মনিরুল ইসলাম মনি, সাতক্ষীরা : সাতক্ষীরায় শুরু হয়েছে ৩৫০ বছরের ঐতিহ্যবাহী গুড়পুকুরের মেলা। দেড় শতাধিক স্টল নিয়ে মেলা প্রাঙ্গন শহরের শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্ক সেজেসে বর্নিল সাজে। বিভিন্ন পরসা সাজিয়ে বসেছে দোকানিরা। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের আয়োজনে দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে আনুষ্ঠানিকভাবে ফিতা কেটে ও ফেস্টুন উড়িয়ে এ মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মিজ্ কাউসার আজিজ। এ সময় অনান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ সুপার আবু সালেহ মোঃ আশরাফুল আলম, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রিপন বিশ্বাস, সাতক্ষীরা পৌরসভার সিইও মোঃ আসাদুজ্জামান, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার অর্ণব দত্ত, সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির আহবায়ক এইচএম রহমতুল্লাহ পলাশ, সদস্য সচিব আবু জাহিদ ডাবলু, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি জি এম মনিরুল ইসলাম মিনি প্রমুখ। উদ্বোধন শেষে অতিথিবৃন্দ মেলা প্রাঙ্গন ও বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন। এবারের মেলায় সাতক্ষীরা শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কের পুরো জায়গা জুড়ে দেড় শতাধিক মনোহরি পণ্যের স্টল, লৌহজাতদ্রব্য, বাঁশ ও বেতের দোকান, নাগরদোলা, রেলগাড়ি, নৌকাসহ শিশু বাচ্চাদের খেলার বিভিন্ন রাইটস্ ও বিভিন্ন প্রকার পোষা ও কাপড় এবং মিষ্টির দোকান। প্রাথমিক পর্যায়ে মেলা চলবে ২০ দিন ব্যাপী। গুড়পুকুরের মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের সাথে সাথে দুর দুরান্ত ও গ্রাম-গঞ্জ থেকে আসা দর্শনার্থীদের ভীড় বাড়তে থাকে। প্রথম দিনেই নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে বয়োবৃদ্বসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেষার মানুষের পদচারনায় মেলা প্রাঙ্গন মূখরিত হয়ে উঠে। এদিকে চাঁদাবাজি ও জুঁয়া বন্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগেই নেয়া হয়েছে কঠোর ব্যবস্থা। গুড়পুকুরের মেলাকে কেন্দ্র করে গোটা সাতক্ষীরা থাকবে নিরাপত্তার চাঁদরে মোড়ানো। এছাড়া সিসি ক্যামেরায় সার্বক্ষনিক তদারকির ব্যবস্থা করেছে মেলা কর্তৃপক্ষ । প্রসঙ্গত, ২০০২ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর মেলা চলাকালীন সার্কাস প্যান্ডেলে এবং সাতক্ষীরা রকসি সিনেমা হলে দুর্বৃত্তরা বোমা হামলা চালায়। বোমা হামলায় তিন জন নিহত হয়। আহত হয় অর্ধশতাধিক। এরপর থেকে মেলা হারিয়ে ফেলে তার ঐতিহ্য। দীর্ঘদিন পর এ মেলা অনুষ্ঠিত হওয়ায় বিভিন্ন স্থান থেকে আসা মেলার ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মাঝে আনন্দ ও উচ্ছাস লক্ষ্য করা গেছে।