নড়াইল প্রতিনিধি : এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্বশত্রুতার জের ধরে নড়াইল সদর উপজেলার শিঙ্গাশোলপুর ইউনিয়নের বড়কুলা গ্রামে সেহরির সময় বাবা-ছেলেসহ ৫জনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে উপর্যুপরি কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৫টার দিকে এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন-বাবা খলিল শেখ (৭০), তার ছেলে তাহাজ্জত শেখ (৪১), ফেরদাউস হোসেন (৪০) ও মুন্না শেখ। এবং ওসিকুর ফকির (৩৬) অপরপক্ষের। এর মধ্যে খলিল, তাহাজ্জত, মুন্না শেখ ও ফেরদাউস একপক্ষের লোক।
নড়াইলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আল মামুন শিকদার হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্বশত্রুতার জের ধরে শিঙ্গাশোলপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান খায়রুজ্জামান খায়ের মোল্যার পক্ষের রহমত হোসেনের লোকজনের সঙ্গে খলিল শেখের দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব-সংঘাত চলে আসছিল। নিহতরা তারাপুর গ্রামের বাসিন্দা হলেও প্রায় ১০ বছর আগে গ্রাম্য মারামারির কারণে পাশের বড়কুলা গ্রামে বসবাস শুরু করেন। তারপরও তাদের দ্বন্দ্ব থামেনি। বড়কুলা গ্রামে এসেও দুইপক্ষের লোকজনের মধ্যে দ্বন্দ্ব-সংঘাত চলে আসছিল।
নিহত খলিল খলিল শেখের স্ত্রী মঞ্জুরা বেগম জানান, সোমবার ভোর রাতে সেহরি খেয়ে ঘুমানোর প্রস্তুতি নেয়ার সময় তারাপুর গ্রাম থেকে সাবেক চেয়ারম্যান খায়রুজ্জামান খায়ের মোল্যার পক্ষের ৫০ থেকে ৫৫ জন লোক দেশি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাদের বাড়িতে এসে বাবা খলিল শেখ ও ছেলে তাহাজ্জত শেখকে ঘর থেকে বের করে নিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শরীরের একাধিক স্থানে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে। এছাড়া এইপক্ষের ফেরদাউসকেও কুপিয়ে হত্যা করে চলে যায়।
এ ঘটনায় প্রতিপক্ষের আহত ওসিকুর ফকিরকে নড়াইল জেলা হাসপাতালে ভর্তির পর তিনি মারা যান।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আল মামুন শিকদার বলেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের ধরতে অভিযান চলছে। যারা এ ঘটনায় জড়িত তাদের কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।