Ad for sale 100 x 870 Position (1)
Position (1)

নারী ফুটবল ফাইনালে সংঘর্ষ, যবিপ্রবির ৯ খেলোয়াড় আহত

এখন সময়: সোমবার, ১৯ অক্টোবর , ২০২৬, ১২:০২:০১ এম
নারী ফুটবল ফাইনালে সংঘর্ষ, যবিপ্রবির  ৯ খেলোয়াড় আহত

নিজস্ব প্রতিবেদক : জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) নারী ফুটবল দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে মারামারির ঘটনায় যবিপ্রবির নয়জন খেলোয়াড় আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে গালিগালাজ, মারধর ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ তুলে নিরাপত্তাহীনতার কারণে ম্যাচ বর্জন করেছে যবিপ্রবি দল। সংঘর্ষের একপর্যায়ে গাছের ডাল দিয়ে আঘাতের চেষ্টা এবং এক শিক্ষার্থীর রুপার চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও যবিপ্রবির মধ্যে ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে খেলা শুরুর কথা থাকলেও পরে সময় পরিবর্তন করে সকাল ১০টায় নির্ধারণ করা হয়। তবে ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয় বলে অভিযোগ করেছে যবিপ্রবি। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে খেলোয়াড়দের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। নিরাপত্তাহীনতার কারণে শেষ পর্যন্ত মাঠ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয় যবিপ্রবি নারী ফুটবল দল। ফাইনালের আগেই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দলের খেলোয়াড়দের যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল বলে জানা গেছে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দলে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অর্থের বিনিময়ে খেলা খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণ এবং তাঁদের কাগজপত্র নিয়ে আপত্তি তোলা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। যবিপ্রবির শরীরচর্চা শিক্ষা দপ্তরের সহকারী পরিচালক উজ্জ্বল চন্দ্র সূত্রধরের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাতে অনুষ্ঠিত সভায় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঠিক করে খেলা আয়োজনের সিদ্ধান্ত হলে তাঁরা ফাইনালে অংশ নিতে সম্মত হন। তবে অভিযোগগুলোর নিষ্পত্তি এবং খেলোয়াড়দের কাগজপত্র যাচাইয়ের বিষয়ে আয়োজকদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। যবিপ্রবির অভিযোগ, খেলা চলাকালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন খেলোয়াড় ও সমর্থক তাঁদের খেলোয়াড়দের উদ্দেশে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন। দ্বিতীয়ার্ধে একটি আক্রমণকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা আরও বাড়ে। যবিপ্রবির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলোয়াড় জ্যোৎস্না তাঁদের খেলোয়াড় ফারিয়ার গলা চেপে ধরেন। এর প্রতিবাদ করতে গেলে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। এ সময় জ্যোৎস্না যবিপ্রবির আরেক খেলোয়াড় সামিয়ার গলা ও দুই হাত চেপে ধরেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলোয়াড় ইলার বিরুদ্ধে এক খেলোয়াড়কে ঘুষি ও থাপ্পড় মারার অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া যবিপ্রবির অধিনায়ক সাদিয়াকে জ্যোৎস্না ও তাসলিমা মারধর করেন বলে দাবি করেছে বিশ্ববিদ্যালয়টির সংশ্লিষ্টরা। সংঘর্ষে যবিপ্রবির আরও কয়েকজন খেলোয়াড় আক্রান্ত হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির পক্ষ থেকে জানানো হয়, আঁখিকে মাটিতে ফেলে মারধর করা হলে তাঁর নখ ভেঙে যায়। সাগরিকাকে রাস্তায় ফেলে মারধর, শশিকে পেটে লাথি এবং অন্তিকাকে ঘুষি মারার অভিযোগও উঠেছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে। একই ঘটনায় ছোয়াকে রাস্তায় ফেলে মারধর করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে। এতে তাঁর হাত ও হাঁটুতে রক্ত জমাট বাঁধে বলে যবিপ্রবির সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। সংঘর্ষের একপর্যায়ে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেছে যবিপ্রবি। বিশ্ববিদ্যালয়টির দাবি, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলোয়াড় ইলা গাছের ডাল ভেঙে তাঁদের খেলোয়াড়দের মারতে উদ্যত হন। এ সময় বাধা দিতে গেলে যবিপ্রবির শিক্ষার্থী মারুফকে মারধর করা হয়। তাঁর গলায় থাকা রুপার চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এসব ঘটনার পর খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়ে যায় বলে জানিয়েছে যবিপ্রবির টিম ম্যানেজমেন্ট। ঘটনার বিষয়ে যবিপ্রবির শরীরচর্চা শিক্ষা দপ্তরের সহকারী পরিচালক উজ্জ্বল চন্দ্র সূত্রধর বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ফাইনাল ম্যাচ নিয়ে আগে থেকেই অভিযোগ ছিল। শুক্রবার রাতে অনুষ্ঠিত সভায় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঠিক করে খেলা আয়োজনের সিদ্ধান্ত হলে তাঁরা ফাইনালে অংশ নিতে সম্মতি জানান। কিন্তু খেলা শুরুর পর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলোয়াড় ও শিক্ষার্থীরা তাঁদের খেলোয়াড়দের গালিগালাজ করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। উজ্জ্বল চন্দ্র সূত্রধর জানান, বিষয়টি রেফারিকে জানাতে গেলে যবিপ্রবির খেলোয়াড় ছোয়াকে হলুদ ও লাল কার্ড দেখানো হয়। পরে ম্যাচ কমিশনারের কাছে প্রতিবাদ জানালে লাল কার্ড প্রত্যাহার করা হয় বলে দাবি করেন তিনি। দ্বিতীয়ার্ধে একটি আক্রমণের সময় গোলের সম্ভাবনা তৈরি হলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলরক্ষক বল ধরে মাটিতে পড়ে থাকেন। এ সময় প্রতিপক্ষের এক খেলোয়াড় পেছন থেকে তাঁদের খেলোয়াড়কে গলায় ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেন বলে তাঁর অভিযোগ। এর প্রতিবাদ জানাতে গেলে মারধর শুরু হয় বলে জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, মাঠের বাইরেও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আক্রমণাত্মক আচরণের মুখোমুখি হতে হয় তাঁদের। একপর্যায়ে এক নারী শিক্ষার্থী গাছের ডাল নিয়ে তাঁদের খেলোয়াড়দের মারতে উদ্যত হন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। উজ্জ্বল চন্দ্র সূত্রধরের ভাষ্য, যবিপ্রবি দল খেলা চালিয়ে যেতে চেয়েছিল। কিন্তু খেলোয়াড়দের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা এবং নিরাপত্তাহীনতার কারণে শেষ পর্যন্ত মাঠ ছাড়তে বাধ্য হয়। যবিপ্রবি নারী ফুটবল দলের টিম ম্যানেজার ও ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা ইয়াসমিন বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দল নিয়ে অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও আয়োজকদের আশ্বাসে তাঁরা মাঠে নেমেছিলেন। কিন্তু তাঁদের খেলোয়াড়দের বিভিন্নভাবে হেনস্তা ও মারধরের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। সংঘর্ষে যবিপ্রবির বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় আহত হয়েছেন এবং তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

Ad for sale 100 x 870 Position (2)
Position (2)
Ad for sale 225 x 270 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 225 x 270 Position (4)
Position (4)