বিএম আলাউদ্দিন, আশাশুনি : সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বড়দল ইউনিয়নের গোয়ালডাঙ্গা বাজারসংলগ্ন মরিচ্চাপ নদীতে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙন অব্যাহত থাকায় শত বছরের পুরোনো গোয়ালডাঙ্গা বাজারের একটি বড় অংশ, জামে মসজিদ, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও শত শত পরিবারের বসতভিটা হুমকির মুখে পড়েছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের শুরুতে মরিচ্চাপ নদী খননের কাজ শুরু হয়। এ সময় নদীর মুখ প্রায় ২০০ ফুট প্রশস্ত করা হয়। খননের সময় বাজারের জায়গা সংকুচিত হওয়ার বিষয়ে এলাকাবাসী আপত্তি জানালেও তা উপেক্ষা করা হয় বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। ওই বছরের ডিসেম্বরে খননকাজ শেষ হওয়ার পর কিছুটা সুফল মিললেও গোয়ালডাঙ্গা বাজার এলাকায় নদীর স্রোতের তীব্রতায় পাড়ভাঙন শুরু হয়। স্থানীয়দের দাবি, ভাঙন নিয়ে বিভিন্ন সময়ে সংবাদপত্র, টেলিভিশন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর জেলা প্রশাসক, সংসদ সদস্য ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা এলাকা পরিদর্শন করেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েক দফা আশ্বাসের পর অস্থায়ীভাবে বালুভর্তি বস্তা ফেলা হলেও তা ভাঙন ঠেকাতে কার্যকর হয়নি। পাইলিং করে বস্তা ফেলার কথা থাকলেও কাজটি যথাযথভাবে না হওয়ায় পানির স্রোতে বস্তার নিচের মাটি সরে গেছে। এতে বালুভর্তি বস্তাগুলো কয়েক হাত নিচে দেবে গিয়ে নতুন করে ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। ভাঙন প্রতিরোধে জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি স্থায়ী বাঁধ সংস্কার ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। অন্যথায় বাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও বিপুল পরিমাণ সম্পদ নদীগর্ভে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য প্রার্থী এসএম শরিফুল ইসলাম শরিফ বলেন, কয়েক দিন ধরে মরিচ্চাপ নদীর ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ভাঙতে ভাঙতে নদী এখন লোকালয়ের একেবারে কাছে চলে এসেছে। গোয়ালডাঙ্গা বাজার, জামে মসজিদ ও চাদনী সেট এলাকা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। তিনি জানান, ইতোমধ্যে প্রতিবন্ধী শহিদুল গাজী ও রফিকুল সরদারের বসতঘর ভাঙনের মুখে পড়েছে। বেশ কিছু গাছপালাও নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বাজার, মসজিদ, অটোমিল, স-মিলসহ বসতবাড়ি নদীতে ধসে পড়তে পারে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা জানান, গোয়ালডাঙ্গা বাজার তাদের জীবিকা নির্বাহের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। অন্যদিকে জামে মসজিদটি স্থানীয়দের ধর্মীয় ও সামাজিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। তারা দ্রুত জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের পাশাপাশি স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। উপজেলা জিয়া পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক শরিফুজ্জামান মুকুল শিকারী বলেন, নদীভাঙন দ্রুত বন্ধ করা না গেলে বড় ধরনের মানবিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান। আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শ্যামানন্দ কুন্ডু বলেন, গোয়ালডাঙ্গা বাজারসংলগ্ন বাঁধ ভাঙনের স্থান আমি পরিদর্শন করেছি। সংসদ সদস্যও এলাকা পরিদর্শন করেছেন এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীকে ব্যবস্থা নিতে বলেছেন। বিষয়টি আমি আবারও খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করব।