নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোরের বেনাপোল পোর্ট থানার কাগজপুকুর (উত্তরপাড়া) এলাকায় অষ্ট্রেলিয়া প্রবাসী মো: হযরত আলীর (৬৭) কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং তা না পেয়ে আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে প্রাণনাশের চেষ্টার মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে একদল সন্ত্রাসী ও দখলবাজ চক্রের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) প্রেসক্লাব যশোরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের পক্ষে এ লিখিত অভিযোগ করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ভুক্তভোগী হযরত আলী জানান, তিনি দীর্ঘদিন প্রবাসে অবস্থান শেষে কয়েক মাস পূর্বে অস্ট্রেলিয়া থেকে নিজ দেশে ফিরে নিজ বসতবাড়িতে নির্মাণকাজ শুরু করেন। কিন্তু স্থানীয় একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী ও সন্ত্রাসীরা তার ও ১ম সাক্ষীর কাছে অন্যায্যভাবে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছে। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় অভিযুক্তরা তাদের বসতবাড়ি নির্মাণকাজ বন্ধসহ জমিজমা দখলের হুমকি এবং প্রাণনাশের ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছিল। লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, গত ৬ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৮টার সময় বাড়ি নির্মাণকাজ চলাকালে আসামিরা পিস্তল, রামদা, বার্মিজ চাকুসহ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বাড়িতে অনাধিকার প্রবেশ করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ৩ নম্বর আসামি সদু পিস্তল দিয়ে হযরত আলীর মাথায় ঠেকিয়ে গুলি করতে উদ্যত হয়। ৭ নম্বর ইয়ানুর আসামী তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে শরীরের পেছনে বার্মিজ চাকু দিয়ে জখম করে । ৮ নম্বর আসামি মোস্তফা ল্যাটা খুন করার জন্য ধারালো চাকু দিয়ে কিডনি লক্ষ্য করে আঘাত করার চেষ্টা চালিয়ে লক্ষ ভ্রষ্ট হয়ে বাম উরুতে গুরুতর জখম করে। এছাড়া অন্যান্য আসামিরা লোহার রড দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি পেটায়। পরবর্তীতে ভুক্তভোগীর আত্মচিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। স্থানীয়দের সহায়তায় রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। তিনি ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চিকিৎসাধীন ছিলেন (রেজি: নং ৭১৬৭, ৭১৬৮)। সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগ করে আরও বলেন, ঘটনার পর থানায় মামলা দায়ের করতে গেলে কর্তৃপক্ষ তাদের আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেয়। কিন্তু বর্তমানেও অভিযুক্ত সন্ত্রাসীরা বিভিন্নভাবে তাদের প্রাণনাশের হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে চলেছে, যার কারণে পুরো পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। এ অবস্থায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী মো: হযরত আলী ও তার পরিবার। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন হয়রত আলীর শ্যালক আলমগীর হোসেন, ভাইপো রাশেদুল ইসলাম।