ডুমুরিয়া প্রতিনিধি : দীর্ঘ বছর পর একটি উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আজ ঊষালগ্নে অনুষ্ঠিত হবে কাঙ্ক্ষিত এ নির্বাচন। খুলনা-৫ আসনে এই নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক নেতাকর্মীর পাশাপাশি সাধারণ ভোটারের মধ্যেও ব্যাপক উৎসব বিরাজ করছে। নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্নের লক্ষে আইনশৃঙ্খলার কঠোর নিরাপত্তার বেষ্টনীতে সজ্জিত হয়েছে। এবারের নির্বাচনে ভোটারের উপস্থিতি বিগত দিনের রেকর্ড ভাঙতে পারে এমন মন্তব্য করছেন রাজনীতিবিদরা।
জানা যায়, এই প্রথম একই সাথে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং একটি নতুন জাতীয় সনদ অনুমোদনের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত হচ্ছে গণভোট। সকাল ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোট গ্রহণ চলবে। ভোটারকে দুটি পৃথক ব্যালট পেপার দেয়া হবে। একটি সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীর প্রতীক সংবলিত এবং অন্যটি গণভোটের ‘হ্যা’ বা ‘না’ সংবলিত। সংসদ নির্বাচনের ব্যালট পেপার হবে সাদা-কালো রঙের এবং গণভোটের ব্যালট পেপার থাকবে গোলাপি রঙের। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র ২ বছরের মাথায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যূত্থানের মধ্যদিয়ে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশ ত্যাগের পর রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ বিলুপ্ত ঘোষণা করেন। ওই নির্বাচনে দেশের দুটি বড় দল বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী অংশগ্রহণ করেনি। বিতর্কিত নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা ও ফলাফল ছিলো সম্পূর্ণ এক পাক্ষিক। ফলে দ্বাদশ নির্বাচনটা খানিকটা নিরামিষ হয়েছিলো। তবে এবারের নির্বাচনের চিত্রটা সম্পূর্ণ পাল্টে গেছে। অতিতে সব রেকর্ড ভাঙতে পারে। বহুবছর পর উৎসব মুখোর এনির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি সর্বোচ্চ হওয়ার আসা করছেন রাজনীতিবিদরা। এ নির্বাচনে সারাদেশে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, খেলাফত মজলিশ, জাতীয় নাগরিক পার্টি(এনসিপি)সহ ৫১টি দল অংশ গ্রহন করেছে। তবে খুলনা-৫ আসনে ৪টি দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও ব্যাপক হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বিএনপি ও জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যে। নির্বাচনে এবার পোস্টার না থাকলেও ভোটারদের মধ্যে বেশ সাড়া রয়েছে। ভোটে পুরুষের চেয়ে নারীদের উপস্থিতি বেশি হতে পারে। দূরদূরান্তে কর্মরত মানুষগুলো একদিন আগে নিজ এলাকায় ছুটে এসেছে তাদের মূল্যবান ভোটটি প্রয়োগ করতে। খুলনা-৫ আসনে মোট ভোটার ৪লাখ ২ হাজার ৭৯৮জন। এরমধ্যে ডুমুরিয়া উপজেলায় ভোটার সংখ্যা ২লাখ ৮২ হাজার ৯৮৯। নারি ভোটার ১লাখ ৪২ হাজার ২৯১ এবং পুরুষ ভোটার ১লাখ ৪০ হাজার ৬৯৭। পোস্টাল ভোটার রয়েছে ২ হাজার ৯৫৫। ধামালিয়া ইউনিয়নে ভোটার সংখ্যা ২০ হাজার ৫৮৩, রঘুনাথপুরে ২৩ হাজার ৫২৮, রুদাঘরা ২২ হাজার ২৩, খর্ণিয়া ১৮ হাজার ৫০০, আটলিয়া ২৮ হাজার ৬৭১, মাগুরাঘোনা ২০ হাজার ২৫১, শোভনা ১৮ হাজার ৭৯১, শরাফপুরে ১৫ হাজার ৭০৮, সাহসে ১৭ হাজার ৮৯৮, ভান্ডারপাড়ায় ১৫ হাজার ৮৭৭, ডুমুরিয়া ২৫ হাজার ৭৫৭, রংপুরে ১৬ হাজার ২০০, গুটুদিয়া ২৩ হাজার ৬২৮ ও মাগুরখালী ইউনিয়নে ১২ হাজার ৬২৮। ভোটকে উৎসব মুখর করতে এবং ভোটারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর নিরাপত্তায় রয়েছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। পুলিশ, সেনা বাহিনী, র্যাব, বিজিবি ও আনসার বাহিনীর পর্যন্ত সদস্য রয়েছে ভোটের মাঠে। ফুলতলায় ৪২টি ও ডুমুরিয়ায় ১০৮টি ভোট কেন্দ্রে ভোট গ্রহন হবে। প্রতিটি কেন্দ্রে ৬টি করে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে। ডুমুরিয়ায় ১০৮জন প্রিজাইডিং অফিসার এবং সহকারী থাকবে ৫৮৮ জন। ১ হাজার ১৭৬ জন থাকবে পোলিং অফিসার। ভোটারদেরকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দিবে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। ৬জন ম্যাজিস্ট্রেট রয়েছে। যারা সর্বক্ষন টহলে থাকবেন। বুধবার দুপুরের আগেই সকল ভোট কেন্দ্রে ব্যালট পেপারসহ ভোটের সামগ্রী নিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও পুলিশ প্রশাসন পৌঁছায়।
উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব সরদার আব্দুল মালেক জানান, দীর্ঘ ১৭টি বছর বিএনপি আন্দোলন সংগ্রাম করে আসছে এই দিনটির আশায়। ভোটে জনগণের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়েছে, যেন সাধারণ মানুষের মধ্যে উৎসব বিরাজ করছে। এখনো পর্যন্ত ভোটের পরিবেশ খুবই ভালো। তিনি আশা করছেন নির্বাচনে খুলনার ৬টি আসনেই বিএনপির বিজয়ী হবে।
জামায়াতে ইসলামী উপজেলা আমীর মাওলানা মুখতার হোসাইন জানান, দীর্ঘদিন জাতি একটি সুন্দর নির্বাচনের আশা করছেন। সেই পরিবেশ এবার সৃষ্টি হয়েছে। তবে কিছু অপপ্রচার করছে প্রতিপক্ষরা। বিভিন্ন ভয়ভীতি ও কেন্দ্র দখলের শঙ্কার সৃষ্টি হচ্ছে। চুকনগর, গোলাপদহ, কাঁঠালতলা ও ডুমুরিয়াসদর সহ ২০/২৫টি ভোট কেন্দ্র দখল করার ঝুঁকি রয়েছে। প্রশাসন যদি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট উপহার দেয় তা হলে খুলনা-৫ আসনে দাঁড়িপাল্লার বিপুল জয় হবে।
এ বিষয়ে সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও ইউএনও সবিতা সরকার জানান, বহুদিন পর জনগণের প্রত্যাশিত একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে আজ। এ নির্বাচনকে ঘিরে সরকার ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করে। বিশেষ করে ভোটারদের নিরাপত্তা এবং গ্রহনযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে সর্বোচ্চ ক্ষমতা প্রয়োগ করবে প্রশাসন। এ নির্বাচন বিগত দিনের চেয়ে অনেকটা উৎসবমুখর হচ্ছে।