উপকূলে ঘূর্ণিঝড় রিমালের আঘাত

তলিয়ে গেছে সুন্দরবন, ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি

এখন সময়: বৃহস্পতিবার, ২০ জুন , ২০২৪, ০২:৪২:৫৮ পিএম

 

 

স্পন্দন ডেস্ক: উপকূলে আঘাত হেনেছে প্রবল ঘূর্ণিঝড় রিমাল। এরিপোর্ট লেখা পর্যন্ত রাত ১০ টার দিকে  মোংলার দক্ষিণপশ্চিম দিক দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ ও খেপুপাড়া উপকূল অতিক্রম শুরু করে। ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্র আরও উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে পরবর্তীতে ১ থেকে ২ ঘণ্টার মধ্যে উপকূল অতিক্রম করে। তবে ঝড়টি পুরোপুরি সরে যেতে এরপর আরও ৫ থেকে ৭ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। ঝড়ের প্রভাবে সুন্দরবন তলিয়ে গেছে। বিভিন্ন বাধ ঘরবাড়ি ভেঙে গেছে। তলিয়ে গেছে গ্রামের পর গ্রাম। কোন কোন নদ-নদীর পানি বেড়েছে ১০ থেকে ১২ ফুট। ঝড় সরে গেলে সোম ও মঙ্গলবার ক্ষয়ক্ষতি বোঝা যাবে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। ঝড়ের আগে ও পরে পরিস্থিতি মোকাবেলায় সব বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। ১০ লাখেরও বেশি মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে গেছে।

রোববার (২৬ মে) রাত সোয়া ৯টার দিকে আবহাওয়া অধিদফতর এই তথ্য জানিয়েছে। তারা জানায়, ঝড়ের কেন্দ্রে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৯০ কিলোমিটার যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়।

পায়রা ও মোংলা সমুদ্রবন্দরকে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বরগুনা, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলো ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।

এছাড়া কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরকে ৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ¥ীপুর, চাঁদপুর এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোতে ৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।

খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বরগুনা, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ¥ীপুর, চাঁদপুর, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার নদীবন্দরসমূহকে ৪ নম্বর নৌ-মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হলো।

প্রবল ঘূর্ণিঝড়টির অগ্রবর্তী অংশ ও বায়ুচাপ পার্থক্যের আধিক্যের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বরগুনা, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ¥ীপুর, চাঁদপুর, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোর নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৮ থেকে ১২ ফুট অধিক উচ্চতার বায়ু-তাড়িত জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।

এছাড়া রিমালের প্রভাবে রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ ভারী (২৪ ঘণ্টায় ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার) থেকে অতি ভারী (২৪ ঘণ্টায় ২৮৯ মিলিমিটার) বর্ষণ হতে পারে। অতি ভারী বর্ষণের প্রভাবে কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রামের পাহাড়ি অঞ্চলের কোথাও কোথাও ভূমিধস হতে পারে।

দুপুরে পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজননকেন্দ্র ও পর্যটন স্পটের ওসি আজাদ কবির জানান, ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে স্বাভাবিকের চেয়ে চার ফুট পানি বেড়ে সুন্দরবন তলিয়ে গেছে। পানির চাপ আরও বাড়বে। তবে বন্যপ্রাণীর ক্ষয়ক্ষতির কোনও আশঙ্কা নেই।