স্পন্দন ডেস্ক : জ্বালানি তেলের দাম অবশেষে বাড়িয়েছে সরকার। চার ধরনের তেলের নতুন দর লিটারপ্রতি আগের চেয়ে সর্বনিম্ন ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। শনিবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে দাম বাড়ানোর কথা জানিয়েছে, যা শনিবার মধ্যরাত থেকে কার্যকর হবে। ডিজেলের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে লিটারপ্রতি ১১৫ টাকা, অকটেন ১৪০, পেট্রোল ১৩৫ এবং কেরোসিন ১৩০ টাকা। এতে করে লিটারপ্রতি ডিজেলের দাম বেড়েছে ১৫ টাকা (আগের দর ১০০ টাকা), অকটেন বেড়েছে ২০ টাকা (আগের দর ১২০), পেট্রোল বেড়েছে ১৯ টাকা (আগের দর ১১৬) এবং কেরোসিন বেড়েছে ১৮ টাকা (আগের দর ১১২)। এর আগে বেশ কয়েক মাস ধরে এ চার ধরনের তেলের দাম প্রায়ই একই রকম ছিল। সবশেষ এপ্রিলেও তা অপরিবর্তিত রাখা হয়। আর এর আগের কয়েক মাসের মধ্যে বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে সমন্বয় করতে বাড়ানো বা কমানো হলেও তা এক দুই টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকত। ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের বাজার চড়তে থাকার কারণে এবার এক লাফে তা ১০ শতাংশের বেশি বাড়ানো হল। সরকারের তরফে ৭ এপ্রিল ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল প্রয়োজন হলে মে মাসে দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত আসতে পারে। তবে ভর্তুকির চাপ সামলাতে এপ্রিলের মাঝামাঝিতেই দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিল সরকার। জ্বালানি তেলের নতুন দর নির্ধারণের এ সিদ্ধান্ত যখন এল তখন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এর ঋণের পরের কিস্তির অর্থ পেতে দেন দরবার চালাচ্ছে সরকার। সবশেষ ৩১ মার্চ রাতে এপ্রিল মাসের জন্য জ্বালানি তেলের দাম ঘোষণার সময় তা অপরিবর্তিত রেখেছিল সরকার। তখন ভোক্তা পর্যায়ে লিটারপ্রতি ডিজেল ১০০ টাকা, অকটেন ১২০ টাকা, পেট্রোল ১১৬ টাকা এবং কেরোসিন ১১২ টাকা দরে বিক্রির সিদ্ধান্ত হয়েছিল। শনিবার নতুন দর নির্ধারণের বিষয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশে ভোক্তা পর্যায়ে নতুন বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ইরান যুদ্ধ শুরুর পর এর আগে জেট ফুয়েলের দর বাড়ানো হয় কয়েক দফায়। দাম বেড়েছে ফার্নেস অয়েলেরও। দেশে ২০২৪ সালের মার্চ থেকে স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতিতে প্রতি মাসে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয়ের প্রক্রিয়া চালু রয়েছে। ওই কাঠামোর আওতায় আন্তর্জাতিক বাজারের দামের ওঠানামার সঙ্গে মিল রেখে অভ্যন্তরীণ বাজারে মূল্য নির্ধারণ করা হয়।