নিজস্ব প্রতিবেদক : জালিয়াতির মাধ্যমে সরকারের অর্পিত সম্পত্তি দখলের দায়ে হাবিবুর রহমান নামে এক ব্যক্তিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছে যশোরের একটি আদালত। বৃহস্পতিবার বিশেষ জজ (জেলা ও দায়রা জজ) আদালতের বিচারক এস. এম. নূরুল ইসলাম এক রায়ে এ আদেশ দিয়েছেন। দণ্ডিত হাবিবুর রহমান নড়াইল লোহাগাড়া উপজেলার সিংগা গ্রামের মৃত রাঙ্গা মিয়া শেখের ছেলে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশেষ পিপি অ্যাডভোকেট মো: মহসীন আলী ।
মামলার অভিযোগে জানা গেছে, নড়াইল লোহাগাড়া মৌজার কুন্দসী মৌজার এসএস খতিয়ানের ৩৪ দাগে ৫ একর ১৫ শতক জমির মালিক দীরেন্দ্রনাথ চট্টপধ্যায় গং। পরবর্তীতে এ জমি অর্পিত সম্পত্তি হিসেবে হাল রেকর্ড হয়। এসব জমির মধ্যে এসএ ৩৮ খতিয়ানের ৬৭২,৬৭২ ও ৬৭০ দাগের ৭২শতক ও ৫৮৯ খতিয়ানের ৬৭০ ও ৬৭১ দাগের ১৪ শতক জমি অর্পিত সম্পত্তি থেকে অবমুক্তির জন্য হাবিবুর রহমান নড়াইল অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যার্পণ ট্রাইব্যুনাল ও যুগ্ম জেলা জজ ১ আদালতে মামলা করেন। তিনি আদালতের দেয়া কাগজপত্রে এ জমি পূর্বে ক্রয়কৃত বলে উল্লেখ করেন। আদালতের রায়ে তিনি এ সম্পত্তি মালিকানা লাভ করেন এবং নাম জরির জন্য আবেদন করেন।
বিষয়টি দুদকের নজরে আসায় প্রথমিক তদন্ত শুরু করে। তদন্তে দেয়া যায়, হাবিবুর রহমান বালাম বইয়ের পাতা পরিবর্তন এবং ভ্যানিশিং কালি ব্যবহার করে নথিপত্রে ঘষামাজা করে মালিকানা প্রমাণের অপচেষ্টা চালিয়েছিলেন। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অনুসন্ধানের মাধ্যমে এই জালিয়াতির সত্যতা খুঁজে পায়। যে কারণে ২০১৫ সালের ২৬ আগস্ট দুর্নীতি দমন কমিশন সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক কমলেশ মন্ডল বাদী হয়ে হাবিবুর রহমানকে আসামি করে লোহাগাড়া থানায় মামলা করেন। এ মামলার তদন্ত শেষে আসামি হাবিবুর রহমানকে অভিযুক্ত করে ২০১৬ সালের ২৮ জুন নড়াইল জেলা জজ আদালতের চার্জশিট জমা দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা সহকারী পরিচালক কমলেশ মন্ডল। পরবর্তীতে মামলাটি বিচারের জন্য যশোরের স্পেশাল জজ আদালতে বদলি করা হয়।
দীর্ঘ সাক্ষী গ্রহণ শেষে বিচারক দণ্ডবিধির ৪টি ধারায় আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করেন। এরমধ্যে ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮ ধারায় ৩ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড, ২ হজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরও ৩ মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৪৭১ ধারায় ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ২ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছে। সাজা একই সাথে চলবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। সাজাপ্রাপ্ত আসামি হাবিবুর রহমান পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দিয়েছেন বিচারক।