আশাশুনি প্রতিনিধি : সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একটি টেলিকম ও বৈদ্যুতিক মালামালের দোকান সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়েছে। এতে দোকানে থাকা প্রায় ৬ লাখ ১০ হাজার টাকার মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। একই সঙ্গে খরিদদারদের কাছে পাওনা প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার টাকার বকেয়া হিসাবের খাতাও পুড়ে গেছে বলে দাবি করেছেন দোকান মালিক। অগ্নিকাণ্ডটি শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে প্রতাপনগর বিট হাউজ মোড়ে ঘটে। এ ঘটনায় দোকান মালিক মারুফ বাল্লাহ, প্রতাপনগর ৫ নম্বর ওয়ার্ড শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি নূরুল ইসলাম মোড়লের ছেলে, আশাশুনি থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ২০-২৫ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, প্রতাপনগর বিট হাউজ মোড়ে মারুফ বাল্লাহর টেলিকম ও বৈদ্যুতিক মালামালের দোকান রয়েছে। দোকানে প্রায় ৬ লাখ ১০ হাজার টাকার মালামাল মজুত ছিল। তার ছোট ভাই মাহবুবুল্লাহ মাঝে মধ্যে দোকানটি পরিচালনা করেন। অভিযোগে বলা হয়, গত ১৮ সেপ্টেম্বর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিকাশে টাকা লেনদেনকে কেন্দ্র করে দ্বিতীয় অভিযুক্তের সঙ্গে মাহবুবুল্লাহর কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তাকে দোকান থেকে টেনে বাইরে নিয়ে মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া এবং দোকান পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে গেলে অভিযুক্তরা মাহবুবুল্লাহকে মারধর ও গুরুতর ক্ষতির হুমকি দিয়ে চলে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরদিন ১৯ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ৯টা ১৫ মিনিটে দোকান বন্ধ করে মাহবুবুল্লাহ বাড়িতে চলে যান। রাত দেড়টার দিকে গ্রামের লিয়াকত আলী মোবাইল ফোনে দোকানে আগুন লাগার খবর দেন। খবর পেয়ে মাহবুবুল্লাহ, তার বাবা-মা ও স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে পানি দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। তবে ততক্ষণে আগুনের ভয়াবহতায় পুরো দোকানটি পুড়ে যায়। দোকান মালিকের দাবি, অগ্নিকাণ্ডে দোকানের প্রায় ৬ লাখ ১০ হাজার টাকার মালামাল পুড়ে গেছে। এছাড়া ক্রেতাদের কাছে পাওনা প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার টাকার বকেয়া হিসাবের খাতাও আগুনে পুড়ে যাওয়ায় আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ আরও বেড়েছে। খবর পেয়ে আশাশুনি থানার এসআই নাসির উদ্দীন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ বিষয়ে আশাশুনি থানার অফিসার ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আরিফ বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”