নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটিতে হামলা ও মারধরের ঘটনায় থানায় করা অভিযোগ তুলে নিতে বাদীপক্ষকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন অভিযোগকারী শাহিদা আক্তার সিমা ও তার পরিবারের সদস্যরা। শাহিদার স্বামী আসাদুল ইসলাম দাবি করেছেন, থানায় অভিযোগ দেওয়ার পর থেকেই হামলাকারীরা আরও ক্ষুব্ধ হয়ে তাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছে। অভিযোগে বলা হয়, মাদক সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে শাহিদার পরিবারের সঙ্গে অভিযুক্তদের বিরোধের সূত্রপাত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৩০ সেপ্টেম্বর দুপুর আড়াইটার দিকে চুড়ামনকাটি কলোনী পাড়ায় নিজ বাড়িতে একা ছিলেন শাহিদা। এ সময় প্রতিবেশী চিহ্নিত মাদকসেবী আব্দুল খালেক, ইন্তাক ও মোশারেকসহ অজ্ঞাত আরও ২-৩ জন সেখানে গিয়ে শাহিদাকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন। এ সময় আব্দুল খালেকের নির্দেশে ইন্তাক তাকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মেরে আহত করেন। একপর্যায়ে তার পরনের কাপড় টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। পরে শাহিদার স্বামী আসাদুল ইসলাম খবর পেয়ে বাড়িতে গেলে তার ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে বুকের বাম পাশে ও বাম হাতের বাহুতে আঘাত করে জখম করেন বলে অভিযোগ করেন শাহিদা। পরে তাকে মারধর ও গলা চেপে ধরারও অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, এর আগে হামলাকারীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে শাহিদার বড় ভাইকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে জখম করা হয়েছিল। থানায় অভিযোগ দেওয়ার পর থেকে অভিযুক্তরা আরও ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন বলে দাবি করেছেন বাদীপক্ষ। এলাকার কতিপয় প্রভাবশালীদের পক্ষে নিয়ে অভিযোগ তুলে নিতে তাদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন আসাদুল ইসলাম। এতে পরিবারের সদস্যরা আতঙ্ক ও চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান তিনি। চুড়ামনকাটির সাজিয়ালী পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুর রউফ বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে সরেজমিন তদন্ত করেছেন। বাদীপক্ষকে হুমকি দেওয়ার বিষয়টি সত্য হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।