নিজস্ব প্রতিবেদক : ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ এক বিভীষিকাময় ‘কালরাত’ নেমে এসেছিল এ দেশের মানুষের জীবনে। মধ্যরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী তাদের ‘অপারেশন সার্চলাইট’ বাস্তবায়নে নেমে পড়ে। নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর অত্যাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মেতে ওঠে নারকীয় হত্যাযজ্ঞে। আজ সেই ভয়াল ২৫ মার্চ ।
১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টি হওয়ার কিছুদিন পর থেকেই বাঙালিরা বুঝতে পারে, তারা নানাভাবে পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকদের দ্বারা শোষিত ও বঞ্চিত হচ্ছে। ’৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ’৫৪-এর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ’৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন, ’৬৬-এর ছয় দফা, ’৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে এ অঞ্চলের মানুষের মধ্যে স্বাধিকার আন্দোলন চূড়ান্তভাবে দানা বাঁধে।
১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর না করে নানাভাবে সময়ক্ষেপণ করতে থাকে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী। ১৯৭১ সালের মার্চে শুরু হয় বাঙালিদের অসহযোগ আন্দোলন। স্বাধিকার আন্দোলন রূপ নেয় স্বাধীনতা সংগ্রামে। ২৫ মার্চ জেনারেল ইয়াহিয়া বাঙালি হত্যার নীলনকশা বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়ে বিকেলে ঢাকা থেকে পালিয়ে যান। এদিন দুপুরের পর থেকেই ঢাকাসহ সারা দেশে থমথমে অবস্থা বিরাজ করতে থাকে। সকাল থেকেই সেনা কর্মকর্তাদের তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো।
রাত সাড়ে ১১টার দিকে পাকিস্তানি সেনারা ঝাঁপিয়ে পড়ে এ দেশের নিরস্ত্র মানুষের ওপর। কারফিউ জারি করা হয়। জনবসতিতে দেওয়া হয় আগুন। বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয় বিদ্যুৎ সংযোগ। মধ্যরাতে ঢাকা হয়ে ওঠে লাশের শহর।