যবিপ্রবি প্রতিনিধি : যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) বীর প্রতীক তারামন বিবি হলের আয়োজনে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা ও আনন্দমুখর পরিবেশে তিন দিনব্যাপী ‘অন্তঃহল বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ২০২৬’ শুরু হয়েছে। সোমবার (০৫ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬ টায় বীর প্রতীক তারামন বিবি হলে “তারাদের ক্রীড়ানন্দন” শীর্ষক নামে এই ক্রীড়া প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ‘অন্তঃহল বার্ষিক ক্রীড়া সপ্তাহ ২০২৬’-এর উদ্বোধন ঘোষণা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যবিপ্রবির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শেখ মাহমুদুল হাসান কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফারুক হাসান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বীর প্রতীক তারামান বিবি হলের প্রভোস্ট ড. ফারহানা ইয়াসমিন। উদ্বোধনীর আগে হলের জিমনেসিয়াম ও শিক্ষার্থীদের অংকিত “জুলাইয়ের ক্যানভাস” নামক দেয়াল পত্রিকা উদ্বোধন করা হয়। এছাড়াও হলের শিক্ষার্থীদের জন্য চা চক্র আয়োজন করে হল প্রশাসন। এবারের ‘অন্তঃহল বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ২০২৬’-এ বীর প্রতীক তারামন বিবি হলের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ক্যারম, দাবা, বাস্কেট বল নিক্ষেপ, টেবিল টেনিস, লুডু ও ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর বলেন, “লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে নিজেদের দক্ষ করে তুলতে হবে। আমাদের কাজ সুযোগ-সুবিধা তৈরি করে দেওয়া, তবে নিজেদের গড়ে তোলার দায়িত্ব শিক্ষার্থীদের নিজেদেরই। হলে থাকার পরিবেশ ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি পারস্পরিক সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে। এই হল ও বিশ্ববিদ্যালয়কে নিজেদের মনে করে দায়িত্বশীল নাগরিকের পরিচয় দিতে হবে।” বিশেষ অতিথির বক্তব্যে যবিপ্রবির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শেখ মাহমুদুল হাসান বলেন, “বীর প্রতীক তারামন বিবি মুক্তিযুদ্ধের এক অনন্য ও সংগ্রামী ইতিহাস, যা আমাদের জন্য চরম গৌরবের। তার নামে নামাঙ্কিত এই হলের শিক্ষার্থীরাও নিজেদের দক্ষতা, পেশাগত জ্ঞান ও মানবিক গুণাবলী দিয়ে দেশকে গৌরবান্বিত করবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে ছাত্রদের পাশাপাশি ছাত্রীদেরও সমান ও বীরত্বপূর্ণ অংশগ্রহণ ছিল। সেই অর্জনের ধারাবাহিকতায় নতুন বাংলাদেশ গড়তে হলে নিজেদের আগে সৎ ও আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।” বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফারুক হাসান বলেন, শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার এবং একাডেমিক ও কো-কারিকুলার কার্যক্রমের সার্বিক উন্নয়নে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সবসময় পাশে রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্জিত স্বাধীনতাকে কোনোভাবেই স্বেচ্ছাচারিতায় রুপ নিতে দেওয়া যাবে না; বরং নিজেদের বিবেক ও দায়বদ্ধতার জায়গায় অটল থাকতে হবে। যাবতীয় নেতিবাচকতা পেছনে ফেলে ইতিবাচক দিকগুলো লালন করতে হবে। নিজেদের স্বচ্ছতা ও সততার মাধ্যমে আমাদের ছাত্রীরা একদিন দেশ ও বিশ্বমঞ্চে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।”