নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোরে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ বরণে বিবর্তন যশোর ও সুরধুনী সংগীত নিকেতন যশোর যৌথ আয়োজনের প্রস্তুতি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। বিবর্তনের নাটক, আবৃত্তি আর গিটারের সুর আর সুরধুনীর শিল্পীরা পরিবেশন করবে সংগীত, নৃত্য আর আবৃত্তি। বরাবরের মতো এবারও নবকিশোলয় মাঠে পহেলা বৈশাখে প্রভাতী ও বৈকালী অনুষ্ঠানের আয়োজন সংগঠন দুটোর। পবিত্র রমজানের মাঝ থেকেই প্রস্তুতি পর্ব শুরু আর এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। সংগঠন দুটির আমন্ত্রণপত্র আলাদা হলেও উৎসবের পোশাক একই। ছেলেদের জন্য পাঞ্জাবি, মেয়েদের শাড়ি ও কামিজ।
শহরের কেশবলাল সড়কস্থ বিবর্তনের কার্যালয়ে সকাল থেকেই ব্যস্ত সংগঠনের নাট্য প্রেমিক কর্মীরা। মঞ্চ মাতানোর বাইরেও বর্ষবরণের উৎসবকে উৎসবমুখর করতে নানা অনুষঙ্গ তৈরিতেই ব্যস্ত তারা। সংগঠন কার্যালয় এবং সামনের সড়ক জুড়ে চলছে আলপনা অংকন। ছোট বড়, ছেলে মেয়ে সকলেই রং তুলিতে মত্ত। নান্দনিক আমন্ত্রণপত্র বিলি বন্টনে ব্যস্ততা চোখে পড়ার মত।
বিকেল গড়ানোর সাথে সাথেই কার্যালয়ে জড়ো হয়ে যায় সকলে। শুরু হয় নাটক রিহার্সেল। রাত অবধি কর্মচাঞ্চলে মুখরিত থাকে কার্যালয় প্রাঙ্গণ জুড়ে।
বর্ষবরণের দিনে মঞ্চস্থ হবে দুইটি নাট। প্রভাতী অনুষ্ঠানে শিশু শিল্পীদের পরিবেশনায় উপেন্দ্র কিশোর রায় চৌধুরীর লেখা ‘নাক কাটা রাজা ‘ নাটকটির নির্দেশনা দিচ্ছেন আতিকুজ্জামান রনি। এছাড়াও কিশোর শিল্পীদের পরিবেশনায় বৈকালী অনুষ্ঠানের পরিবেশিত হবে নাটক ‘ মামা ভাগ্নে’। আমজাদ হোসেনের লেখা এই নাটকটি নির্দেশনা দিচ্ছেন সানোয়ার আলম খান দুলু।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আতিকুজ্জামান রনি জানান- ঈদুল ফিতরের বেশ আগে থেকেই প্রস্তুতি শুরু হয়েছে তবে এখন চলছে শেষ সময়ের ঘষামাজা।তিনি জানান বরাবরের মতোই সুরধুনীর সাথে যৌথ আয়োজনে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান নব কিশলয় মাঠে সকাল ছয়টা ৩০ মিনিটে এবং বৈকালিক অনুষ্ঠান সাড়ে চারটায়। এছাড়াও সংগঠন কার্যালয় থাকবে মিষ্টিমুখের আয়োজন।
এদিকে, বর্ষবরণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ডালি সাজাতেই মহাব্যস্ত সুরধুনী সংগীত নিকেতন যশোরের কর্মকর্তাসহ সকলে। রমজান শুরু থেকেই শিক্ষার্থী শিল্পীদের অংশগ্রহণে শুরু হয়েছে রিহার্সেল ।ছোট বড় প্রায় সাড়ে তিনশ শিক্ষার্থী শিল্পী পরিবেশন করবে সংগীত, নৃত্য ও আবৃত্তি। বর্ষবরণের উপস্থাপনা ত্রুটি মুক্ত রাখতে প্রস্তুতির শেষ নেই। সোমবার অনেক সময় ধরেই রিহার্সেল চলেছে। মঙ্গলবার অনেকটাই ক্লান্ত তাই ছুটি।
প্রায় প্রতিদিন বিকেল থেকে রাত আটটা পর্যন্ত রিহার্সেল। রিহার্সেল শেষে কর্মকর্তাদের শুরু হয়ে যায় মঞ্চ সাজানো থেকে শুরু করে সমগ্র আয়োজনকে সফল করতে দৌড় ঝাপ। রিহার্সালের সময় চোখে পড়ে ভেতরে যেমন গানের ক্লাস নাচের ক্লাস চলছে। বাইরেও থাকে অভিভাবকদের উপস্থিতিতে মুখরিত।
সংগঠনের সভাপতি ও সাংস্কৃতিক জন হারুন আর রশিদ জানান বরাবরের মতো এবারেও বিবর্তনের সাথে বর্ষবরণে আমাদের যৌথ আয়োজন। নবকিশোলয় মাঠে সকালে এবং বিকালে দুই পর্বের অনুষ্ঠানে সাড়ে তিনশ’র বেশি ছেলে মেয়ে অংশ নেবে সংগীত, নৃত্য ও আবৃত্তিতে।