নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোর সদর উপজেলার দেয়াড়া মডেল ইউনিয়নের চান্দুটিয়া গ্রামে চুরির অভিযোগে গণপিটুনিতে মিজানুর রহমান(৪০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মনিরুজ্জামান (৪২) নামে আরও একজন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া জীবন বাঁচাতে বুকভরা বাওড়ের পানিতে ঝাঁপ দিয়ে নিখোঁজ রয়েছেন বিল্লাল হোসেন (৪০)। শনিবার রাত ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। রোববার সকালে পুলিশ মিজানুরের মরদেহ উদ্ধার করে। নিখোঁজ বিল্লালকে উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল অভিযান চালায়। নিহত মিজানুর রহমান চৌগাছা উপজেলার পাশাপোল ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামের খাইরুল ইসলাম ওরফে গণেশের ছেলে। তিনি দুই মাস আগে মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফেরেন। তার দুই সন্তান রয়েছে রিম্পা (১৩) ও আলিফ (৭)। আহত মনিরুজ্জামান ঝিকরগাছা উপজেলার নাভারণ ইউনিয়নের চান্দের মোড় এলাকার জালাল উদ্দিনের ছেলে। তিনি যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। নিখোঁজ বিল্লাল হোসেন মাগুরার শালিখা উপজেলার বাসিন্দা। স্থানীয় আনিসুর রহমান জানান, নারাঙ্গালী গ্রাম থেকে স্যালোমেশিনচালিত একটি আলমসাধু চুরি করে নিয়ে যাওয়ার সময় বিষয়টি চান্দুটিয়া গ্রামের বাসিন্দাদের জানানো হয়। খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন ধাওয়া করে তিনজনকে আটকানোর চেষ্টা করেন। এ সময় দুজনকে ধরে গণপিটুনি দেওয়া হয়। এতে মিজানুর নিহত ও মনিরুজ্জামান আহত হন। অন্যদিকে, জীবন বাঁচাতে বিল্লাল বাওড়ের পানিতে ঝাঁপ দিলে তিনি নিখোঁজ হন। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল সন্ধ্যা পর্যন্ত অভিযান চালিয়েও তাঁর সন্ধান পায়নি। নিহত মিজানুরের শ্বশুর ঝিকরগাছা উপজেলার গঙ্গানন্দপুর গ্রামের আবু বক্কার জানান, মিজানুর তিন বছরের বেশি সময় ধরে মালয়েশিয়ায় ছিলেন। প্রায় দুই মাস আগে তিনি দেশে ফেরেন। অসৎ সঙ্গের কারণে তিনি আলমসাধু চুরির ঘটনায় জড়িয়ে পড়েন বলে দাবি করেন তাঁর শ্বশুর। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মনিরুজ্জামান জানান, তারা বাড়ির সামনে রাখা একটি আলমসাধু চুরি করে নিয়ে যাচ্ছিলেন। চান্দুটিয়া গ্রামের লোকজন বিষয়টি টের পেয়ে তাঁদের তিনজনকে ধাওয়া করেন। এ সময় দুজনকে ধরে পিটুনি দেওয়া হলে মিজানুর মারা যান এবং তিনি আহত হন। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তাদের পরস্পরের পরিচয় হয়েছিল বলে জানান তিনি। হাসপাতালে দায়িত্বরত পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) অমৃত লাল জানান, রোববার দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে মিজানুরের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) কাজী বাবুল হোসেন জানান, নিখোঁজ বিল্লালকে উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল অভিযান চালালেও তাঁর সন্ধান পাওয়া যায়নি। গণপিটুনিতে মিজানুর রহমানের মৃত্যুর ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।