Ad for sale 100 x 870 Position (1)
Position (1)

নিবন্ধনহীন হাসপাতালে চিকিৎসা বাণিজ্যে জিম্মি সাতক্ষীরা

এখন সময়: শনিবার, ৩ অক্টোবর , ২০২৬, ০৪:২০:১২ পিএম
নিবন্ধনহীন হাসপাতালে চিকিৎসা  বাণিজ্যে জিম্মি সাতক্ষীরা

মনিরুল ইসলাম মনি, সাতক্ষীরা : সাতক্ষীরায় ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। সরকারি নিয়ম-নীতি তোয়াক্কা না করে, প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ও দক্ষ জনবল ছাড়াই বছরের পর বছর চলছে এসব প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসা ব্যবসা। ফলে ভুল চিকিৎসা ও চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ রোগীরা। সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন অফিসের তথ্যমতে, সাতক্ষীরার ৭টি উপজেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে ২৫০টিরও বেশি বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিচালিত হচ্ছে। মোট ২০০-২০৬টি নিবন্ধিত তালিকার মধ্যে অর্ধেকেরও কম প্রতিষ্ঠানের চলতি অর্থবছরের লাইসেন্স নবায়ন রয়েছে। এরমধ্যে প্রায় অর্ধশতাধিক প্রতিষ্ঠান কোনো প্রকার লাইসেন্স ছাড়াই সম্পূর্ণ অবৈধভাবে চলছে। বাকি অনেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনলাইনে শুধু ‘আবেদন জমা’ দেওয়ার স্লিপ টানিয়ে রেখে বছরের পর বছর হাসপাতাল পরিচালনা করে আসছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী একটি ক্লিনিকের ক্ষেত্রে একটি ১০-বেডের বেসরকারি ক্লিনিকের জন্য সার্বক্ষণিক বা ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসা সেবার জন্য অন্তত ৩ জন নিবন্ধিত (ইগউঈ) এমবিবিএস (গইইঝ) ডাক্তার বা মেডিকেল অফিসার থাকতে হবে। সার্বক্ষণিক শিফটিং ডিউটির জন্য অন্তত ৬ জন নিবন্ধিত ডিপ্লোমা নার্স নিয়োজিত থাকা আবশ্যক। প্রয়োজনীয় অনুপাত অনুযায়ী (আয়া কিংবা ওয়ার্ডবয়) পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও সুইপার থাকতে হবে। এছাড়া প্রতি বেডের জন্য নূন্যতম ৮০-১০০ বর্গফুট জায়গা, মানসম্মত ও জীবাণুমুক্ত অপারেশন থিয়েটার, লেবার রুম এবং পৃথক পুরুষ-মহিলা ওয়ার্ড থাকতে হবে। সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য ব্যাকআপ জেনারেটর, মানসম্মত অটোক্লেভ মেশিন, অক্সিজেন সিলিন্ডার এবং জরুরি ওষুধপত্র রাখতে হবে। একই সাথে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র, ফায়ার সার্ভিস লাইসেন্স এবং পারমাণবিক শক্তি কমিশনের (এক্স-রে মেশিনের ক্ষেত্রে) অনুমোদনপত্র থাকতে হবে। খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে সাতক্ষীরার বেশিরভাগ ক্লিনিকে সরকারি নির্দেশনার ছিটেফোঁটাও নেই। ২৪ ঘণ্টার জন্য কোনো স্থায়ী মেডিকেল অফিসার পাওয়া যায় না। অদক্ষ তরুণ-তরুণীদের ‘নার্স’ বানিয়ে ডিউটিতে রাখা হয়েছে, যারা ভুল ইনজেকশন দেওয়া বা ভুল স্যালাইন পুশ করার মতো কাজ অহরহ ঘটছে। এদিকে খোদ সাতক্ষীরা সরকারি সদর হাসপাতালে সামনেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়ম-নীতি না মেনেই ব্যাঙের ছাতার মত গড়ে উঠেছে বুশরা হাসপাতাল, হার্ট ফাউন্ডেশন, ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক এন্ড সিটি স্ক্যান সেন্টার, সাতক্ষীরা ডায়াগনস্টিক সেন্টার, সুন্দরবন ক্লিনিক, সাতক্ষীরা নিউ লাইফ হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, বিলিস হসপিটাল, একতা হাসপাতাল, বিসমিল্লাহ ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার, সাতক্ষীরা সিটি হসপিটাল, ট্রমা সেন্টার, স্পন্দন হাসপাতাল, সাতক্ষীরা গ্রীন লাইন হসপিটালসহ ১৫ থেকে ২০টি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। যাদের অধিকাংশই কাগজপত্র নবায়ন নেই। এসব ক্লিনিক ও হাসপাতালে অধিকাংশ সময় ২৪ ঘন্টা কোন মেডিকেল অফিসার বা বিশেষজ্ঞ ডাক্তার না থাকলেও রয়েছে অন-কল চিকিৎসক নির্ভরতা। যখনি কোন অস্ত্রোপচারের(অপারেশন) দরকার হয় বাইক বা গাড়িতে করে বাইরে থেকে চুক্তিভিত্তিক খন্ডকালীন ডাক্তার এনে তড়িঘড়ি করে সিজার বা অপারেশন করিয়ে আবার ফেলে রেখে যাওয়া হয়। এছাড়া এ সমস্ত বেসরকারি ক্লিনিক হাসপাতালের কর্মী হিসাবে নিয়োজিত রয়েছে অসংখ্য দালাল। যারা প্রতিনিয়ত সাতক্ষীরা সরকারি সদর হাসপাতাল এমনকি সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকেও রোগী ভাগিয়ে এসব ক্লিনিকে নিয়ে এসে চিকিৎসা করছেন। পক্ষান্তরে রোগীদের পকেট থেকে হাতিয়ে নিচ্ছেন মোটা অংকের টাকা। অনেকে এসব ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে গিয়ে অপচিকিৎসার শিকার হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। রেজিস্ট্রেশন বিহীন ও অনবায়নকৃত ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার এর বিরুদ্ধে তেমন কোন ব্যবস্থা নিতে দেখা যায় না সাতক্ষীরা সিভিল সার্জনকে। অনেকের অভিযোগ এসব অবৈধ ক্লিনিক মালিক অথবা সাতক্ষীরা জেলা প্রাইভেট হাসপাতাল ক্লিনিক ডায়াগনস্টিক এন্ড ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতাদের সাথে রয়েছে সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন অফিসের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জোগসাজোস। অবৈধ সুযোগ সুবিধার কারণে তেমন কোন অভিযান পরিচালিত হয় না সাতক্ষীরার অবৈধ ক্লিনিক গুলোতে। মাঝেমধ্যে নামসর্বস্ব দুই একটি অভিযান পরিচালিত হলেও তা আবার দুই একদিনের মধ্যেই শিথিল হয়ে পড়ে। পার পেয়ে যান অবৈধ ক্লিনিক মালিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। এছাড়া জেলাজুড়ে ডেন্টাল ক্লিনিকগুলোতে আসল বিডিএস (ইউঝ) চিকিৎসকের দেখা মেলে না। টেকনিশিয়ান ও অভিজ্ঞতা ছাড়া ভুয়া ডাক্তার দিয়ে জটিল সব অস্ত্রোপচার চালানো হচ্ছে। এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশে জেলা প্রশাসন ও সিভিল সার্জন কার্যালয় কর্তৃক অনিয়মের দায়ে সোনালী ডায়াগনস্টিক সেন্টার,?সাতক্ষীরা সার্জিক্যাল ক্লিনিক, পাটকেলঘাটা লোকনাথ ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, পপুলার ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার সহ বিভিন্ন সময়ে মোট ১০টি অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে রাজনৈতিক ও সাতক্ষীরা জেলা প্রাইভেট হাসপাতাল ক্লিনিক ডায়াগনস্টিক এন্ড ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতাদের সুপারি ও তদবিরে আবারো ওই সকল অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কার্যক্রম খুলে দেওয়া হয়। তবে ভুক্তভোগীদের মতে, কেবল ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানা করে এ সংকট মেটানো সম্ভব নয়। অভিযান শেষ হলেই আবারও পুরোনো চেহারায় ফিরে আসে এসব প্রতিষ্ঠান। জনস্বার্থ রক্ষায় স্থায়ী টাস্কফোর্স গঠন করে নিবন্ধনহীন ক্লিনিক স্থায়ীভাবে বন্ধ ও ভুয়া ডাক্তারদের বিরুদ্ধে েৌজদারি মামলা করার জোর দাবি জানিয়েছেন সাতক্ষীরাবাসী। সাতক্ষীরার সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ আব্দুস সালাম বলেন, জেলার ৭টি উপজেলায় মোট দুই শতাধিক ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। অধিকাংশ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সৈন্টারে কাগজপত্র নবায়নের জন্য বারবার নোটিশ করা হয়েছে। এর আগে বিভিন্ন সময়ে অভিযান পরিচালনা করে ১০টি অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ ঘোষণা করা হয়। নতুন অর্থবছরে ক্লিনিক গুলোর হাল লাগাদের কাজ চলমান রয়েছে। নতুন অর্থবছর শুরু হয়েছে। অধিদপ্তর থেকে হালনাগাদ কাজ চলছে। শহরের চার থেকে পাঁচটি হালনাগাদ করেছেন। যারা এখনো হালনাগাদ করতে পারেননি অচিরে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Ad for sale 100 x 870 Position (2)
Position (2)
Ad for sale 225 x 270 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 225 x 270 Position (4)
Position (4)