Ad for sale 100 x 870 Position (1)
Position (1)

দুবলারচরে শুঁটকি মৌসুম শুরু প্রচুর মাছ পেয়ে জেলেরা খুশি

এখন সময়: সোমবার, ২ নভেম্বর , ২০২৬, ১১:২৪:৫০ পিএম
দুবলারচরে শুঁটকি মৌসুম শুরু প্রচুর মাছ পেয়ে জেলেরা খুশি

আঃ মালেক রেজা, শরণখোলা : বঙ্গোপসাগর তীরবর্তী দুবলারচরে শুরু হয়েছে এবারের শুঁটকি মৌসুম। ঘুর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাব কেটে যাওয়ায় জেলেরা সাগরে নেমে পরেছে। মৌসুম শুরুর গত দুই দিনে সাগরে প্রচুর মাছ জালে ধরা পড়ায় জেলেরা বেজায় খুশী। জেলে মৎস্যজীবিদের পদচারণায় এখন মুখরিত দুবলা ও আলোরকোলসহ অন্য তিনটি চর। । বনবিভাগ সূত্রে জানা যায়-পূর্ব সুন্দরবনের আলোরকোল, মাঝেরকিল্লা, নারিকেলবাড়িয়া ও শেলারচরের ৮১ বর্গমাইল এলাকা জুড়ে দুবলা জেলে পল্লী। দেশের ৮০ ভাগ শুঁটকি মাছ আহরণ হয় দুবলারচর থেকে। সাগর থেকে লইট্রা, ছুরি, চিংড়ি, রুপচাঁদা, পোয়াসহ না না প্রজাতির মাছ ধরে শুঁটকিকরণের জন্য দুবলার চারটি চরে দশ সহাস্রাধিক জেলে সমবেত হয়েছে। ৩১ অক্টোবর থেকে মার্চ এই ৫ মাস পর্যন্ত জেলেরা দুবলারচরে অবস্থান নিয়ে সাগরে মাছ ধরবেন। শুঁটকি আহরণ মৌসুমে এবার শুঁটকি পল্লীতে জেলে-বহরদারদের জন্য ১০১৮টি অস্থায়ী ঘর, ৬৭টি ডিপো ও বিভিন্ন নিত্যপন্যের ১১৬টি দোকান ঘর তৈরীর অনুমতি দিয়েছে বন বিভাগ। দুবলার আলোরকোল থেকে রবিবার দুপুরে মোবাইল ফোনে দুবলা ফিসারমেন গ্রুপের সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা মোঃ কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ঘুর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাব মাথায় নিয়ে দুবলারচরে এবারের শুঁটকি মৌসুম শুরু হয়েছে। সাগরের আবহাওয়া ভালো হওয়ায় জেলেরা গত দুদিনে প্রচুর মাছ পেয়েছেন। এ বছর দশ হাজারেরও বেশি জেলে দুবলারচর অঞ্চলে এসেছেন। জেলেদের মধ্যে জলদস্যু আতংক রয়েছে। জলদস্যু নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নেওয়ার ফিসারমেন গ্রুপের পক্ষ থেকে কোস্টগার্ড, র‌্যাব ও পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করে এসেছেন বলে দুবলা ফিসারমেন গ্রুপের সভাপতি জানান। আলোরকোলের রামপাল জেলে সমিতির সভাপতি মোতাসিম ফরাজী মোবাইল ফোনে বলেন, মৌসুমের প্রথম দিনে আলোরকোলে এসে জেলেদের কেউ তাদের থাকার জন্য অস্থায়ী ঘর বানানোর কাজে ব্যস্ত হয়ে এবং কেউ সাগরে মাছ ধরতে নেমে পড়েছেন। গত দুই দিনে সাগরে জেলেরা প্রচুর মাছ পেয়ে বেজায় খুশী হয়েছেন। সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের জেলেপল্লী দুবলা টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেষ্ট রেঞ্জার মোঃ খলিলুর রহমান বলেন, সাগরে ঘুর্ণিঝড়ের প্রভাব কাটিয়ে জেলেরা শনিবার থেকে সাগরে মাছ ধরতে নেমে পড়েছেন। তারা মোটেই সময় নষ্ট করতে চাননা। গত দুই দিনে ধরা মাছ শুঁটকি করার জন্য তাদের বানানো মাচায় বিছিয়ে দিয়েছেন কেউ মাটিতে ত্রিপলের উপর মেলে দিয়েছেন। সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগ বাগেরহাটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মোঃ রেজাউল করীম চৌধুরী বলেন, দুবলার শুঁটকি পল্লীতে অস্থায়ী ঘর নির্মাণে জেলেদের দেশীয় প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সঙ্গে নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তাদের আবাস স্থল নির্মাণে সুন্দরবনের কোন গাছপালা ব্যবহার করতে পারবেনা। এ বছর জেলেদের থাকার জন্য ১০১৮টি অস্থায়ী ঘর, ৬৭টি ডিপো ও বিভিন্ন নিত্যপন্যের ১১৬টি দোকান ঘর তৈরীর অনুমতি দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে আলোরকোলে ১১০টি,মাঝেরকেল্লায় ২টি, নারিকেলবাড়ীয়ায় ২টি ও শেলারচরে ২টি দোকান বসবে। এ বছর দুবলারচর থেকে ৮ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে দুবলারচর থেকে ৭ কোটি ৩৭ লাখ ২২ হাজার ৪৯৩ টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছিলো। শুঁটকি আহরিত হয়েছিলো ৭৯ হাজার ৬০২.৭৬৬ কুইন্টাল । মাছ শিকারের আড়ালে কেউ যাতে সুন্দরবনের বন্যপ্রানী শিকারসহ কোনো গাছপালা কাটতে ও ব্যবহার করতে না পারে সে জন্য বনরক্ষীরা সার্বক্ষনিক নজরদারী চালাবে বলে ডিএফও জানিয়েছেন।

Ad for sale 100 x 870 Position (2)
Position (2)
Ad for sale 225 x 270 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 225 x 270 Position (4)
Position (4)