জাতীয় কবি কাজী নজরুলের জন্মবার্ষিকী আজ

এখন সময়: শুক্রবার, ১৪ জুন , ২০২৪, ০৪:৪৮:২৭ এম

 

নিজস্ব প্রতিবেদক: জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী আজ। দিবসটি পালন উপলক্ষে যশোরে নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন। এসব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে আলোচনা সভা, প্রতিযোগিতা, পুরস্কার বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

অগ্নিবীণা কেন্দ্রীয় সংসদের আয়োজনে এদিন আলোচনা সভা, প্রতিযোগিতা ও  পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান হবে। বিকেল ৫ টায় শহরের বি সরকার মেমোরিয়াল হলে (তসবির মহল) থাকছে এই আয়োজন। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবরাউল হাছান মজুমদার এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।  বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর ড. মুস্তাফিজুর রহমান প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখবেন। 

এদিকে, দেশের প্রাচীনতম সাংস্কৃতিক সংগঠন সুরবিতান সংগীত একাডেমি ও সুরধুনীর যৌথ আয়োজনে দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের উদ্বোধন হবে  আজ সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে। এ ছাড়া সাংস্কৃতিক সংগঠন পুনশ্চ  যশোরের আয়োজনে সাংস্কৃতি অনুষ্ঠান হবে বিকেল ৫ টা ৩১ মিনিটে (চার খাম্বার মোড়ে)  যশোর  বালিকা বিদ্যালয়  অডিটোরিয়ামে।

অসাধারণ প্রতিভার অধিকারী এই মানুষটি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (ইংরেজি সাল অনুযায়ী ২৪ মে ১৮৯৯ সাল) ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার আসানসোলের চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশব-কৈশোর-তারুণ্যের জীবনের পরতে পরতে সংগ্রাম করতে হয়েছে তাকে। জড়িয়েছিলেন নানা পেশায়। ১৯১৭ সালে যোগ দেন সেনাবাহিনীতে। অংশ নেন প্রথম বিশ্বযুদ্ধেও।

এরই মাঝে তৎকালীন প্রভাবশালী কবি-সাহিত্যিকদের সংস্পর্শে আসেন তিনি। ১৯২২ সালে প্রকাশ করেন ধূমকেতু পত্রিকা। ‘আনন্দময়ীর আগমনে’ কবিতার জন্য নজরুজের এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড হয়। মাত্র ২২ বছর ব্যাপ্তির লেখক জীবনে তিনি রচনা করেছেন প্রায় ৩ হাজার গান, লিখেছেন অসংখ্য কবিতা, ছোটগল্প, উপন্যাস।

সাহিত্যের পাশাপাশি সংগীত ও চলচ্চিত্র পরিচালনা করেছেন নজরুল। নিজের পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘ধ্রুব’তে অভিনয়ও করেছিলেন। তাই শুধু কবি পরিচয়েই আবদ্ধ নন নজরুল। আসানসোলের রুটি বানানো ছেলেটা এখনও বিশাল এক প্রতিষ্ঠান। না থেকেও যার উপস্থিতি প্রতিদিন।

১৯৭২ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আগ্রহে কবি নজরুল ইসলাম কে সপরিবারে নিয়ে আসা হয় স্বাধীন বাংলাদেশে। এরপর মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশেই ছিলেন। ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট তৎকালীন পিজি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন এই মহাবিদ্রোহী ও প্রেমিক পুরুষ। কবির ইচ্ছানুসারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে তাকে সমাধিস্থ করা হয়।