যবিপ্রবি প্রতিনিধি: দেশের মাধ্যমিক স্তরের শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া শিক্ষাকে আমূল বদলে দিতে এক যুগান্তকারী উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। ২০২৭ শিক্ষাবর্ষকে সামনে রেখে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির “শারীরিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্য” এবং নবম ও দশম শ্রেণির “শারীরিক শিক্ষা, স্বাস্থ্যবিজ্ঞান ও খেলাধুলা” পাঠ্যবইগুলোর সংশোধন, পরিমার্জন ও কনটেন্ট ম্যাপিংয়ের কাজ সম্প্রতি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। প্রথাগত ধারার বাইরে গিয়ে এবারই প্রথম এই পাঠ্যবইগুলো তৈরি করা হয়েছে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রিধারী বিশেষজ্ঞ ও গবেষকদের তত্ত্বাবধানে। দীর্ঘদিন ধরে এই বিষয়টি স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের মাধ্যমে পরিচালিত হলেও, এবার এর মূল বিশেষজ্ঞ দলের সদস্য হিসেবে কাজ করেছেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান (পিইএস?এস) বিভাগের শিক্ষক ও অ্যালামনাইরা। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষাবিদরাও রয়েছেন এ বিশেষজ্ঞ দলে। এই বিশেষজ্ঞ দলে রয়েছেন যবিপ্রবি’র পিইএস?এস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. হামিদুর রহমান, একই বিভাগের প্রভাষক ফাতেমা তুজ জোহরা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. খালেদা ইসলাম ও প্রভাষক ড. মারজিয়া সুলতানা। বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শারীরিক শিক্ষা শিক্ষক আব্দুর রহিম রাসেল, বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ নির্ঝর এর শারীরিক শিক্ষা শিক্ষক নাইম উল কবির। এছাড়াও এ দলে রয়েছেন বাংলাদেশের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন বিষয়ের অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা। বিশেষজ্ঞ দলের সদস্য যবিপ্রবি’র পিইএস?এস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. হামিদুর রহমানের মতে এবারের পাঠ্যবইগুলো কেবল তাত্ত্বিক আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বইগুলোর গুণগত মান বাড়াতে অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রিধারী বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্ততা এক নতুন মাত্রা যোগ করবে। তিনি আরো বলেন, এবারের পাঠ্যবইগুলো বৈজ্ঞানিক ও বাস্তবমুখী জ্ঞানের সমন্বয়ে তৈরি করা হয়েছে। উচ্চতর ডিগ্রিধারীদের সরাসরি অংশগ্রহণের ফলে এর মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে। ২০২৭ সালের পাঠ্যবইগুলোতে মূলত তিনটি বিষয়ের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে: বিজ্ঞানভিত্তিক আলোচনা: শরীরের বাহ্যিক গঠনের পাশাপাশি ক্রীড়া বিজ্ঞানের আধুনিক সূত্র ও তত্ত্বের সংযোজন। বাস্তবমুখী শিক্ষা: শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সহায়ক ব্যবহারিক ও প্রয়োগমুখী পাঠ। আন্তর্জাতিক মান: বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর সাথে সামঞ্জস্য রেখে আধুনিক কনটেন্ট ম্যাপিং। উল্লেখ্য, ২০২৭ সাল থেকে দেশের সব শিক্ষার্থীরা এই গবেষণাধর্মী ও আধুনিক পাঠ্যবই হাতে পাবে, যা বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ও ক্রীড়া শিক্ষায় এক নতুন ধারার সূচনা করবে বলে আশাবাদী শিক্ষাবিদরা।