Ad for sale 100 x 870 Position (1)
Position (1)

বটগাছে প্রাইভেটকারের ধাক্কায় প্রাণ গেল পিতা-পুত্রসহ ৩জনের

এখন সময়: বুধবার, ২৫ মার্চ , ২০২৬, ১২:৫৮:২২ এম

নিজস্ব প্রতিবেদক : মণিরামপুর উপজেলা শহরের ইন্টারনেট ব্যবসায়ী মাহমুদ হাসান জনি (৪৩)। সোমবার সকালে মা-বাবাসহ পরিবারের ৬ সদস্যকে চুয়াডাঙ্গায় নানা বাড়ি বেড়াতে যান। বাসা থেকে বের হওয়ার আগে পরিবারের ৬ সদস্য সদস্য একসঙ্গে তোলেন স্মৃতিময় মুহুর্তের ছবি। কে জানতো ৬ জনের মধ্যে হঠাৎ করে তিনজন চলে যাবেন না ফেরার দেশে। আত্মীয় বাড়ি থেকে ফেরার পথে নিয়ন্ত্রণহীন প্রাইভেটকার বটগাছে ধাক্কা দিলে তারা তিনজন মারা যান। সোমবার দিবাগত রাত পৌনে ৩ টার দিকে যশোর-মাগুরা সড়কের বাঘারপাড়া উপজেলার গাইদঘাটে মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহতরা হলেন মণিরামপুর সদর ইউনিয়নের ফতেয়াবাদ গ্রামের বাসিন্দা মনিরামপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর সাবেক পরিচালক আব্দুল মজিদ সরদার (৭৫), তার ছেলে মাহমুদ হাসান জাকারিয়া জনি (৪৩) ও জনির মেয়ে শেহেরিশ (৪)। দুর্ঘটনায় জনির স্ত্রী সাবরিনা জাহান (৩০), ছেলে সামিন আলমাস (১০) ও মা মনোয়ারা বেগম (৬০) গুরুতর আহত হয়েছেন। পিতা-পুত্রসহ তিনজনের জন্য পাশাপাশি কবর খুঁড়ে দাফন করা হয়েছে। একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যুর ঘটনায় পুরো গ্রাম শোকে স্তব্ধ। জানা গেছে, সোমবার সকালে জাকারিয়া জনি পরিবারের সকলকে নিয়ে চুয়াডাঙ্গায় আত্মীয় বাড়ি বেড়াতে গিয়েছিলেন। রাতে সেখান থেকে তারা বাড়ির উদ্দেশ্যে ফিরছিলেন। প্রাইভেটকারের চালকের আসনে ছিলেন জনি। মধ্যরাতে যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার গাইদঘাট এলাকায় পৌঁছালে প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে বটগাছের সাথে ধাক্কা খায়। এ সময় ঘটনাস্থলে জনি ও তার বাবা আব্দুল মুজিদ মারা যান। প্রাইভেটকারটি দুমড়েমুচড়ে যায়। স্থানীয় লোকজন ও বারোবাজার হাইওয়ে পুলিশ দুর্ঘটনায় আহত ৪ জনকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক শেহেরিশকে মৃত ঘোষণা করেন। বাকিদের ভর্তি করে চিকিৎসার জন্য সার্জারি ওয়ার্ডে পাঠিয়ে দেন। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জোবায়ের আহমেদ জানান, শেহেরিশকে হাসপাতালে মৃত অবস্থায় আনা হয়। আহত সাবরিনা জাহান, সামিন আলমাস, মনোয়ারা বেগমের অবস্থা আশঙ্কাজনক। সার্জারি বিভাগের ডাক্তাররা তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছেন। বারোবাজার হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর কবির জানান, চালকের চোখে ঘুমের কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। মঙ্গলবার ভোরে আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে নিহত ৩ জনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। মঙ্গলবার আসরের নামাযের পর মণিরামপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজ মাঠে জানাযা শেষে পাশাপাশি কবর খুঁড়ে তাদের দাফন করা হয়। এর আগে সকালে ৩ জনের মরদেহ নিজ বাড়িতে নেয়া হলে স্বজন ও প্রতিবেশীদের আর্তনাদে শোকাহত পরিবেশের সৃষ্টি হয়। নিহতদের একনজর দেখতে অ্যাম্বুুলেন্সের সামনে ভিড় করেন আত্মীয়স্বজন ও এলাকাবাসী। তাদের মৃত্যুর ঘটনায় পুরো গ্রাম শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে। নিহত জনির আইটি ফার্মের এক্সপার্ট রিয়াদ হোসেন জানান, নিহত পিতা-পুত্র (মজিদ সরদার ও জনি) খুব ভালো মানুষ ছিলেন। সবার সাথে হেসে কথা বলতেন। প্রাইভেটকার চড়ে নানা বাড়ি থেকে ফেরার পথে এক পরিবারের তিনজনের মৃত্যুর শোক সহ্য করা কষ্টকর। ঢাকায় চিকিৎসাধীন ৩ জনের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়নি।

Ad for sale 100 x 870 Position (2)
Position (2)
Ad for sale 225 x 270 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 225 x 270 Position (4)
Position (4)