সূর্য উঠা থেকে চলে জমজমাট বেচাকেনা, শেষ হয়ে যায় সকাল ৮টায়।
স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের কাছে বাজারটির জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। কারণ এখানে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে তাজা ও রাসায়নিকমুক্ত সবজি কেনার সুযোগ পান ক্রেতারা। প্রতিদিন ভোরে আশপাশের গ্রামের কৃষকরা নিজেদের ক্ষেতের উৎপাদিত শাক-সবজি নিয়ে বাজারে আসেন। টাটকা ও তুলনামূলক কম দামে এসব পণ্য কিনতে দূর-দূরান্ত থেকেও ক্রেতারা আসেন।
স্থানিয় কৃষক মো. মাজেদ শেখ বলেন, এই সাবজি গুলো আমার জমির সার ওষুধ ছাড়াই উৎপাদন করেছি। মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই সরাসরি ক্রেতাদের কাছে পণ্য বিক্রি করতে পারায় তারা ন্যায্যমূল্য পান। এতে একদিকে কৃষক লাভবান হচ্ছেন, অন্যদিকে ক্রেতারাও পাচ্ছেন টাটকা ও নিরাপদ সবজি।
বাজারে সবজি কিনতে আসা ক্রেতা আলমগীর হোসেন বলেন-সকালে হাঁটতে বের হয়ে এখান থেকে তাজা সবজি কিনে বাড়ি ফিরি। সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে কিনতে পারায় সবজি যেমন ভালো পাই, তেমনি দামও কম। আরেক ক্রেতা মাহমুদুল হাসান বলেন, ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য শাক-সবজি বেশি খাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়। সেই কারণেই হয়তো এই বাজারের নাম ডায়াবেটিস বাজার হয়েছে। তবে এখন শুধু রোগী নয়, সব ধরনের মানুষই এখানে কেনাকাটা করেন।
নিজনান্দুয়ালী ডিউ স্কুলের প্রধান শিক্ষক এটিএম আনিসুর রহমান বলেন-ভোরবেলার এই বাজার শুধু কেনাবেচার স্থান নয়, বরং স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের এক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন সকালবেলা হাঁটাহাঁটি শেষে বাজারে এসে টাটকা সবজি কেনার অভ্যাস অনেকের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে। তিনি আরো বলেন-স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা এবং কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ‘ডায়াবেটিস বাজার’ একটি অনন্য উদাহরণ হয়ে উঠেছে বলে মনে করছি।