খাজুরা (যশোর) প্রতিনিধি : ছবিটা ১৯৯০ সালের। মাথাভর্তি ঝাঁকড়া চুল আর ঢিলেঢালা পোশাকে তারুণ্যের দীপ্ততে আলোকিত—সবদুল হোসেন খানের আজকের বন্দবিলা ইউপি চেয়ারম্যান হওয়ার পথটা মোটেও মসৃণ ছিল না। নব্বইয়ের দশকে যশোর সরকারি এমএম কলেজ থেকে বামধারার ছাত্র রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন সবদুল। তখন বাঙলা সিনেমার সোনালী সময়। ১৯৯৮ সালে ঢাকায় স্নাতক অধ্যায়নকালে ‘ব্ল্যাক ডায়মন্ড’ নামের একটি সিনেমায় প্রধান চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ হয় সবদুলের। নানা জটিলতায় সিনেমাটি শেষ পর্যন্ত আলোর মুখ না দেখলেও এলাকায় তাকে ঘিরে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। সিনেমার সেই অধ্যায় পেরিয়ে ২০০৩ সালে নিজ এলাকায় ফিরে ওয়ার্কাস পার্টির রাজনীতিতে পুরোপুরি সক্রিয় হন সবদুল। পাশাপাশি সমাজসেবার পরিধি বাড়িয়ে হাঁটিহাঁটি পায়ে পৌঁছে যান সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায়। নানা ঘাত-প্রতিঘাত মোকাবিলা করে হাসিমুখে এগিয়ে যেতে থাকেন সাফল্যের দিকে। বন্দবিলায় ইউপি চেয়ারম্যান পদে পরপর দুইবার নির্বাচনে পরাজিত হলেও হাল ছাড়েননি সবদুল। অবশেষে ২০১৬ সালের নির্বাচনে পাঁচবারের নির্বাচিত বিএনপির জনপ্রিয় ইউপি চেয়ারম্যান (কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে নৌকা প্রতীকে মনোনীত হন) এম শওকত হোসেন মণ্ডলকে পরাজিত করে বন্দবিলার মসনদে বসেন তিনি। এরপর ২০২১ সালের নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মনিরুজ্জামান তপনকে হারিয়ে ওয়ার্কার্স পার্টির হাতুড়ি প্রতীকে দ্বিতীয়বারের মতো ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন সবদুল। সিনেমার পর্দায় পা রাখার স্বপ্ন, আর মানুষের পাশে থেকে রাজনীতির মাঠে তার দীর্ঘ পথচলার গল্পটা তাই বন্দবিলার রাজনীতিতে এক ব্যতিক্রমী অধ্যায়। সবদুল হোসেন খান যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার বন্দবিলা ইউনিয়নের পাঠান পাইকপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবা প্রয়াত আব্দুল কাদের খান। পাঁচ সন্তানের মধ্যে সবদুল সেজ। বর্তমানে জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তৃতীয়বার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে হ্যাটট্রিক করতে চান সবদুল।