নিজস্ব প্রতিবেদক : কেশবপুরে প্রবাসী ভাইয়ের পাঠানো ১২ লাখ টাকা আত্মসাতের মামলায় ছোট ভাই শওকত হোসেনকে আলাদা ধারায় আড়াই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন যশোরের একটি আদালত। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১ম আদালতের বিচারক সুমনা পাল এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত শওকত হোসেন বর্তমানে কারাগারে আটক রয়েছেন। মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, কেশবপুর উপজেলার বেগমপুর গ্রামের মৃত দেরাজতুল্যা মোড়লের ছেলে আলী হুসাইন ২০০০ সাল থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত প্রায় সাত বছর সৌদি আরবে ছিলেন। এ সময় তিনি জমি কেনার জন্য বিভিন্ন মেয়াদে তার ভাই শওকত হোসেনের সোনালী ব্যাংক ত্রিমোহিনী শাখার ২০৯৮ নম্বর হিসাবে ১২ লাখ টাকা পাঠান। ওই টাকা দিয়ে তার নামে জমি কেনার কথা থাকলেও দেশে ফিরে তিনি জানতে পারেন, জমিগুলো শওকত নিজের নামে কিনেছেন। পাওনা টাকা ফেরত চাইলে শওকত নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। পরে ২০২১ সালের ২৫ জুন বাদী ও সাক্ষীদের উপস্থিতিতে একটি অঙ্গীকারনামা সম্পাদন করা হয়। এতে শওকত তার ভাই আলী হুসাইনকে ১২ লাখ টাকা এবং যৌথ বিমার ৮৩ হাজার ৩৩৩ টাকাসহ মোট ১২ লাখ ৮৩ হাজার ৩৩৩ টাকা পরিশোধের অঙ্গীকার করেন। অঙ্গীকারনামা সম্পাদনের ছয় মাসের মধ্যে টাকা পরিশোধের কথা থাকলেও টাকা দেননি আসামি শওকত। পরবর্তী সময়ে পাওনা টাকা চাইলে শওকত তা দিতে অস্বীকার করেন এবং তার ভাইকে জীবননাশের হুমকি দেন। টাকা আদায়ে ব্যর্থ হয়ে প্রতারণার অভিযোগে শওকতকে আসামি করে আদালতে মামলা করেন। দীর্ঘ সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আসামি শওকতের বিরুদ্ধে ৪০৬ ধারায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ১ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ১ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে কারাদণ্ড এবং ৪২০ ধারার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় দেড় বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও তিন হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে ২ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন বিচারক। শওকত আলী কারাগারে আটক আছেন।